শনিবার, ২৭ জুন ২০২৬, ০৯:২৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিগত সময়ের ১৩০০ উন্নয়ন প্রকল্প আমাদের জন্য বোঝা : অর্থমন্ত্রী সংসদে বিএনপির এমপি আক্তারুজ্জামান ,‘আগে রিকশায় চড়তেন, এখন জুলাই চেতনা বিক্রি করে প্রাডোতে চড়েন’ রেকর্ড গড়া ম্যাচেই ফুটবলকে বিদায় জানালেন ওচোয়া সংসদে অর্থমন্ত্রী, বিদেশ থেকে অর্থ ফেরাতে ৯ আন্তর্জাতিক আইনি প্রতিষ্ঠান নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু ফুটবলপাগল বাংলাদেশ কেন বিশ্ব ফুটবলে এত পিছিয়ে? নেপাল ফুটবল ফেডারেশনকে স্থগিত করল ফিফা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের হাইকমিশনারের সাক্ষাৎ চীনের সঙ্গে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্ক আরও জোরদার হবে: রিজভী শিক্ষার্থী শূন্য ৬২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত ১৯০০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্প ভেনেজুয়েলায়

দিল্লির আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ২১, অনেকেই বিদেশি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬
  • ২৫ বার

ভারতের রাজধানী দিল্লির মালব্য নগরের একটি আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় ৪০ জনেরও বেশি মানুষকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার সকালে পাঁচতলা ভবনটিতে আগুন লাগার পর মুহূর্তেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। ভারতীয় বার্তাসংস্থা এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়। পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের কয়েকজন নাগরিকও আছেন।

দমকল বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সকাল প্রায় ৮টা ৫০ মিনিটে ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত রেস্তোরাঁয় আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন দ্রুত পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে এবং পাশের আরেকটি হোটেলেও লেগে ছড়িয়ে যায়।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে একাধিক দমকলের গাড়ি, পানির ট্যাংকার, দ্রুত সাড়া প্রদানকারী বিশেষ যান এবং অন্যান্য অগ্নিনির্বাপণ ইউনিট মোতায়েন করা হয়। দীর্ঘ সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদন বলা হয়, প্রাথমিক তদন্তে ভয়াবহ অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, দক্ষিণ দিল্লির হাউজ রানী এলাকার ফ্লোরিশ স্টে বিএন্ডবি হোটেলটি আবাসিক অতিথিশালা হিসেবে পরিচালনার অনুমতি পেয়েছিল, যেখানে সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ পরিচালনার অনুমোদন ছিল। কিন্তু বাস্তবে সেখানে ২৫টি কক্ষ চালু ছিল, যার মধ্যে কয়েকটি বেজমেন্টেও অবস্থিত ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এই নিয়ম লঙ্ঘনের কারণেই ভবনটি কার্যত একটি মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছিল। অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে প্রায় ৪০ জন অতিথি অবস্থান করছিলেন, যাদের অধিকাংশই ঘুমিয়ে ছিলেন।

নিহতদের বেশিরভাগই বিদেশি নাগরিক বলে প্রতিবেদনে জানা গেছে। দক্ষিণ দিল্লির অন্যতম বড় বেসরকারি হাসপাতালের নিকটবর্তী হওয়ায় চিকিৎসার উদ্দেশ্যে আসা বিদেশি অতিথিদের মধ্যে হোটেলটি জনপ্রিয় ছিল।

পুলিশ জানিয়েছে, ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল, যা এত বিপুলসংখ্যক কক্ষ ও অতিথির জন্য নিরাপত্তা বিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। হোটেলটির অগ্নিনিরাপত্তা সংক্রান্ত ছাড়পত্র ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন নারী ভবনের ওপরের তলা থেকে নিচে লাফ দেন। আগুন ও ধোঁয়ার তীব্রতা বাড়তে থাকায় তারা বাধ্য হয়ে এই ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেন। স্থানীয় বাসিন্দারা নিচে গদি বিছিয়ে আগুনে আটকে পড়াদের সহায়তার চেষ্টা করেন এবং আহতদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেন।

ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ, নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘন এবং সংশ্লিষ্টদের দায় নির্ধারণে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও প্রশাসন।

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা বিধি অমান্য এবং যথাযথ তদারকির অভাবই এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ