গাজীপুরের শ্রীপুরে একটি পোশাক কারখানায় হঠাৎ পেটে ব্যথা, মাথা ঘোরা ও অজ্ঞান হয়ে পুরুষসহ ৮০ জন শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থদের দ্রুত উদ্ধার করে আশপাশের বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। দুপুর ২টার দিকে এ রির্পোট লেখার সময় পর্যন্ত তাদের চিকিৎসা চলছিল। গুরুতর অসুস্থ কয়েকজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, কারখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের কারখানায় প্রবেশ করতে না দেওয়ায় অসুস্থ শ্রমিকদের নাম-পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। সংবাদ সংগ্রহে বাধা দেওয়ার পাশাপাশি কয়েকজন সাংবাদিকের মোবাইল ফোনও সাময়িকভাবে কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকাল ১১ টার দিকে তেলিহাটি ইউনিয়নের টেপিরবাড়ি এলাকার কালার অ্যান্ড কোং লিমিটেড পোশাক কারখানায় মাথা ঘোরা, পেটে ব্যথা ও বমি বমি ভাবসহ বিভিন্ন উপসর্গ নিয়ে অর্ধশতাধিক নারী শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এ দিকে খবর পেয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকতা অসুস্থদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে যান। তাদের শারীরিক খোঁজ খবর নেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য তাগাদা দেন।
শ্রমিকরা জানান, সকালে সবাই নিয়মিত কাজে যোগ দেয়। এর পর বেলা ১১টার দিকে কারখানার পঞ্চম তলার সুইং বিভাগে কয়েকজন শ্রমিক আচমকা অসুস্থবোধ করতে থাকে। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই কয়েকজন অসুস্থ হয়ে ঢলে পড়েন। এসময় একই ধরনের উপসর্গে আরও অনেকে আক্রান্ত হতে থাকে। পরে তাদের উদ্ধার করে মাওনা চৌরাস্তার আল-হেরা হাসপাতালসহ বিভিন্ন ক্লিনিকে পাঠানো হয়।
এ বিষয়ে জনতে চাইলে কারখানার দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষও আনুষ্ঠানিকভাবে রোগীর সংখ্যা ও অসুস্থতার কারণ জানায়নি। ফলে এ নিয়ে শ্রমিকদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
কারখানা সুইং অপারেট হাবিবুর রহমান জানান, সকালে ঠান্ডা পরিবেশে সবাই কাজে যোগ দেই। আকাশ মেঘলা থাকায় তেমন গরম ছিল না। তবুও দুই আড়াই ঘন্টা কাজ করার পর পঞ্চম তলায় প্রথমে অসুস্থ হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ে। এরপর বিভিন্ন ফ্লোরে আরও বেশ কজন অসুস্থ হয়ে পড়ে। পরে তাদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়। আহতদের মাঝে অল্প কজন পুরুষ শ্রমিক আছে। বাকি সবাই নারী শ্রমিক।
অসুস্থ নারী শ্রমিক শাহিনুর আক্তার বলেন, আমরা কাজ করছিলাম। এ সময় পাশের এক সহকর্মী অসুস্থ বোধ করে। পরে সে পেটে ব্যথা হচ্ছে বলছিল। এ সময় সে বমি করার চেষ্টা করেন। এর কিছুক্ষণ পর আশপাশে আরও বেশ কজন অসুস্থ বোধ করে। এটা দেখে অনেকে ভয় পেয়ে যায়। কোনো কিছু বুঝে উঠার আগেই আচমকা অসুস্থদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
দৈনিক আজকের পত্রিকার শ্রীপুর প্রতিনিধি রাতুল মন্ডল অভিযোগ করে বলেন, পেশাদারিত্ব বজায় রেখে সাংবাদিকরা সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ সাংবাদিকদের সাথে অসৎ আচরণ করেন। বেশ কজনের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেন।
তিনি দাবি করেন, আমার মোবাইল ফোনও তারা ছিনিয়ে নেয়। পরে তা উদ্ধার করা হয়েছে। কারখানা কর্তৃপক্ষ ইচ্ছে করে সাংবাদিকদের লাঞ্চিত করেছে। আমরা এর নিন্দা জানাই।
আল হেরা হাসপাতালের ব্যবস্থাপক মোতাহার কলিমুল্লা জানান, আমাদের এখানে ৮০ জন শ্রমিক চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ৭ জনকে অন্যত্র উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়েছে। অসুস্থ শ্রমিকদের মাঝে অধিকাংশই নারী শ্রমিক। অল্পকজন পুরুষ শ্রমিক আছে।
শ্রীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহিনুর আলম জানান, সকালে কাজের সময় আচমকা বেশ কিছু শ্রমিক অসুস্থবোধ করলে তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে ৮ জনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. নাহিদ ভূইয়া জানান, প্রথমে দুএকজন সামান্য অসুস্থতাবোধ করেন। পরে তাদের দেখাদেখি ভয়ে আরও বেশ কিছু শ্রমিকও অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের চিকিৎসা চলছে। খবর পেয়ে তাদের দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলাম। উন্নত চিকিৎসার জন্য বেশ কজনকে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে।
তিনি আরও জানান, আজ কারখানা ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। অসুস্থদের উন্নত চিকিৎসা নিশ্চিত করার জন্য তাগাদা দেওয়া আছে।