রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের প্রতিবাদে স্টেশনে ভাঙচুর চালিয়েছেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। এ ঘটনায় চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
গতকাল রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে ক্যাম্পাস থেকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে যান রাবি শিক্ষার্থীরা। সেখানে তারা ভাঙচুর চালান। রাত দেড়টার দিকে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে ফিরে যান। এর আগে, রাত ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনে রেললাইন অবরোধ করে অবস্থান নেন তারা।
মারধরের শিকার শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী রাবির ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, আইয়ুবের মাথায় আঘাত লেগেছে। তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী রায়হান আলী বলেন, ‘রেল নিরাপত্তাকর্মীসহ তিনজন লোক মিলে মারধর করছিলেন। টি-শার্ট দেখে বুঝতে পারি তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।’ বিষয়টি নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট দেওয়ার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হওয়ার আশঙ্কায় তিনি ঘটনাস্থল থেকে সরে যান।
আইয়ুবের সহপাঠী রেদোয়ান ইসলাম বলেন, চাচা-চাচিকে নিতে আইয়ুব রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন। সেখানে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মীদের কথা-কাটাকাটি হয়। ওই শিক্ষার্থীদের পক্ষে কথা বলায় আইয়ুবকে মারধর করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে ঘটনার পর রাজশাহীর বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয় থেকে চার রেলকর্মীকে সাময়িক বরখাস্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। রোববার জারি করা আদেশে বলা হয়, রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে একটি ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায়’ জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
বরখাস্ত হওয়া চারজন হলেন—মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দিন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদাত হোসেন। আদেশ অনুযায়ী, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের প্রতিদিন বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপকের কার্যালয়ে হাজিরা দিতে হবে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শাখা। এক যৌথ প্রতিবাদ বার্তায় সংগঠনটির সভাপতি মুজাহিদ ফয়সাল ও সেক্রেটারি হাফেজ মেহেদী হাসান হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে আহত শিক্ষার্থীর সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তারা।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, এ ধরনের কোনো ভায়োলেন্সের ঘটনা কাম্য নয়। এ ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনাটি পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।