শনিবার, ০৮ অগাস্ট ২০২৬, ০৬:১০ অপরাহ্ন

জাপানে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’, চীনে সর্বোচ্চ সতর্কতা

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ আগস্ট, ২০২৬
  • ৩ বার

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় ওকিনাওয়া প্রদেশে আঘাত হেনেছে শক্তিশালী টাইফুন ‘ডলফিন’। ঝড়ের প্রভাবে এখন পর্যন্ত অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। একই সঙ্গে প্রায় ১৪ হাজার বাড়ি ও স্থাপনা বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির প্রভাবে শুধু জাপান নয়, চীনের পূর্ব উপকূলেও বড় ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে চীনের উপকূলীয় এলাকায় ইতোমধ্যে বন্দর ও ফেরি চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

সংবাদমধ্যম রয়টার্স জানিয়েছে, টাইফুন ‘ডলফিন’-এর সর্বোচ্চ স্থায়ী বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১৬২ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠেছে। ঝড়ের দমকা বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২১৬ কিলোমিটার পর্যন্ত রেকর্ড করা হয়েছে।

জাপানের আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, শনিবার ৮ আগস্ট রাত ৩টা জিএমটি পর্যন্ত টাইফুনটির অবস্থান ছিল ওকিনাওয়ার কুমে দ্বীপের প্রায় ১৬০ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে। ওই সময় ঝড়টি ঘণ্টায় প্রায় ১৫ কিলোমিটার গতিতে উত্তর-পশ্চিম দিকে অগ্রসর হচ্ছিল।

টাইফুনের কারণে ওকিনাওয়া অঞ্চলের বিমান চলাচলেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে। জাপানের দুই প্রধান অভ্যন্তরীণ বিমান সংস্থা অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও জাপান এয়ারলাইনস বেশ কয়েকটি ফ্লাইট বাতিল করেছে।

ওকিনাওয়া প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়ে আহত পাঁচজনই বয়স্ক ব্যক্তি। তবে কারও আঘাত গুরুতর বা প্রাণঘাতী নয়। প্রবল বাতাসের কারণে তিনজন পড়ে গিয়ে আহত হয়েছেন।

জাপানের ওকিনাওয়া এবং কাগোশিমা প্রিফেকচারের আমামি দ্বীপপুঞ্জকে ঘূর্ণিঝড়টির কারণে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের তালিকায় রাখা হয়েছে।

চীনে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি

চীনের জাতীয় আবহাওয়া কেন্দ্র জানিয়েছে, ‘ডলফিন’ রোববার রাত থেকে সোমবার ভোরের মধ্যে দেশটির পূর্ব ও দক্ষিণ উপকূলে আঘাত করতে পারে। সম্ভাব্য আঘাতের এলাকার মধ্যে ঝেজিয়াং প্রদেশের ঝোউশান থেকে ফুজিয়ান প্রদেশের ফুডিং পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চল রয়েছে।

আবহাওয়া কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঝড়ের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকায় বাতাসের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় প্রায় ১৩৭ থেকে ১৬২ কিলোমিটার হতে পারে।

ঝড়ের প্রভাবে পূর্ব চীনের বিভিন্ন এলাকায় ১২ আগস্ট পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি ও প্রবল বাতাস অব্যাহত থাকতে পারে। সাংহাইসহ আশপাশের এলাকাতেও এর প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব ঝেজিয়াংয়ের কয়েকটি এলাকায় ৬০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঝেজিয়াং কর্তৃপক্ষ উপকূলীয় টাইফুন সতর্কতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে গেছে। একই সঙ্গে কয়েকটি বন্দর বন্ধ করার পাশাপাশি ১৬২টি যাত্রীবাহী ফেরি রুটের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।

ঝেজিয়াংয়ের নিংবো লিশে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর জানিয়েছে, শনিবার রাত সাড়ে ১১টা থেকে বিমানবন্দরের কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। রোববারের সব ফ্লাইটও বাতিল করা হয়েছে।

অন্যদিকে সাংহাইয়ের ইয়াংশান বন্দর থেকে শুক্রবার রাতের মধ্যেই জাহাজ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ঝড়ের আশঙ্কায় ইয়াংজি নদীর বদ্বীপ অঞ্চলের কয়েকটি রেলসেবাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

টাইফুনের প্রভাব পড়েছে তাইওয়ানেও। সেখানে ৬৩টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে সপ্তাহান্তে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে শনিবার পর্যন্ত কোনো এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়নি স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

জাপান ও তাইওয়ানে প্রাথমিকভাবে ক্ষয়ক্ষতি সীমিত থাকলেও চীনের পূর্ব উপকূলে ঝড়টি আঘাত হানার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি কমাতে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কর্তৃপক্ষ আগাম সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ