শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

যে ঘরে ছিল হাসি, তার উঠানেই এখন ৪টি কবর

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৩৪ বার

নওগাঁর নিয়ামতপুরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনার পর স্তব্ধ হয়ে আছে পুরো জনপদ। একই পরিবারের দুইটি অবুঝ শিশুসহ ৪টি প্রাণ নির্মমভাবে ঝরে যাওয়ার বেদনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে বাহাদুরপুর গ্রামে।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাহাদুরপুর গ্রামের ওই বাড়ির উঠানে পাশাপাশি শায়িত করা হয় সেই ৪টি নিথর দেহ। যেন মৃত্যুতেও তারা একসঙ্গেই রয়ে গেল।

এর আগে নওগাঁ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৪টার পর মরদেহগুলো গ্রামে আনা হলে সেখানে নেমে আসে এক আবেগঘন পরিবেশ। স্বজনদের আহাজারি, বুকফাটা কান্না আর গ্রামের মানুষের নিঃশব্দ শোক। সব মিলিয়ে ভারী হয়ে ওঠে চারদিকের বাতাস। শেষবারের মতো প্রিয়জনদের দেখতে ভিড় জমান কয়েক হাজার মানুষ। বাদ আসর জানাজা শেষে অশ্রুসজল চোখে বিদায় জানানো হয় তাদের।

নিহতরা হলেন হাবিবুর রহমান (৩৫), তার স্ত্রী পপি সুলতানা, তাদের ৯ বছরের শিশু পুত্র পারভেজ রহমান এবং মাত্র ৩ বছরের কন্যা সাদিয়া আক্তার। যে ঘরে ছিল হাসি, খেলাধুলা আর স্বপ্ন। সেই ঘর এখন নিস্তব্ধ, শূন্য। বাড়ির উঠানে ৪টি সারিবদ্ধ কবর।

উল্লেখ্য, গত সোমবার দিবাগত গভীর রাতে ঘটে যায় এই পাশবিক হত্যাকাণ্ড। নিজের ঘরেই গলা কেটে হত্যা করা হয় দম্পতি ও তাদের নিষ্পাপ দুই সন্তানকে। এমন নৃশংসতায় হতবাক স্থানীয়রা।

মানুষের মনে প্রশ্ন, সামান্য জমি-জমার ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে কীভাবে এতটা নিষ্ঠুর হতে পারে মানুষ। যা নিঃশেষ করে দিতে পারে অবুঝ ২টি শিশুসহ পিতা-মাতার জীবন প্রদীপ।

এদিকে নিহত পপি সুলতানার বাবা মোয়াজ্জেম হোসেন বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন।

পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল বলেন, ‘সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড। নিহত হাবিবুর রহমানের ভগ্নিপতি শহিদুল ইসলাম এবং ভাগ্নে শাহিন ও সবুজকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, পারিবারিক সম্পত্তি বণ্টন নিয়ে ক্ষোভ থেকেই এই নির্মম সিদ্ধান্ত নেন তারা।’

এই ঘটনার পর শুধু একটি পরিবার নয়, যেন পুরো সমাজই আহত হয়েছে। যে সম্পর্কগুলো হওয়ার কথা ছিল ভালোবাসা আর বিশ্বাসের। সেখানেই জন্ম নিয়েছে হিংসা আর রক্তপাত। ছোট্ট দুই শিশুর নিষ্পাপ মুখ এখনো ভাসছে সবার চোখে, তাদের অকাল বিদায় যেন কেউ মেনে নিতে পারছে না।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এই অভিযানে নিয়ামতপুর থানা পুলিশ, ডিবি পুলিশ, সিআইডি এবং পিবিআই গ্রেপ্তারকৃত ও পলাতক আসামিদের আইনের আওতায় আনতে তথ্যপ্রযুক্তি সহ সার্ভিস সহযোগিতা করছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ