মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
আগামীকাল কুড়িগ্রাম যাচ্ছেন এনসিপির ৩ নেতা ময়মনসিংহে ট্রাক-অটোরিকশা সংঘর্ষ, নিহত ৩ মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে সবসময় থাকার প্রতিশ্রুতি ডা. জুবাইদা রহমানের প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী হিসেবে যোগ দিলেন রাশেদ খাঁন দিল্লিমুখী হাজারো কৃষক, নতুন চাপে মোদি সরকার ভিডিও ইস্যুতে এবার মুখ খুললেন জামায়াত এমপির ‘দ্বিতীয় স্ত্রী’ পারফর্ম করতে না পারলে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন স্বাভাবিক-তথ্য উপদেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলের দিকে এগিয়ে আসছে ঘূর্ণিঝড় ‘বার্থা’ সরকারের ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৫৩২ কোটি টাকা আফগানিস্তানে আকস্মিক বন্যায় নিহত ২০, নিখোঁজ শতাধিক

তেল সংকটে কিউবাজুড়ে লোডশেডিং

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১১ জুলাই, ২০২৬
  • ১২ বার

জ্বালানি সংকটের তীব্রতায় কিউবাজুড়ে ব্যাপক লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্বালানি-সংক্রান্ত অবরোধের প্রভাবে মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশটিতে দ্বিতীয়বারের মতো সারাদেশে বিদ্যুৎ বিপর্যয় নেমে এসেছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক সপ্তাহেরও কম সময়ের মধ্যে কিউবায় দ্বিতীয়বারের মতো দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যার ঠিক আগে পুরো দ্বীপটি অন্ধকারে ডুবে যায়।

শুক্রবার বিদ্যুৎ গ্রিডের দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংস্থা ইউনিয়ন ইলেক্ট্রিকা দে কিউবা জানিয়েছে, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৪টায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট শুরু হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকারের পক্ষ থেকে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। তবে সোমবারও একই ধরনের বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল। এর ফলে বছরের শুরু থেকে দেশজুড়ে সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সংখ্যা বেড়ে চারটিতে দাঁড়িয়েছে। এর আগে মার্চ মাসে আরও দুবার দেশব্যাপী বিদ্যুৎ বিভ্রাট হয়েছিল।

কিউবায় বিদ্যুৎ বিভ্রাট কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা নয়। কারণ দেশটির বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্রমেই পুরোনো হয়ে যাচ্ছে। এই ব্যবস্থার বেশিরভাগই ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে অর্থাৎ শীতল যুদ্ধের সময়ে নির্মিত।

চলতি বছরের জানুয়ারি মাস থেকে সমস্যাটি আরও তীব্র হয়েছে। ওই সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কার্যত কিউবার বিদেশি তেলের সরবরাহ বন্ধ করে দেন।

কিউবা আধুনিক ইতিহাসের দীর্ঘতম বাণিজ্য নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। ১৯৬০-এর দশক থেকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত দেশটির সঙ্গে বাণিজ্য নিষিদ্ধ করে রেখেছে। কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের উপকূল থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।

দ্বিতীয় মেয়াদে ট্রাম্প ক্ষমতায় আসার পর থেকে কমিউনিস্ট-শাসিত এই দ্বীপে শাসনব্যবস্থার পরিবর্তন আনার চেষ্টা করে আসছেন। সমালোচকেরা দীর্ঘদিন ধরে হাভানার সরকারকে মানবাধিকার লঙ্ঘনের জন্য অভিযুক্ত করে আসছেন। এর মধ্যে অন্যতম অভিযোগ হলো ভিন্নমতের ওপর সহিংস দমন-পীড়ন।

গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তুলে নিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। মাদুরো একজন সমাজতান্ত্রিক নেতা এবং কিউবা সরকারের ঘনিষ্ঠ মিত্র ছিলেন। এই অভিযানের পরপরই ট্রাম্প ঘোষণা করেন, ভেনেজুয়েলা আর কিউবাকে তেল বা অর্থ পাঠাবে না। এরপর থেকে তার প্রশাসন ভেনেজুয়েলার তেল রপ্তানির ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।

এরপর ২৯ জানুয়ারি ট্রাম্প একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। এতে বলা হয়, কিউবা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। আদেশের অংশ হিসেবে তিনি কিউবায় জ্বালানি সরবরাহকারী যেকোনো দেশের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের হুমকি দেন। এরপর থেকে গত মার্চে মাত্র একটি রুশ তেলবাহী ট্যাঙ্কার কিউবায় পৌঁছেছে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সাল পর্যন্ত কিউবা তার ব্যবহৃত তেলের মাত্র ৪০ শতাংশ উৎপাদন করে। বাকি অংশ বিদেশ থেকে আমদানি করা হয়।

মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অব্যাহত জ্বালানি ঘাটতির ফলে কিউবার বেসামরিক জনগণের ওপর গুরুতর প্রভাব পড়তে পারে। কারণ এতে পরিবহনের মতো গুরুত্বপূর্ণ গণসেবাগুলোও বন্ধ হয়ে যেতে পারে।

২০২২ সালের হিসাব অনুযায়ী, কিউবার মোট শক্তি ব্যবহারের মাত্র ১৮ শতাংশ আসে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে। ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য উৎস থেকে মোট শক্তির প্রায় এক-চতুর্থাংশ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে দেশটি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ