মাদ্রিদের রাজপথে বিশ্বকাপ জয়ের উৎসবে মেতেছে স্পেন, আর শিরোপা হারানোর হতাশা নিয়ে নতুন করে পথচলার প্রস্তুতি নিচ্ছে আর্জেন্টিনা। এর মধ্য দিয়েই আনুষ্ঠানিকভাবে পর্দা নেমেছে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপের।
বিশ্ব ফুটবলের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এই আসর অনুষ্ঠিত হয়েছে তিনটি স্বাগতিক দেশে। ১৬টি ভেন্যুতে ৩৯ দিনে হয়েছে ১০৪টি ম্যাচ। ৪৮টি দেশের ১ হাজার ৩৯ জন ফুটবলার অংশ নিয়েছেন এই আসরে। পুরো টুর্নামেন্টে হয়েছে ৩০৮টি গোল।
আয়োজনের ব্যাপকতা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি বিভিন্ন পরিসংখ্যানেও ছাড়িয়ে গেছে ২০২২ সালের বিশ্বকাপকে। খেলোয়াড়দের সামর্থ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন উচ্চতাও ফুটে উঠেছে এবারের আসরে।
সর্বোচ্চ গোল ও গোলে সহায়তা
ফ্রান্সের তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পে ১০ গোল করে দ্বিতীয়বারের মতো সর্বোচ্চ গোলদাতার পুরস্কার জিতেছেন। ১৯৭০ সালের পর প্রথম ফুটবলার হিসেবে একাধিক বিশ্বকাপে এই কীর্তি গড়লেন তিনি। এবার ৮ গোল করে দ্বিতীয় স্থানে শেষ করেছেন আর্জেন্টিনার লিওনেল মেসি।
২৭ বছর বয়সী এমবাপ্পে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতাও হয়েছেন। তার মোট গোল এখন ২২টি। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের জুড বেলিংহাম ৭ গোল করে বিশ্বকাপে এক আসরে সবচেয়ে বেশি গোল করা ইংলিশ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন।
সর্বোচ্চ গোলদাতারা:
কিলিয়ান এমবাপ্পে (ফ্রান্স): ১০ গোল, ৪ গোলে সহায়তা
লিওনেল মেসি (আর্জেন্টিনা): ৮ গোল, ৪ গোলে সহায়তা
জুড বেলিংহাম (ইংল্যান্ড): ৭ গোল, ১ গোলে সহায়তা
আরলিং হলান্ড (নরওয়ে): ৭ গোল
উসমান দেম্বেলে (ফ্রান্স): ৬ গোল, ২ গোলে সহায়তা
হ্যারি কেইন (ইংল্যান্ড): ৬ গোল, ২ গোলে সহায়তা
মিকেল ওইয়ারসাবাল (স্পেন): ৫ গোল, ১ গোলে সহায়তা
ইসমাইলা সার (সেনেগাল): ৪ গোল, ১ গোলে সহায়তা
হুলিয়ান কিনিওনেস (মেক্সিকো): ৪ গোল, ১ গোলে সহায়তা
ভিনিসিয়ুস জুনিয়র (ব্রাজিল): ৪ গোল, ১ গোলে সহায়তা
গোলে সহায়তার তালিকাতেও সবার ওপরে ফ্রান্স। তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে সপ্তম সহায়তা করে শীর্ষে উঠেছেন মিচেল ওলিসে। চারটি করে গোলে সহায়তা করেছেন মার্টিন ওদেগাড, এমবাপ্পে, ব্রাহিম দিয়াজ, ব্রুনো গিমারায়েস ও মেসি।
আক্রমণে সেরা দল
গোলের দিক থেকে যৌথভাবে সবচেয়ে সফল দল ইংল্যান্ড ও ফ্রান্স। দুই দলই করেছে ২০টি করে গোল।
দলগত গোল ও গোলে সহায়তা:
ইংল্যান্ড: ২০ গোল, ১৪ গোলে সহায়তা
ফ্রান্স: ২০ গোল, ১৮ গোলে সহায়তা
আর্জেন্টিনা: ১৯ গোল, ১২ গোলে সহায়তা
স্পেন: ১৪ গোল, ১০ গোলে সহায়তা
বেলজিয়াম: ১৪ গোল, ১০ গোলে সহায়তা
গোলরক্ষকদের সাফল্য
প্যারাগুয়ের গোলরক্ষক অরলান্দো গিল পুরো আসরে সবচেয়ে বেশি ২৮টি সেভ করেছেন। অন্যদিকে স্পেনের উনাই সিমোন সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার জিতেছেন।
সবচেয়ে বেশি সেভ:
অরলান্দো গিল (প্যারাগুয়ে): ২৮
এলয় রুম (কুরাসাও): ২১
এমিলিয়ানো মার্তিনেজ (আর্জেন্টিনা): ২০
গ্রেগর কোবেল (সুইজারল্যান্ড): ২০
দিয়োগো কস্তা (পর্তুগাল): ২০
জর্ডান পিকফোর্ড (ইংল্যান্ড): ১৯
ইয়াসিন বুনু (মরক্কো): ১৯
ভোজিনহা (কেপ ভার্দে): ১৮
জায়ন সুজুকি (জাপান): ১৭
মোহাম্মদ আল-ওয়াইস (সৌদি আরব): ১৭
শিরোপাজয়ী স্পেন সবচেয়ে বেশি ৭টি ম্যাচে কোনো গোল হজম করেনি। ফ্রান্স, কলম্বিয়া ও মেক্সিকো ৪টি করে ম্যাচে জাল অক্ষত রেখেছে। আর্জেন্টিনা, মরক্কো, ইংল্যান্ড, ব্রাজিল, আইভরি কোস্ট ও প্যারাগুয়ে দুটি করে ম্যাচে গোল খায়নি।
রক্ষণ, শৃঙ্খলা ও কার্ডের হিসাব
কাতার ও মিসর সবচেয়ে বেশি দুটি করে আত্মঘাতী গোল করেছে। আরও ১০টি দেশ একটি করে আত্মঘাতী গোল করেছে।
সবচেয়ে বেশি গোল হজম করা দল:
ইরাক, তিউনিসিয়া, ইংল্যান্ড: ১২
উজবেকিস্তান, নরওয়ে: ১১
নিউজিল্যান্ড, সুইডেন, ফ্রান্স, কাতার: ১০
কুরাসাও, সেনেগাল, আলজেরিয়া, অস্ট্রিয়া: ৯
জর্ডান, হাইতি, আর্জেন্টিনা, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, যুক্তরাষ্ট্র: ৮
হলুদ কার্ডের তালিকায় সবার ওপরে আর্জেন্টিনা। বিশেষ করে শেষ ষোলোতে মিসরের বিপক্ষে তাদের ম্যাচটি ছিল টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বিতর্কিত ও উত্তপ্ত লড়াইগুলোর একটি।
সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ড:
আর্জেন্টিনা: ১৫
মিসর: ১২
কানাডা: ১১
প্যারাগুয়ে: ৯
ব্রাজিল, ইংল্যান্ড, সুইজারল্যান্ড, কলম্বিয়া, ইকুয়েডর: ৮
কুরাসাও, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, হাইতি, মরক্কো, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা: ৭
লাল কার্ড সবচেয়ে বেশি দেখেছে কাতার ও দক্ষিণ আফ্রিকা। দুটি করে লাল কার্ড পেয়েছে দল দুটি। এর মধ্যে কাতারের আসিম মাদিবোর একটি বিপজ্জনক ট্যাকলে প্রতিপক্ষের খেলোয়াড় গুরুতর চোটে পড়েছিলেন।