কনসার্টে অংশ নেওয়া দর্শক ইমাদ উদ্দিন বলেন, নগর বাউলের এই পরিবেশনা প্যারিসে বাংলাদেশি সংস্কৃতিকে পরিচিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। একই সঙ্গে ফ্রান্সে বসবাসরত বাংলাদেশিরাও এই কনসার্টের মাধ্যমে নিজেদের দেশ ও সংস্কৃতিকে অনুভব করার সুযোগ পেয়েছেন।
আয়োজকরা বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশিদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে, দেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক কতটা গভীর। এমন আয়োজন নতুন প্রজন্মের কাছেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এদিকে, অনুষ্ঠানস্থলে দর্শনার্থীদের যাতায়াত সহজ করতে বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করে আয়োজক কমিটি। ফ্রান্সের যোগাযোগ ব্যবস্থায় সাময়িক কিছু সমস্যার কারণে নিকটবর্তী ট্রেন স্টেশন থেকে অনুষ্ঠানস্থল পর্যন্ত তিনটি বিনামূল্যের বাসের ব্যবস্থা করা হয়। দিনভর এসব বাস দর্শকদের আনা-নেওয়ার কাজ করে।
সংগীতের পাশাপাশি উৎসবে ছিল বাঙালির ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির নানা আয়োজন। দর্শনার্থীদের জন্য আয়োজন করা হয় বিভিন্ন দেশীয় খেলা। পাশাপাশি ছিল বাংলাদেশি পণ্য ও খাবারের স্টল। সমুচা, সিঙ্গাড়া, ঝালমুড়ি, পিঠা-পুলি, বিরিয়ানি, ডাবের পানি, বিভিন্ন ধরনের পানীয় এবং পান-সুপারির স্টলে ছিল দর্শনার্থীদের ভিড়।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় সংসদ সদস্য, সার্সেলের ডেপুটি মেয়র, স্পন্সর প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব এবং কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
দর্শকদের জন্য বিশেষ আকর্ষণ ছিল র্যাফেল ড্র। এতে বিভিন্ন আকর্ষণীয় পুরস্কারের পাশাপাশি প্রধান পুরস্কার হিসেবে রাখা হয় একটি ঝকঝকে বিএমডব্লিউ গাড়ি।
সব মিলিয়ে ‘ফ্রাঙ্কো-বাংলা সামার ফেস্ট-২০২৬’ প্রবাসী বাংলাদেশিদের জন্য হয়ে ওঠে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি ও আনন্দের এক মিলনমেলা। প্যারিসের সার্সেলের সেই মাঠে একদিনের জন্য হলেও তৈরি হয়েছিল বাংলাদেশের আবহ।