সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন

বিশ্ববাজারে তেলের দাম ফের ১০০ ডলারের উপরে

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১২ বার

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হওয়ায় এবং ইরানি বন্দরে মার্কিন অবরোধের ঘোষণার পর বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম ফের ১০০ ডলার ছাড়িয়েছে। সোমবার (১৩ এপ্রিল) এশিয়ার বাজার খোলার পরপরই তেলের দামে এই বড় ধরনের লাফ লক্ষ্য করা যায়। সোমবার বিশ্ববাজারে তেলের বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৭.৩ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ১০২.৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে, ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই)-এর দাম ৮.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ১০৪.৯৪ ডলারে পৌঁছেছে। সপ্তাহান্তে দুই দেশের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

গত বুধবার ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের শর্তসাপেক্ষ যুদ্ধবিরতি এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়ে সমঝোতা হওয়ার পর তেলের দাম ১০০ ডলারের নিচে নেমে এসেছিল। কিন্তু সেই সমঝোতা ভেস্তে যাওয়ায় বাজার আবারও অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পণ্য পরিবহন স্থবির হয়ে আছে। বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ঘোষণা করেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালীতে প্রবেশ বা বের হওয়া সমস্ত জাহাজ অবরোধ করতে শুরু করবে।

মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার ইটি সময় সকাল ১০টা (জিএমটি ১৪:০০) থেকে ইরানি বন্দরগুলোতে এই অবরোধ কার্যকর হবে। তারা আরও স্পষ্ট করেছে যে, ইরানি বন্দর অভিমুখী বা সেখান থেকে ছেড়ে আসা সকল দেশের জাহাজের ক্ষেত্রে এই নিয়ম প্রযোজ্য হবে। তবে ইরান বাদে অন্য দেশের বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে বাধা দেওয়া হবে না। এদিকে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরানের হয়ে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ জানিয়েছেন, ইরান কোনো ধরনের হুমকির কাছে নতি স্বীকার করবে না। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এক বিবৃতিতে সতর্ক করে বলেছে, প্রণালীর কাছে আসা যেকোনো সামরিক জাহাজকে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করা হবে এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাবে এশিয়ার শেয়ারবাজারগুলোতে দরপতন দেখা গেছে। জাপানের নিক্কেই ২২৫ সূচক ১ শতাংশ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কোসপি ০.৮ শতাংশ কমেছে। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের ওপর অতি-নির্ভরশীল হওয়ায় এশীয় দেশগুলো এই যুদ্ধের প্রভাবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াল স্ট্রিটেও শেয়ারের দাম কমার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

সিঙ্গাপুরের নানয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ চুয়া ইও হুই বলেন, ‘তেলের দাম চড়া থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এখন সবকিছু নির্ভর করছে এই অবরোধ কতটা পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যকর হয় এবং কূটনৈতিক তৎপরতা পুনরায় শুরু হয় কি না তার ওপর।’

উল্লেখ্য, গত ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির খবরে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলারে নেমে এসেছিল। তবে যুদ্ধবিরতির স্থায়িত্ব নিয়ে সংশয় এবং লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকায় বাজার এখন চরম অস্থিরতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।

সূত্র: বিবিসি

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ