রাশিয়ার জ্বালানিঅবকাঠামোয় হামলা বন্ধ করতে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এসব হামলার কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রোববার আয়ারল্যান্ড ওপেন গলফ টুর্নামেন্টে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, রাশিয়ার ডিজেল জ্বালানি উৎপাদন স্থাপনায় হামলা বন্ধ করা উচিত ইউক্রেনের। তার ভাষায়, হামলার জন্য রাশিয়ায় জ্বালানির ঘাটতি তৈরি হচ্ছে, যা ‘বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে’।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইউক্রেন রাশিয়ার বিভিন্ন তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনা লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এসব হামলায় রাশিয়ার জ্বালানি উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশটির বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোলের সংকট তৈরি হয়েছে।
ট্রাম্প বলেন, ‘জেলেনস্কিকে একটি কাজ করতে হবে রাশিয়ায় ডিজেল জ্বালানি উৎপাদন স্থাপনা ধ্বংস করা বন্ধ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, রাশিয়ায় হামলার জন্য ‘অন্য অনেক লক্ষ্যবস্তু’ রয়েছে, কিন্তু ডিজেল জ্বালানির অবকাঠামোয় হামলা করা উচিত নয়।
ট্রাম্প জানান, এ বিষয়ে জেলেনস্কির সঙ্গে তাদের কথা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ডিজেল জ্বালানিতে হামলা করবেন না। এটি বিশ্বকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।’
ইউক্রেন অবশ্য রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করে। দেশটি নিয়মিত রুশ হামলায় নিজেদের জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করে এসব হামলার যৌক্তিকতা তুলে ধরে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রেও ডিজেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাজারদর পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান গ্যাসবাডির তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটিতে ডিজেলের গড় খুচরা দাম প্রথমবারের মতো গ্যালনপ্রতি ৬ ডলারের ওপরে উঠেছে। ট্রাক, ট্রেন, জাহাজ ও কৃষি যন্ত্রপাতি চালাতে ডিজেল গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি।
বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের জন্য শুধু মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে দায়ী করা ঠিক নয় বলেও মন্তব্য করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই সংকটের পেছনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে চলমান পরিস্থিতিও বড় কারণ।
এদিকে যুদ্ধের প্রভাবে রাশিয়া চলতি বছরের তেল উৎপাদনের পূর্বাভাস কমিয়ে ১৭ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়েছে। একই সঙ্গে ২০২৬ ও ২০২৭ সালের জ্বালানি রপ্তানির পূর্বাভাসও সংশোধন করেছে দেশটি। রুশ সরকারের একটি খসড়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য উঠে এসেছে।