সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৯ পূর্বাহ্ন

কর কর্মকর্তা তানজিনা সাময়িক বরখাস্ত

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৮ বার

অবশেষে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর বিভাগের উপ-কর কমিশনার মোসা. তানজিনা সাথীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পক্ষ থেকে বাবা-মাসহ তানজিনা সাথীর বিরুদ্ধে অবৈধ পথে জ্ঞাত আয়বহির্র্ভূত প্রায় ১৫ কোটি টাকার সম্পদ অর্জনের দায়ে তিনটি মামলা করা হয়েছে। এরপরেই নড়েচড়ে বসে এনবিআর। গত ১৬ মার্চ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পর্ক

বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, উপ-কর কমিশনার তানজিনা সাথী কর অঞ্চল-ময়মনসিংহে কর্মরত ছিলেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১০ মার্চ দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তিনটি মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের মামলার পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ৩(খ) বিধি অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগে কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় মামলা রুজুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালার ১২(১) বিধি অনুযায়ী তাকে চাকরি হতে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা প্রয়োজন ও সমীচীন মনে করে কর্তৃপক্ষ এই আদেশ জারি করে।

এনবিআর চেয়ারম্যান মো. আবদুর রহমান খানের সই করা আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির অংশ হিসেবে এবং প্রশাসনের স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এই কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে গত ১০ নভেম্বর দৈনিক আমাদের সময়ে ‘বন্ধুর বাসায় ৬২ লাখ টাকা রাখেন কর কর্মকর্তা’ শিরোনামে অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। প্রতিবেদনে উঠে আসে, ৬২ লাখ টাকা বাসায় রাখা নিয়ে তার বন্ধুর সঙ্গে অডিও কলের কথোপকথন। এ ছাড়া তানজিনা সাথী কর কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানের পর তার বাবা ও মায়ের নামে প্রায় ৮ কোটি টাকার ইনকাম ট্যাক্স ফাইল খোলার তথ্য উঠে আসে।

জানা গেছে, দুদকের দীর্ঘ অনুসন্ধানের পর গত ১০ মার্চ দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে তানজিনা সাথী, তার বাবা মোশারফ হোসেন মল্লিক ও মা রানী বিলকিসের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি মামলা করা হয়। তিন মামলার আসামি হয়েছেন কর কর্মকর্তা তানজিনা সাথী।

দুদকের অনুসন্ধানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তানজিনা সাথীর বাবা মোশারফ হোসেন মল্লিকের নামে ৭ কোটি ৮৮ লাখ ২৮ হাজার ৬৫৫ টাকার সম্পদের দালিলিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। যার কোনো বৈধ উৎস দেখাতে পারেননি তিনি। একইভাবে তার মা রানী বিলকিসের নামে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৫৮ হাজার ৫৬৩ টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ মিলেছে। দুদকের প্রতিবেদন বলছে, এই বৃদ্ধ দম্পতির নিজস্ব কোনো আয়ের উৎস ছিল না, মূলত মেয়ের দুর্নীতির টাকা বৈধ করতেই তারা আয়কর নথিতে মিথ্যা ঘোষণা দিয়েছিলেন। অর্থাৎ আয়কর নথি মেয়ে তানজিনা সাথী তৈরি করেছেন দুর্নীতির টাকা আড়াল করতে। এদিকে বাবা-মায়ের পাশাপাশি নিজের নামেও কম সম্পদ করেননি এই কর কর্মকর্তা। রাজধানীর মালিবাগসহ বিভিন্ন এলাকায় স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের খোঁজ পেয়েছে দুদক। আর্থিক হিসাবে যার পরিমাণ ৫ কোটি ৬৬ হাজার ৯৪ টাকা। বিপরীতে বৈধ আয়ের কোনো প্রমাণ মেলেনি। সব মিলিয়ে এই পরিবারের মোট ১৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকার বেশি অবৈধ সম্পদের কারণে তানজিনা সাথী ও তার বাবা-মা দুদকের মামলার আসামি।

জানা গেছে, দুদকের মামলা ও নিজ কর্মস্থল থেকে বরখাস্তের পর ক্ষমতাসীন বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছেন। তাদের সঙ্গে ছবি তুলে সামাজিক মাধ্যমে প্রচার করছেন। রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের মাধ্যমে দুদকের মামলায় ও নিজ বিভাগে সুবিধা নেওয়ার অপচেষ্টা করছেন। ইতোমধ্যে মন্ত্রী পদমর্যাদার এক নেতার সঙ্গে দেখা করেছেন। তবে সেখানে সুবিধা করতে পারেননি। দুর্নীতির মামলার কথা শুনে তানজিনাকে জায়গা দেননি তিনি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ