শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ০১:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

কারাগার, অসুস্থতা, চাপ-তবু কেন ‘আপসহীন’ খালেদা জিয়া?

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ২৬৪ বার

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ‘আপসহীন নেত্রী’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছেন বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। এই বিশেষণটি কেবল দলীয় তকমা নয়; দীর্ঘ চার দশকের ঘাত-প্রতিঘাত ও প্রলোভন এড়িয়ে চলার দৃঢ়তার স্বীকৃতি হিসেবেই গণ্য হয়। তাঁর রাজনৈতিক জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়া এবং তাঁকে ‘আপসহীন’ খেতাবে ভূষিত করার মূল ভিত্তি রচিত হয়েছিল ১৯৮৬ সালে।

স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের সেই সময়ে তৎকালীন প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগ ও জামায়াতে ইসলামী শেষ মুহূর্তে এরশাদের অধীনে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে, খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি নির্বাচন বর্জন করে। এই সিদ্ধান্তই তাঁকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের প্রধান মুখ এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের প্রতীকে পরিণত করে।

সেই সময় ক্ষমতার অংশীদারত্ব, মন্ত্রিত্ব এমনকি প্রধানমন্ত্রিত্বের প্রস্তাবসহ নানা প্রলোভন দেখানো হয়েছিল খালেদা জিয়াকে। কিন্তু তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানিয়ে দেন, ‘স্বৈরাচারের অধীনে কোনো নির্বাচনে বিএনপি যাবে না। যতক্ষণ না গণতন্ত্র মুক্তি পায়, ততক্ষণ রাজপথই আমার ঠিকানা।’ তাঁর এই অনড় অবস্থানের কারণে ১৯৮৬ সালের নির্বাচন গ্রহণযোগ্যতা হারায় এবং এরশাদবিরোধী আন্দোলন নতুন শক্তি পায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে তাঁর দল বিজয়ী হলে তিনি হন বাংলাদেশের প্রথম নির্বাচিত নারী প্রধানমন্ত্রী।
খালেদা জিয়ার আপসহীনতার দ্বিতীয় বড় পরীক্ষা আসে ২০০৭-২০০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়। ‘মাইনাস টু’ ফর্মুলা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে তাঁকে দেশত্যাগের জন্য চাপ দেওয়া হয়, কিন্তু তিনি বলেন, ‘বিদেশে আমার কোনো ঠিকানা নেই। এই দেশই আমার ঠিকানা। মরলে এ দেশেই মরব, কিন্তু জেলের ভয়ে দেশ ছাড়ব না।’ তিনি জেল খেটেছেন, কিন্তু দেশ ছাড়েননি।

২০১০ সালের ১৩ নভেম্বর তাঁকে ঢাকা সেনানিবাসের বাসভবন থেকে উচ্ছেদ করা হয়। ৭৩ বছর বয়সে সেই দিন তিনি আকাশের দিকে তাকিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি আল্লাহর কাছে বিচার দিলাম।’ কিন্তু ভেঙে পড়েননি। গুলশানের ভাড়াবাড়ি থেকে নতুন করে দল গোছানো শুরু করেন।

২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে তাঁর দল অংশ নেয়নি। তিনি বলেছিলেন, ‘গণতন্ত্রকে হত্যা করে আমি এমপি-মন্ত্রী হতে চাই না।’ ২০১৮ সালে তিনি কারাগারে থাকা অবস্থায় প্যারোলে মুক্তি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নেওয়া বা সমঝোতার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় তাঁর ৫ বছরের সাজা হয়। অসুস্থতা বাড়লেও সরকারের শর্তে মুক্তি নিতে রাজি হননি তিনি।

কারাবন্দি হওয়ার আগে খালেদা জিয়া বলেছিলেন, ‘আওয়ামী লীগকে আমাদের কিছুই করতে হবে না। ওরা নিজেরাই একদিন পচবে। পচে দুর্গন্ধ ছড়াবে।’ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে কথাটি সত্য বলে অনেকের ধারণা।

জেল, জুলুম, গৃহবন্দিত্ব, সন্তানের মৃত্যু ও নির্বাসন, শারীরিক অসুস্থতা-কোনো কিছুই তাঁর মনোবল ভাঙতে পারেনি। বাংলাদেশের ইতিহাসে ‘আপসহীন’ শব্দটির সঙ্গে চিরঅম্লান হয়ে থাকবেন বেগম খালেদা জিয়া।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ