বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ১১:৫৬ পূর্বাহ্ন

তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৃথিবী

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৭ মার্চ, ২০২৬
  • ২৪ বার

পারস্য উপসাগরের নীল জলরাশি আর শান্তির বার্তা দিচ্ছে না। সেখানে এখন বারুদের গন্ধ, আসন্ন মহাপ্রলয়ের পদধ্বনি। ইরান দীর্ঘ সময়ের নীরবতা ভেঙে এমন এক রণমূর্তি ধারণ করেছে, যা ট্রাম্পের সিলেবাস আর নেতানিয়াহুর আয়রন ডোম দুটোকেই খাদের কিনারে এনে দাঁড় করেছে। এটি কেবল দুটি দেশের যুদ্ধ নয়, এটি একটি পুরনো সাম্রাজ্যের অস্তমিত হওয়া এবং এক নতুন আঞ্চলিক শক্তির উত্থানের মহাকাব্য। বর্তমানে ইরানের প্রধান রণকৌশল হলো, তাদের বিপুল পরিমাণ পুরনো ও সস্তা ড্রোন এবং মিসাইল দিয়ে ইসরায়েল ও আমেরিকার এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমকে ব্যস্ত রাখা। এই কৌশলের মূল লক্ষ্য,  প্রতিপক্ষের দামি ইন্টারসেপ্টরগুলো ধ্বংস করা। যখন এই সস্তা অস্ত্রের আঘাতে ডিফেন্স সিস্টেমগুলো নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়বে, তখনই ইরান তাদের আধুনিক ও হাইপারসনিক মিসাইল দিয়ে মূল হামলা শুরু করবে। ইতিমধ্যেই ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তারা টানা তিন মাস পর্যন্ত আক্রমণ চালিয়ে যেতে সক্ষম। কিন্তু এই সামরিক হিসাব-নিকাশের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিভীষিকাময় মানবিক ট্র্যাজেডি। দক্ষিণ ইরানের ‘মিনাব’ অঞ্চলে সাম্প্রতিক মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলায় কয়েক ডজন নিষ্পাপ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা আধুনিক যুদ্ধের নিষ্ঠুরতম অধ্যায় হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে শিশুদের নিথর দেহ উদ্ধারের দৃশ্যগুলো বিশ্ববিবেক নাড়িয়ে দিলেও, ক্ষমতার দাপটে আজ উপেক্ষিত। সবচেয়ে নিষ্ঠুর ভণ্ডামি পরিলক্ষিত হচ্ছে কূটনৈতিক মঞ্চে। যখন ‘মিনাব’ অঞ্চলে শিশুদের রক্তে পারস্য উপসাগর লাল হয়ে উঠছে, ঠিক তখন জাতিসংঘ সদর দপ্তরে দাঁড়িয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প, শিশু অধিকার ও তাদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিয়ে আবেগঘন ভাষণ দিচ্ছেন। মাঠপর্যায়ে লাশের স্তূপ আর শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে মানবাধিকারের এই বুলি, একবিংশ শতাব্দীর সবচেয়ে বড় দ্বিচারিতা। এই বৈপরীত্যই প্রমাণ করে, সাম্রাজ্যবাদীদের কাছে দরিদ্র দেশের শিশুর প্রাণের চেয়ে তাদের রাজনৈতিক এজেন্ডা বেশি মূল্যবান।

আমেরিকার এই যুদ্ধের পেছনে ট্রাম্পের জেদ এবং নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক উচ্চাকাক্সক্ষা প্রধান ভূমিকা পালন করছে। ট্রাম্প ভেবেছিলেন, ইরান কেবল ইসরায়েলের সীমানায় আক্রমণ করবে এবং মাঝপথে আরব মিত্রদের ঘাঁটিগুলো সেই হামলা রুখে দেবে। কিন্তু ইরান এবার হিসাব পাল্টে দিয়েছে। গালফ দেশগুলো, যারা আমেরিকার সবচেয়ে বিশ্বস্ত মিত্র, তারাই এখন ইরানের প্রাথমিক লক্ষ্যবস্তু। কারণ এই দেশগুলোতেই আমেরিকার প্রধান সামরিক ঘাঁটিগুলো অবস্থিত। ইরান খুব ভালো করেই জানে, আগে তাদের মিসাইলগুলো কাতার, দুবাই বা বাহরাইনের বেসগুলো থেকে আটকানো হতো। এখন সেই ঘাঁটিগুলোকেই অকেজো করে ইরান পথের কাঁটা সরিয়ে দিচ্ছে। ট্রাম্পের জন্য এটি একটি বিশাল ‘মিসক্যালকুলেশন’ বা ভুল হিসাব, যা তিনিও সংবাদ সম্মেলনে স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছেন। ইরানের এই পরিকল্পিত হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সুরক্ষিত আকাশ এখন অরক্ষিত। কাতারে মার্কিন এফ-ফিফটিন যুদ্ধবিমানের রহস্যময় অবতরণ বা বিমান দুর্ঘটনার সংবাদগুলো আসলে রাডার বিকল হওয়ার ফল। বাহরাইন ও কাতারের বেসগুলোতে থাকা বিলিয়ন ডলারের আর্লি ডিটেকশন সিস্টেমগুলো এখন অন্ধ। ফলে আকাশপথে উড়ন্ত বিমান নিজের না কি শত্রুর, তা বোঝার ক্ষমতা হারিয়েছে কমান্ড সেন্টার। এই রাডারগুলো কেবল মধ্যপ্রাচ্য নয়, রাশিয়া পর্যন্ত নজরদারি করত। এখন সেই প্রযুক্তিগত শ্রেষ্ঠত্ব ধুলোয় মিশে গেছে। ইরান কৌশলে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, কেবল দামি অস্ত্র থাকলেই যুদ্ধ জেতা যায় না, বরং সঠিক সময়ে সঠিক পথে আঘাত করাই আসল রণনীতি। এদিকে আমেরিকার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এই যুদ্ধ অস্থিরতা তৈরি করেছে। ট্রাম্প নির্বাচনে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, তিনি কোনো নতুন যুদ্ধে জড়াবেন না এবং আমেরিকান সন্তানদের ‘বডিব্যাগ’ হয়ে ফিরতে হবে না। কিন্তু বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দায়ে খোদ রিপাবলিকান সমর্থকরাই তার ওপর ক্ষুব্ধ। এমনকি দলের নারী এমপিরা যখন যুদ্ধের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন, ট্রাম্প তখন তাদের ‘দেশদ্রোহী’ আখ্যা দিচ্ছেন। ট্রাম্পের এই  স্বৈরাচারী আচরণ এবং অযৌক্তিক জেদ আমেরিকাকে এমন এক গভীর গহ্বরে ঠেলে দিচ্ছে, যেখান থেকে ফেরা কঠিন।

ইরানের শক্তিমত্তা পশ্চিমা গোয়েন্দাদের সব হিসাব উল্টে দিয়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে ইরান নিভৃতে কী পরিমাণ গোলাবারুদ এবং সমরাস্ত্র মজুদ করেছে, তার প্রকৃত চিত্র এখন স্পষ্ট হচ্ছে। পেন্টাগন ভেবেছিল, ফেসবুকের ফটোকার্ড আর কৃত্রিম সিভিল আনরেস্ট দিয়ে তেহরানের পতন ঘটাবে। কিন্তু তারা ইরানের ভেতরে বিশাল নীরব সমর্থক গোষ্ঠীকে চিনতে ভুল করেছিল, যারা ইসলামিক রিপাবলিকের অস্তিত্ব রক্ষায় জীবন দিতে প্রস্তুত। ইরান আজ একা লড়ছে জেনেও যে মরণপণ লড়াই শুরু করেছে, তা আসলে সিআইএর প্রোপাগান্ডার ওপর ইরানের জাতীয়তাবোধের বিশাল এক বিজয়। তেহরান এখন নিজের সামরিক সক্ষমতার সেই তুরুপের তাসগুলো বের করছে, যা বিশ^ আগে কখনো দেখেনি। মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্য এখন বালির বাঁধের মতো ভেঙে পড়ছে। যে গালফ দেশগুলো আমেরিকার ওপর ভরসা করে নিজেদের নিরাপত্তাকে বন্ধক রেখেছিল, তারা এখন দেখছে তাদের আশ্রয়দাতার রাডারই কাজ করছে না। এডওয়ার্ড স্নোডেন তার ‘পার্মানেন্ট রেকর্ড’ বইতে যে লাখ লাখ আঁড়িপাতার যন্ত্রের কথা বলেছিলেন, ইরানের বর্তমান সাইবার ও ইলেকট্রনিক রণকৌশলের সামনে সেগুলো এখন অর্থহীন। আমেরিকার ইন্টেলিজেন্স রিপোর্টগুলো এখন কেবল ব্যর্থতার গল্প লিখছে, যার ফলে ট্রাম্পের কট্টর সমর্থক সংবাদমাধ্যমগুলোও এখন সৌদি আরবের প্রিন্সের ওপর দোষ চাপিয়ে পাশ কাটার চেষ্টা করছে। অথচ তেহরানের আধিপত্য এখন এতই স্পষ্ট যে, তারা চাইলে ল্যান্ডলকড গালফ দেশগুলোর দিকে এক বোতল পানি আসাও বন্ধ করে দিতে পারে। স্পেন যেভাবে তাদের সামরিক ঘাঁটি মার্কিনিদের ব্যবহার করতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা ইউরোপের অন্যান্য শক্তির ওপর প্রবল চাপ সৃষ্টি করছে। ফ্রান্স ও জার্মানি বুঝতে পারছে, যুদ্ধের এই দাবানলে শামিল হলে বিলিয়ন ডলারের যন্ত্রপাতি হারানোর চেয়েও বড় ক্ষতি হবে জ্বালানি নিরাপত্তার অভাবে। বিশ্বরাজনীতির নতুন বাঁকে এসে আমেরিকার মিত্রদের মধ্যেই অবিশ্বাস দানা বাঁধছে। সবাই এখন বুঝতে পারছে, নেতানিয়াহুর ব্যক্তিগত স্বার্থরক্ষায় পুরো বিশ্বব্যবস্থাকে হুমকির মুখে ফেলা হয়েছে। এই ভাঙন আমেরিকার ‘ইউনিপোলার’ বা একমেরু আধিপত্যের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দিচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের সেমনান ও ফারস প্রদেশে অনুভূত ভূমিকম্পগুলো নিয়ে বিশ্ব জুড়ে তীব্র জল্পনা ছড়িয়েছে। ৪.৩ মাত্রার কম্পনটি কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ, না কি ইরান গোপনে পারমাণবিক পরীক্ষা চালিয়েছে তা নিয়ে শুরু হয়েছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, কোনো আগাম সতর্কতা ছাড়া ১০ কিলোমিটার গভীরে এমন কম্পন স্বাভাবিক নয়। তবে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সংস্থাগুলোর তথ্যমতে, এগুলো মূলত প্রাকৃতিক টেকটোনিক প্লেটের নড়াচড়ার ফল। তবুও মার্কিন গোয়েন্দা সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ইরানের কাছে বর্তমানে পর্যাপ্ত সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম রয়েছে, যা দিয়ে অন্তত ১১টি পারমাণবিক বোমা বানানো সম্ভব।
আমেরিকার যুদ্ধকৌশল এখন গভীর সংকটে। পেন্টাগন ভেবেছিল,  আকাশপথে শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখে ইরানকে কোণঠাসা করবে। সেখানে তাদের সামনের সারির ঘাঁটিগুলো এখন আগুনের গোলার মুখে। সৌদি আরব এ মুহূর্তে ভয়াবহ দোলাচলে। রিয়াদ বুঝতে পারছে, মার্কিন নিরাপত্তা ছাতা আর আগের মতো অভেদ্য নয়। সৌদি আরব এবং অন্যান্য গালফ দেশগুলো এখন হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে, অন্যের ওপর ভরসা করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা কতটা কঠিন। ইরানের ড্রোন ও মিসাইল হামলায় সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ তেল শোধনাগারগুলো অকেজো হয়ে পড়ায়, ইউরোপে জ্বালানির দাম এক ধাক্কায় ৩০% বেড়ে গেছে। গালফ দেশগুলো আমেরিকার মিত্র হয়ে একজোট হয়েছিল নিজেদের রক্ষার আশায়, কিন্তু আজ তারা অসহায়।  গালফ অঞ্চলের এই বিপর্যয় প্রমাণ করছে যে, আমেরিকার একক আধিপত্যের যুগ শেষ হতে চলেছে এবং মধ্যপ্রাচ্যের নতুন ‘সুপার পাওয়ার’ হিসেবে তেহরান নিজের আসন পাকা করছে। এই মুহূর্তে রাশিয়া ও চীন ইরানের প্রধান কারিগরি শক্তি হিসেবে কাজ করছে। রাশিয়ার পরবর্তী পদক্ষেপ হবে,  ইউক্রেন ফ্রন্ট থেকে মনোযোগ না সরিয়েও মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার সম্পদ কমিয়ে আনা। চীন এই সুযোগে বেল্ট অ্যান্ড রোড প্রকল্পের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ইরানের পাশে দাঁড়াচ্ছে। জাপানের জন্য এটি অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই।  কারণ তাদের ৭০% তেল আসে এই অঞ্চল দিয়ে। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া এই ডামাডোলের সুযোগে ইরানকে মিসাইল টেকনোলজি দিয়ে সাহায্য করে আমেরিকাকে ব্যতিব্যস্ত রাখছে। যুদ্ধের অভিঘাত বৈশি^ক শেয়ারবাজারে প্রলয়ংকরী ধস নামিয়েছে। মাত্র ৪৮ ঘণ্টার ব্যবধানে বিশ্ব শেয়ারবাজার থেকে প্রায় ৩.২ ট্রিলিয়ন ডলারের বাজার মূলধন ভস্মীভূত হয়ে গেছে। সোনার দাম প্রতি আউন্স ৫,৪০০ ডলার ছাড়িয়েছে। এই মহাপ্রলয়ের আঁচ বাংলাদেশের ওপরও আছড়ে পড়ছে। ৩ মার্চ ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক একদিনেই ২০৯ পয়েন্ট ধসে পড়েছে। বর্তমানে ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৮২ ডলার ছাড়িয়েছে।

ইরান এ যুদ্ধে সর্বশক্তি নিয়োগ করেছে এবং তাদের সমরপ্রধানের সংবাদ সম্মেলন ছিল, এক সুস্পষ্ট সতর্কবার্তা। তারা এমন অস্ত্র বের করতে যাচ্ছে,  যা বিশ্ব কখনো কল্পনাও করেনি। ট্রাম্পের ‘গাড়ল’ আচরণের খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ আমেরিকান মা-বাবাদের, যাদের সন্তানরা আজ রাজনীতির শিকার। এই যুদ্ধের ফলাফল এখন সম্পূর্ণ নির্ভর করছে, ইরানের অ্যাম্যুনেশনের পরিমাণের ওপর। যদি তারা কয়েক হাজার মিসাইল প্রস্তুত রেখে থাকে, তবে আধুনিক রাডারহীন পশ্চিমা ডিফেন্সের পক্ষে তাদের আটকানো অসম্ভব। ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর এই বিশাল মিসক্যালকুলেশন কেবল মধ্যপ্রাচ্যকে নয়, বরং পুরো পশ্চিমা বিশ্বকেই জন্মের শিক্ষা দিতে যাচ্ছে। সম্ভবত পৃথিবী মাল্টি-পোলার বিশে^র দিকে যাচ্ছে। হয়তো মার্কিন একক আধিপত্যের যবনিকা ঘটছে তেহরানের এই প্রতিরোধের মাধ্যমে। তেহরান এখন হয়ে উঠছে আঞ্চলিক ক্ষমতার নতুন কেন্দ্র। যদি আমেরিকা বা ইসরায়েল ইরানের মূল স্থাপনায় আঘাত হানে, তবে ইরান হরমুজ প্রণালি স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দিয়ে, বিশ্ব অর্থনীতি অচল করে দেবে। পৃথিবী এখন তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের কিনারে দাঁড়িয়ে। আগামী কয়েক সপ্তাহ হবে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণ। হয় বিশ্ব একটি নতুন ভারসাম্য খুঁজে পাবে, নয়তো ২০২৬ সাল আধুনিক সভ্যতার এক মহাপ্রলয়ের বছর হিসেবে ইতিহাসে লেখা থাকবে। এই সংঘাতের সবচেয়ে বুদ্ধিদীপ্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন, যারা আমেরিকাকে তাদের সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। ফ্রান্স ও জার্মানিও সম্ভবত শিগগিরই নিজেদের গুটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করবে। যুদ্ধের নেশায় মত্ত শক্তিগুলো হয়তো বিলিয়ন ডলারের ক্ষতির হিসাব মেলাতে পারবে, কিন্তু মিনাবের সেই শিশুদের প্রাণের বিনিময়ে কোনো কিছু কি যথেষ্ট? ইতিহাস হয়তো ট্রাম্পের অহংকার আর নেতানিয়াহুর ধূর্ততাকে ঘৃণাভরে স্মরণ করবে, কিন্তু তার জন্য বিশ্বকে যে চরম মূল্য দিতে হচ্ছে, তা অভাবনীয়। আমরা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি, যেখানে শক্তির ভারসাম্য হয়তো চিরতরে বদলে যেতে পারে।

লেখক: সিইও ইটিসি ইভেন্টস লিমিটেড

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ