সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৮ অপরাহ্ন

ভারতের সুপ্রিম কোর্ট, গালিগালাজ ও অশ্রাব্য শব্দ ব্যবহারই ‘অশ্লীলতা’ নয়

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার

শুধু গালিগালাজ, অশ্লীল ভাষা বা অশালীন শব্দ ব্যবহার করলেই তা আইনগতভাবে ‘অশ্লীলতা’ হিসেবে গণ্য হবে না বলে রায় দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। আদালত বলেছেন, কোনো বক্তব্যকে অশ্লীল বলতে হলে সেটি কামোদ্দীপক হতে হবে, যৌন লালসাকে উসকে দিতে হবে এবং মানুষের মনকে কলুষিত বা বিকৃত করার প্রবণতা থাকতে হবে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) ২৯৪ ধারার অধীনে নিম্ন আদালতের দেওয়া সাজা বহাল রেখে মাদ্রাজ হাইকোর্ট যে আদেশ দিয়েছিলেন, তার বিরুদ্ধে করা এক আবেদনের শুনানিতে এ পর্যবেক্ষণ দেন বিচারপতি সঞ্জয় করোল ও বিচারপতি বিপুল এম পাঞ্চোলির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ।

আজ রোববার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।গত শুক্রবার দেওয়া রায়ে সুপ্রিম কোর্ট বলেন, ‘অভিযোগে উত্থাপিত ঘটনাগুলো আক্ষরিক অর্থে সত্য বলে ধরে নিলেও সংশ্লিষ্ট বক্তব্যগুলোকে অশ্লীল বলা যায় না। আদালতের ভাষ্য, অপমানজনক, কুরুচিপূর্ণ বা অমার্জিত শব্দ ব্যবহার করা হলেও তা ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(খ) ধারায় বর্ণিত অশ্লীলতার সংজ্ঞা পূরণ করে না।’

আদালত আরও বলেন, ‘আইনের এ ধারায় অপরাধ প্রমাণের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হলো—এ ধরনের আচরণ প্রকাশ্য স্থানে অন্যদের বিরক্তির কারণ হতে হবে। কিন্তু এ মামলায় এমন কোনো অভিযোগ বা প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। ফলে ২৯৪(খ) ধারার অধীনে অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মনে করার সুযোগ নেই।’

মামলার ঘটনা ২০১৭ সালের আগস্ট মাসে তামিলনাড়ুর একটি কৃষিজমি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে। প্রথমে আবেদনকারীর সঙ্গে তাঁর শ্যালকের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। দুই দিন পর একই সম্পত্তি নিয়ে অভিযোগকারীর ভাগ্নের সঙ্গে তার আরেকটি বিরোধের ঘটনা ঘটে।

রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ, ওই সময় অভিযোগকারী হস্তক্ষেপ করলে আবেদনকারী তাকে অশ্লীল গালিগালাজ করেন এবং জাতিভিত্তিক কটূক্তি করে মৌখিকভাবে অপমান করেন।

বিচারিক আদালত আবেদনকারীকে ভারতীয় দণ্ডবিধির ২৯৪(খ) (অশ্লীলতা), ৩২৬ (গুরুতর আঘাত) ও ৫০৬(২) (অপরাধমূলক ভীতি প্রদর্শন) ধারার পাশাপাশি তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের আওতায় দোষী সাব্যস্ত করেন।

পরে মাদ্রাজ হাইকোর্ট তাকে এসসি/এসটি আইনের অধীন অভিযোগ থেকে খালাস দিলেও ভারতীয় দণ্ডবিধির অধীনে দেওয়া সাজা বহাল রাখেন। সেই আদেশের বিরুদ্ধে করা আবেদনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট এ পর্যবেক্ষণ দেন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ