সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ অপরাহ্ন

নজরুল ইসলামের এমপি পদ নিয়ে সংসদের চিঠির অপেক্ষায় ইসি-সিনিয়র সচিব

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার

সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের সংসদ সদস্য পদ নিয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্তে যায়নি নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত এই সংসদ সদস্যের বিষয়ে জাতীয় সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো চিঠি না পাওয়ায় অপেক্ষা করছে কমিশন।

আজ সোমবার নির্বাচন কমিশন ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে এখনো সংসদ থেকে কোনো চিঠি আসেনি। চিঠি আসলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

গাজী নজরুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী মরিয়মের মৃত্যুর ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তারের পর তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু হয়েছে। গতকাল রোববার সন্ধ্যায় সংসদ ভবনের বিপরীতে ন্যাম ভবনের একটি ফ্ল্যাট থেকে মরিয়মের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলায় গাজী নজরুল ইসলাম ও তার প্রথম স্ত্রী মাকছুদা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। আজ আদালত গাজী নজরুলকে চার দিন এবং মাকছুদাকে এক দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন।

তবে মরিয়মের মৃত্যুর মামলার সঙ্গে সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ইসির সিদ্ধান্তের বিষয়টি আলাদাভাবে দেখছে কমিশন। ইসি সচিব বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে আগে চিঠি দিলেও সংসদ সচিবালয় থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে না জানানো পর্যন্ত কমিশনের পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই।’

আখতার আহমেদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে চিঠি দিয়েছিল; কিন্তু আইন অনুযায়ী সংসদ থেকে কোনো চিঠি না এলে কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ ইসির নাই। সংসদ সচিবালয় থেকে আমাদের জানানোর বিধান রয়েছে। এখনও চিঠি আসেনি, অপেক্ষা করতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘সংসদ নির্বাচন ও গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত দায়িত্ব ইসির। শপথ ও পরবর্তী বিষয়গুলোর এখতিয়ার সংসদের।’

এর আগে গত ২৩ জুলাই জামায়াতের চিঠি পাওয়ার পর নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছিলেন, কোনো রাজনৈতিক দল একজন সংসদ সদস্যকে বহিষ্কার করলেই তার সংসদ সদস্য পদ নিয়ে ইসির সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ নেই। তবে দল থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করলে সংসদ সদস্য পদ শূন্য হওয়ার বিষয়টি প্রযোজ্য হতে পারে। স্পিকার বা জাতীয় সংসদের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো রেফারেন্স বা চিঠি এলে সংবিধান ও আইন পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি।

এর আগে ২০ জুলাই রাতে ঢাকার মগবাজারের একটি হোটেলে মরিয়মের সঙ্গে গাজী নজরুল ইসলামের ব্যক্তিগত মুহূর্তের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। শুরুতে জামায়াতের নেতাকর্মীদের কেউ কেউ ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে দাবি করেন। পরে গাজী নজরুল ইসলাম ফেসবুক পোস্টে মরিয়মকে তার দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেন।

এর পর সাংগঠনিক তদন্তে নৈতিক স্খলনের প্রমাণ পাওয়ার কথা জানিয়ে ২২ জুলাই গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেয় জামায়াতে ইসলামী। পরে দলটির পক্ষ থেকে স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি জানিয়ে চিঠি দেওয়া হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ