ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ থেকে রেকর্ড ১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিশ্বকাপরাজস্ব আয়ের পথে রয়েছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে নির্ধারিত ১১ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্যমাত্রাকে অনেকটাই ছাড়িয়ে গেছে এই আয়। বার্তাসংস্থা দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
শনিবার ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে এক বৈঠকে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এই আয় বৃদ্ধির তথ্য তুলে ধরেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর মতে, বিশ্বকাপ থেকে আয় প্রত্যাশার তুলনায় অনেক বেশি হওয়ায় ফিফার আর্থিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে।
জানা গেছে, এই বিপুল আয়ের বড় অংশ এসেছে হসপিটালিটি প্যাকেজ এবং টিকিট বিক্রি থেকে। বিশেষ করে সেকেন্ডারি মার্কেট বা টিকিট পুনঃবিক্রির বাজারে চাহিদা ও উচ্চমূল্যের কারণে ফিফার আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বাজারে প্রতিটি লেনদেনে ক্রেতার কাছ থেকে ১৫ শতাংশ এবং বিক্রেতার কাছ থেকেও আরও ১৫ শতাংশ কমিশন পায় ফিফা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত আয়ের সুফল বিশ্বজুড়ে ফিফার সদস্য ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোও পেতে পারে। একই সঙ্গে নানা বিতর্কের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হওয়া বিশ্বকাপ সফলভাবে শেষ করার পর রেকর্ড রাজস্ব ইনফান্তিনোর নেতৃত্বকেও আরও শক্ত অবস্থানে নিয়ে যাবে।
এদিকে আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ফিফা সভাপতি নির্বাচনে পুনর্নির্বাচনের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ২০০টিরও বেশি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের সমর্থনের প্রতিশ্রুতি পেয়েছেন ইনফান্তিনো। ধারণা করা হচ্ছে, রেকর্ড আয়ের ফলে সদস্য দেশগুলোর জন্য অতিরিক্ত অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হওয়ায় অনেক অ্যাসোসিয়েশন তাদের অসন্তোষ প্রকাশ্যে না-ও আনতে পারে।
বিশ্বকাপ থেকে এই বিপুল আয় ভবিষ্যতে যুক্তরাষ্ট্রে আরেকটি বিশ্বকাপ আয়োজনের সম্ভাবনাও জোরালো করতে পারে। বর্তমানে বিডের জন্য উন্মুক্ত থাকা পরবর্তী আসর হবে ২০৩৮ সালের বিশ্বকাপ।
গত শুক্রবার এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ আয়োজনের আগ্রহ প্রকাশ করেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আপনাদের (ফিফা) আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে বেছে নেওয়া উচিত। এবার আমরা এককভাবেই আয়োজন করব। কানাডা ও মেক্সিকো থাকবে না।’
এদিকে জানা গেছে, ২০২৯ সালের ক্লাব বিশ্বকাপ আয়োজনের বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ফিফার আলোচনা চলছে। ফলে আগামী বছরগুলোতে বিশ্ব ফুটবলের বড় বড় টুর্নামেন্ট আয়োজনে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আরও বাড়তে পারে।