সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:২৯ অপরাহ্ন

নারীর মরদেহ ময়নাতদন্তে নারী ডোম নিয়োগ দিতে হাইকোর্টের রুল

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৩ বার

নারী মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য দেশের পোস্টমর্টেম সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালগুলোতে নারী ডোম নিয়োগের নির্দেশনা কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। আজ রোববার বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রুল জারি করেন।

আদালতে আজ রিটের পক্ষে শুনানি করেন রিটকারী সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মনির উদ্দিন। তিনি জানান, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে রিটের বিবাদীদের (রেসপনডেন্ট) রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে।

গত ১৩ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ মনির উদ্দিন হাইকোর্টে এ রিটটি করেন।

আবেদনে বলা হয়, ইসলামসহ বিভিন্ন ধর্মে নারীর মরদেহের মর্যাদা ও গোপনীয়তা রক্ষার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্ত একটি আইনি প্রক্রিয়া হলেও নারী মরদেহে পুরুষের স্পর্শ বা উপস্থিতি অনেক পরিবারের জন্য সংবেদনশীল বিষয়। অতীতে মৃত নারীর মরদেহের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার অভিযোগও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। নারী ডোম নিয়োগ করা হলে মরদেহের গোপনীয়তা ও মর্যাদা আরও ভালোভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

এতে আরও বলা হয়, দুর্ঘটনা বা অন্য কোনো কারণে কোনো নারীর মৃত্যু হলে তার পরিবার এমনিতেই শোকাহত থাকে। এ অবস্থায় নারী ডোমের মাধ্যমে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হলে পরিবার কিছুটা মানসিক স্বস্তি পেতে পারে। পাশাপাশি নারীরা বর্তমানে সব ক্ষেত্রেই দায়িত্ব পালন করছেন, তাই এ পেশায়ও নারী নিয়োগ সময়োপযোগী পদক্ষেপ হবে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, নারী ডোম নিয়োগ ধর্মীয় সংবেদনশীলতা ও বৈষম্য দূর করতে সহায়ক হবে। আধুনিক সমাজের নারী রোগীদের বা মৃতদেহের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি যুগোপযোগী চাহিদা। মানবাধিকার সনদ অনুযায়ী মৃত্যুর পরও একজন মানুষের ব্যক্তিগত গোপনীয়তা প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন নিশ্চিত করা জরুরি। মর্গে অনেক সময় পুরুষ ডোমের দ্বারা মৃত নারীর শরীরে বিকৃত যৌনাচারের ঘটনা ঘটেছে।

আবেদনে কয়েকটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২২ অক্টোবর ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য রাখা এক তরুণীর মরদেহের সঙ্গে বিকৃত যৌনাচার করার অভিযোগ ওঠে মর্গের ডোম আবু সাঈদের (২৯) বিরুদ্ধে। মর্গের চিকিৎসক এ বিষয়ে নিশ্চিত করার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়; যা বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়েছে। এ ছাড়া ২০২০ সালের ২০ নভেম্বর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে মরদহের সঙ্গে যৌনাচারের অভিযোগে মুন্না ভগত (২০) নামে এক ডোমকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারের পর তিনি নিজের দোষ স্বীকার করেছেন।

অন্যদিকে এক-দুজন নয়, ১০০ জন নারীর মরদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্কের কথা নিজের মুখে স্বীকার করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওহীওর এক মর্গ রক্ষী কেনেট ডগলাস (৬০)। তিনি ১৯৭৬ সাল থেকে ১৯৯২ সালে রাতের শিফটে কাজ করার সময় মর্গে আসা ১০০টি নারী মরদেহের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করেছেন।

এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের যেসব হাসপাতালে ময়নাতদন্ত হয়, সবগুলো হাসপাতালে একজন নারী ডোম নিয়োগ এবং মরদেহের সম্ভ্রম রক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়। আবেদনে সাড়া না পাওয়ায় রিট দায়ের করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ