শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

লজ্জা মুসলিম চরিত্রের অনন্য বৈশিষ্ট্য

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২৮৭ বার

লজ্জা মুসলিম চরিত্রের অনন্য বৈশিষ্ট্য। লজ্জাশীলতার মাধ্যমে একজন মুসলমানের ইমান পরিমাপ করা যায়। যে নির্দ্বিধায় লজ্জাজনক কাজ করে যায় এবং নিজের বেহায়াপনা বা অশ্লীলতার জন্য সামান্যও অনুতপ্ত হয় না, বুঝতে হবে তার ইমানে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি রয়েছে। অপর দিকে এমন ব্যক্তি রয়েছেন, যার দ্বারা কোনো লজ্জাজনক কাজ সংঘটিত হলে, সঙ্গে সঙ্গে ভুলের জন্য অনুতপ্ত হয়ে মুখ লুকায় এবং বিবেকের কশাঘাতে জর্জরিত হয়। তখন বুঝতে হবে তার ইমান জীবিত আছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘লজ্জা ইমানের অঙ্গ। আর ইমানের স্থান বেহেশত। অপরদিকে অকথ্য গালিগালাজ জুলুমের অন্তর্ভুক্ত। আর জুলুমের স্থান দোজখ।’ (আহমাদ)

লজ্জা মুমিনের ভূষণ। এটি মুমিনের চারিত্রিক সৌন্দর্যকে সুশোভিত করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) লাজুক, নম্র-ভদ্র, সহনশীল ও কর্তব্যপরায়ণ ছিলেন। হজরত আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুল (সা.) কুমারী মেয়েদের চেয়েও অধিকতর লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি যখনই কোনো লজ্জাজনক কাজের সম্মুখীন হতেন, তার মুখ রক্তিমবর্ণ ধারণ করত। রাসুল (সা.) বলেছেন, লজ্জা ও ইমান অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। যখন একটির অভাব ঘটে, তখন অন্যটিও বিলুপ্তির পথ ধরে। লজ্জাহীন ব্যক্তির চরিত্র হয় অশ্লীল। সমাজের এমন হীন কাজ নেই যা সে করতে পারে না। এ ধরনের ব্যক্তি সাধারণত ফাসেক, পাপিষ্ঠ, কদাচারী ও দুর্নীতিপরায়ণ হয়। লজ্জাহীনতা তার আচরণকে করে উদ্যত, স্বভাব হয়ে ওঠে রুক্ষ, মেজাজের ভারসাম্য হারিয়ে সামাজিক জীবন যাপনে বেপরোয়া, উন্মাদ, পরশ্রীকাতর, পরধনে লোভী ও দুর্নীতিবাজ, এক কথায় উন্মাদ ব্যক্তিতে পরিণত হয়। তাদের আরেকটি বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো, তারা সাধারণত মিথ্যাবাদী হয়ে থাকে। মিথ্যাই তাদের প্রধান পুঁজি হিসেবে কাজ করে। এ রকম নির্লজ্জ ব্যক্তি সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য অশান্তি ও বিপর্যয়ের জন্য যথেষ্ট কারণ হয়ে দাঁড়ায়। রাসুল (সা.)-এর একটি হাদিস থেকে লজ্জাহীন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যায়।

রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যখন কোনো মানুষের অধঃপতন ঘটে, প্রথমে তার হৃদয় থেকে লজ্জার বিস্তৃতি ঘটে। পরে সে নিকৃষ্ট কাজের অনুগামী হয়। যখন কোনো পাপিষ্ঠ আল্লাহর রোষানলে নিপতিত হয়, তখন তিনি তার হৃদয় থেকে লজ্জা উঠিয়ে নেন। আর যখন লজ্জা বিচ্যুত হয়, তখন হিংসুক হয়ে ওঠে এবং হিংসার আগুনে জ্বলতে থাকে, শত্রুতা করতে দেখবে অথবা শত্রু দ্বারা আক্রান্ত দেখবে। যখন উল্লিখিত দুই অবস্থায় কাউকে দেখবে, বুঝবে তার থেকে আমানত উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। যখন সে আমানত বিচ্যুত হলো, তখন তাকে আমানত খেয়ানতকারী অথবা আমানত বঞ্চিত দেখতে পাবে। বস্তুত যখন তাকে এরূপ অবস্থায় দেখবে, মনে করবে তার থেকে স্নেহ-মমতা উঠিয়ে নেওয়া হয়েছে। আর যখন সে দয়া বিচ্যুত হলো, তোমরা তাকে বিতাড়িত, অভিশপ্তরূপে দেখতে পাবে। যখন তাকে এমতাবস্থায় দেখবে, মনে করো, তার গলা থেকে ইসলামের রশি খুলে ফেলা হয়েছে। (ইবনে মাজাহ)
লজ্জাশীলতা কোনো দুর্বলতার নাম নয়। বরং লজ্জাশীল ব্যক্তি দৃঢ় চরিত্রের অধিকারী। লজ্জা হলো, তার চরিত্রের মার্জিত ও রুচিশীল পোশাক সদৃশ। লজ্জা ও ভয় পাশাপাশি অবস্থান করে। প্রথমত, লজ্জাশীল ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে। সে এ বিশ্বাস পোষণ করে যে, মহান আল্লাহ আমার প্রতিটি কথা ও কাজ প্রত্যক্ষ করছেন। এ ধরনের ব্যক্তি সর্বদা আল্লাহকে হাজির-নাজির জানে বলেই কোনো লজ্জাকর কাজ তার দ্বারা সংঘটিত হয় না। দ্বিতীয়ত, নিজের ব্যক্তিত্ব, মর্যাদা ক্ষুন্ন হওয়ার ভয় করে। মানুষের দৃষ্টিতে সে নিকৃষ্ট ও হেয় প্রতিপন্ন হওয়ার ভয়ে কোনো অপকর্মে লিপ্ত হয় না। এটি কোনো দুর্বল চিত্তের লক্ষণ নয়। বরং এ ধরনের ব্যক্তিরাই সমাজের দৃঢ়চিত্ত ও বিরোচিত ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়।

লেখক : ইসলামবিষয়ক গবেষক ও সাংবাদিক

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ