সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

তেলের বিকল্প পথও চরম ঝুঁকিতে

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৬
  • ৩ বার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের কারণে জ্বালানি তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান জলপথ হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে গেছে। এতে বাধ্য হয়ে তেল সরবরাহকারী দেশগুলো বিকল্প পথের সন্ধান করছে। এর মধ্যে অন্যতম প্রধান বিকল্প পথটি হলো লোহিত সাগর। বিশ্বের শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সৌদি আরামকো হরমুজ প্রণালির বদলে পাইপলাইনের মাধ্যমে তাদের লাখ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল লোহিত সাগর উপকূলের ইয়ানবু বন্দরে পাঠাচ্ছে। ফলে সেখানে তেল লোডিংয়ের পরিমাণ গত বছরের গড়ের তুলনায় এ মাসে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। কিন্তু এখন তেলের এই বিকল্প জীবনরক্ষাকারী পথটিও চরম হুমকির মুখে পড়েছে।

সোমবার লোহিত সাগরে থাকা মার্কিন নৌ স্থাপনাগুলোকে ‘সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে ঘোষণা করেছে ইরান। দেশটির আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফারস জানিয়েছে, লোহিত সাগরে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী জেরাল্ড আর ফোর্ডের উপস্থিতিকে ইরান নিজেদের জন্য হুমকি হিসেবে দেখছে। তাই ওই অঞ্চলে মার্কিন নৌবাহিনীকে সহায়তাকারী যে কোনো লজিস্টিক ও সার্ভিস কেন্দ্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

এমনিতেই লোহিত সাগর আগে থেকে খুব একটা স্থিতিশীল ছিল না। ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকেই সেখানে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস সেন্টার সতর্ক করেছে, বর্তমানে ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হুতিদের হামলার ঝুঁকি আবারও ‘প্রচণ্ড’ মাত্রায় পৌঁছেছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের পূর্ব-পশ্চিমমুখী পাইপলাইনটি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন সম্ভব, যা হরমুজ প্রণালির ঘাটতি কিছুটা হলেও মেটাতে সক্ষম। কিন্তু লোহিত সাগরে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়লে এই বিকল্প পথটিও বন্ধ হয়ে যাবে। ডেটা অ্যানালিটিকস প্রতিষ্ঠান কেপলারের জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক নবীন দাস জানান, লোহিত সাগরে সৌদি তেলের ট্যাংকারে হামলা হলে বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যাবে। কারণ এর মাধ্যমে বাজারে বার্তা যাবে যে, তেল বের হওয়ার আর কোনো নিরাপদ পথই খোলা নেই।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের অর্থনীতিবিদ ডেভিড অক্সলির মতে, লোহিত সাগরের পথটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেলে বিশ্ববাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম বর্তমানের ১০০ ডলার থেকে লাফিয়ে ১৩০ থেকে ১৫০ ডলারে পৌঁছাতে পারে। আর তেলের দাম এমন চড়া থাকলে তার সরাসরি প্রভাব পড়বে গোটা বিশ্ব অর্থনীতিতে। উড়োজাহাজের ভাড়া থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম- সব কিছুই আরও বেড়ে যাবে। ইতোমধ্যে কনটেইনারবাহী পণ্যবাহী জাহাজগুলো লোহিত সাগর এড়িয়ে আফ্রিকার কেপ অব গুড হোপ ঘুরে যাতায়াত করছে, যা পরিবহন ব্যয় ও সময় বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ