মালয়েশিয়ায় যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা ও উৎসবমুখর পরিবেশে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ সম্পন্ন হয়েছে। স্থানীয় সময় বুধবার সকাল ৮টা ১০ মিনিটে রাজধানীর কুয়ালালামপুরে ঐতিহাসিক জাতীয় মসজিদ নেগারাসহ দেশটির সর্বত্র একযোগে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়।
নামাজে স্থানীয় মালয় মুসলিম, ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ান মুসলিম, চাইনিজ মালয়েশিয়ান মুসলিম এবং প্রবাসী বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন জাতি ও বর্ণের মুসল্লিরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে অংশ নেন।
দেশটির জাতীয় সংবাদ সংস্থা ‘বারনামা’ জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পুত্রাজায়ার মসজিদ পুত্রায় ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন। তিনি সকাল ৭টা ৫৬ মিনিটে তার স্ত্রী ড. ওয়ান আজিজাহ ওয়ান ইসমাইলকে সঙ্গে নিয়ে মসজিদে পৌঁছান। সেখানে মালয়েশিয়ান ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ডিপার্টমেন্ট (জাকিম)-এর মহাপরিচালক ড. সিরাজউদ্দিন সুহাইমি তাকে স্বাগত জানান।
বারনামা আরও জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম ১০ হাজারেরও বেশি মুসল্লির সঙ্গে একত্রে আল্লাহু আকবার পাঠ করেন। এরপর মসজিদের প্রধান ইমাম ড. মুহাম্মদ জাকুওয়া রোডজালির ইমামতিতে সুন্নত নামাজ আদায় করা হয়। নামাজ শেষে তিনি ‘ত্যাগের জন্য চাই আন্তরিকতা’ শীর্ষক খুতবাও শ্রবণ করেন, যা পরিবেশন করেন মুহাম্মদ জাকুওয়া নিজেই। নামাজের পর প্রধানমন্ত্রী মুসল্লিদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।
নামাজ শেষ হওয়ার পরপরই সারাদেশে শুরু হয় পশু কোরবানির কাজ। গরু, ছাগল ও মহিষ কোরবানির পাশাপাশি কোনো কোনো এলাকায় উট ও দুম্বাও কোরবানি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
এদিকে ঈদুল আজহা উপলক্ষে দেশটির রাজা সুলতান ইব্রাহিম এবং প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছে। উভয় বাণীতেই দেশ ও সমগ্র মুসলিম জাতির কল্যাণ ও সমৃদ্ধি কামনা করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, মুসলিম বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা বা কোরবানির ঈদ মালয়েশিয়ায় প্রতি বছর সরকারি ছুটির দিন। ত্যাগ ও মানবতার বার্তা নিয়ে আসা এই উৎসব দেশটির বহু জাতি ও ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির এক অনন্য নজির স্থাপন করে।