শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ০২:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

‘নতুন বাংলাদেশ’ এর রূপরেখা তুলে ধরলেন জামায়াত আমির

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ২২৭ বার
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক রূপরেখা তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের প্রধান চ্যালেঞ্জ এখন টিকে থাকা নয়, বরং স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা। নতুন বাংলাদেশ হবে ইনসাফ ও মর্যাদার। যেখানে থাকবে দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি।

সব ক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ। সরকারি, বেসরকারি খাত ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই গড়ে উঠবে নতুন বাংলাদেশ।মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) কূটনৈতিক প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, শিক্ষাবিদ, শিল্পোদ্যোক্তা, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে আয়োজিত পলিসি সামিট-২০২৬ অনুষ্ঠানে তিনি এমন রূপরেখা তুলে ধরেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস একটি দীর্ঘ ও অসমাপ্ত সংগ্রামের ইতিহাস—রাজনৈতিক স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি ও মানবিক মর্যাদার সংগ্রাম।

১৯৪৭ সালে ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা এবং ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত স্বাধীনতার মূল লক্ষ্য ছিল সামাজিক ন্যায়বিচার ও অর্থনৈতিক মুক্তি। তবে পাঁচ দশকের বেশি সময় পার হলেও সেই প্রতিশ্রুতি পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।তিনি বলেন, গত ১৭ বছরে শাসনব্যবস্থার ব্যর্থতা ও কর্তৃত্ববাদী চর্চার কারণে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান দুর্বল হয়েছে, জবাবদিহি কমেছে এবং নাগরিকদের কণ্ঠস্বর সংকুচিত হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে আবারও জনগণ—বিশেষ করে তরুণরা নিজেদের অধিকার ও ভবিষ্যৎ পুনরুদ্ধারের দাবিতে দাঁড়িয়ে গেছে।

জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের একটি অন্ধকার অধ্যায় পার করে আমরা এখন গণতান্ত্রিক রূপান্তরের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছি। এই পথে এখনও বড় বড় চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে।

অর্থনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হলেও কর্মসংস্থানের মান কমে গেছে। বেকারত্ব ও মূল্যস্ফীতি মানুষের দৈনন্দিন জীবন দুর্বিষহ করে তুলছে। অধিকাংশ মানুষ অনানুষ্ঠানিক, অনিরাপদ ও স্বল্প আয়ের কাজে নিয়োজিত।

তরুণ শিক্ষিতরা শিক্ষা থেকে কর্মসংস্থানে রূপান্তর ঘটাতে পারছে না, আর নারীরা সুযোগ পাওয়ার ক্ষেত্রে এখনও নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়ছেন।ডা. শফিকুর রহমান বলেন, শুধু প্রবৃদ্ধি যথেষ্ট নয়। মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, মর্যাদা ও পরিকল্পনার সক্ষমতা তৈরি করাই হওয়া উচিত অর্থনৈতিক সাফল্যের মাপকাঠি।

তিনি বলেন, বিপুল সম্ভাবনার দেশ বাংলাদেশ। এ দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ হলো জনগণ। দেশের ভেতরে শ্রমজীবী মানুষ এবং দেশের বাইরে কর্মরত প্রবাসী শ্রমিকরা অর্থনীতি সচল রাখছেন। প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স শুধু অর্থনৈতিক অবদান নয়, বরং দক্ষতা ও বৈশ্বিক অভিজ্ঞতার একটি বড় উৎস।

নারীদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। এটি শুধু ন্যায়ের প্রশ্ন নয়, বরং অর্থনৈতিক প্রয়োজন।

সুশাসনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতা নীতি বাস্তবায়ন করা হবে। অতীতে জামায়াতের নেতৃত্বে পরিচালিত মন্ত্রণালয়গুলোতে দুর্নীতিমুক্ত ও দক্ষ প্রশাসনের নজির রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাষ্ট্র ও নাগরিক, সরকারি ও বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ে উঠবে।

শেষে তিনি বলেন, ইনসাফ, মর্যাদা ও সমৃদ্ধির ভিত্তিতে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়াই আমাদের লক্ষ্য। জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ বৃথা যাবে না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত বক্তা, প্যানেলিস্ট ও বিশেষজ্ঞদের ধন্যবাদ জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন জামায়াত আমির।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ