বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:৩৭ অপরাহ্ন

কড়া নিরাপত্তায় ট্রাইব্যুনালে ১০ সেনা কর্মকর্তা

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১৪৩ বার

আওয়ামী লীগের শাসনামলে টাস্কফোর্স ফর ইন্টারোগেশন সেলে (টিএফআই) গুম ও নির্যাতনের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সেনাবাহিনীর ১০ কর্মকর্তাকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়েছে। একই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়েছে।

কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সকাল ১০টা ২৩ মিনিটে তাদের প্রিজনভ্যানে করে ঢাকা ক্যান্টনমেন্টের বিশেষ কারাগার থেকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।

এদিন বেলা ১১টার পর ট্রাইব্যুনাল-১ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের প্যানেলে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি শুরু হবে। ট্রাইব্যুনালের অন্য সদস্যরা হলেন- বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।

প্রথমে প্রসিকিউশন, এরপর আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।পলাতক আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করবেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবীরা।

ট্রাইব্যুনালে হাজির করা ১০ সেনা কর্মকর্তা হলেন- র‍্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তোফায়েল মোস্তফা সারোয়ার, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. কামরুল হাসান, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহাবুব আলম, কর্নেল কেএম আজাদ, কর্নেল আবদুল্লাহ আল মোমেন, কর্নেল আনোয়ার লতিফ খান (অবসরকালীন ছুটিতে), কর্নেল মো. মশিউর রহমান (সাবেক পরিচালক, র‍্যাব গোয়েন্দা শাখা), লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল ইসলাম সুমন ও লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সারওয়ার বিন কাশেম।

পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিক, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি ড. বেনজির আহমেদ, র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক এম খুরশিদ হোসেন এবং ব্যারিস্টার হারুন অর রশিদ।

এদিকে আদালত প্রাঙ্গণজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা বলয় সৃষ্টি করা হয়েছে। হাইকোর্টের ফটক ও ট্রাইব্যুনাল এলাকার দুই পাশে পুলিশ, সেনা, র‌্যাব, বিজিবি ও গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের টহল দেখা গেছে।

এর আগে গত ২৩ নভেম্বর শুনানির জন্য আজকের দিন ঠিক করা হয়। ওইদিন সেনানিবাসের বিশেষ কারাগারে থাকা ১০ কর্মকর্তা ট্রাইব্যুনালে হাজির হন। যদিও তাদের আইনজীবীরা ভার্চুয়াল হাজিরার আবেদন করেছিলেন, এ বিষয়ে আজ পুনরায় শুনানি হবে।

ওইদিন ট্রাইব্যুনাল মন্তব্য করে, আইন সবার জন্য সমান। সাবেক প্রধান বিচারপতিও জেলে সশরীরে হাজির হন। সাবেক মন্ত্রীরাও নিয়মিত হাজিরা দেন।

পলাতক আসামি শেখ হাসিনার পক্ষে দাঁড়ানোর আবেদন করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেডআই খান পান্না। পরে তাকে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে তিনি মৌখিকভাবে এ মামলায় না লড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

গত ২২ অক্টোবর সেনা হেফাজতে থাকা ১০ কর্মকর্তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হলে তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেওয়া হয়। পলাতক আসামিদের সাত দিনের মধ্যে দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে হাজির হতে বলা হলেও কেউ হাজির না হওয়ায় তাদের পক্ষে স্টেট ডিফেন্স নিয়োগ করা হয়।৮ অক্টোবর মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের পর ট্রাইব্যুনাল অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ