শনিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৬, ১১:৫১ পূর্বাহ্ন

২২৮ রানের লিড নিয়ে থামল বাংলাদেশ, হ্যাজলউডের ৬ উইকেট

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬
  • ৪ বার

লাঞ্চের পর মেহেদী হাসান মিরাজের প্রতিরোধ ভেঙে বাংলাদেশকে গুটিয়ে দিয়েছেন জশ হ্যাজলউড। এরপর এবাদত হোসেনকেও ফিরিয়ে নিজের ষষ্ঠ উইকেট পূর্ণ করেন অস্ট্রেলিয়ার এই পেসার। ফলে ডারউইন টেস্টে বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। তবে তার আগে অস্ট্রেলিয়াকে ২২৮ রানের লিড দিয়ে গেছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের ইনিংস: ৪২৬ রান (তানজিদ ১০১, শান্ত ৮৪, মেহেদী ৬৫, হ্যাজলউড ৬/৮৯)।

অস্ট্রেলিয়া ১৯৮ রানে অলআউট। বাংলাদেশ ২২৮ রানে এগিয়ে।

বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উইকেটটি ছিল মেহেদীর। প্রায় ৫০ ওভার ধরে নিচের সারির ব্যাটারদের নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে আটকে রেখেছিলেন তিনি। তবে বিরতির পর বেশিক্ষণ অপেক্ষা করতে হয়নি হ্যাজলউডকে। মেহেদীকে ফিরিয়ে ব্যক্তিগত দুটি মাইলফলকও স্পর্শ করেন তিনি।

হ্যাজলউড অস্ট্রেলিয়ার নবম বোলার হিসেবে টেস্টে ৩০০ উইকেটের মাইলফলকে পৌঁছান। একই সঙ্গে টেস্টে নিজের ১৪তম পাঁচ উইকেটের কীর্তিও গড়েন তিনি। তৃতীয় দিনে পতন হওয়া বাংলাদেশের চারটি উইকেটই শিকার করেছেন হ্যাজলউড।

তবে সব মিলিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এখনো চালকের আসনে বাংলাদেশ। ম্যাচের আগে যাদের সহজেই হার মানার কথা ভাবা হয়েছিল, তারাই এখন অস্ট্রেলিয়াকে চাপে রেখেছে। বিশেষ করে গত সপ্তাহে প্রস্তুতি ম্যাচে ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের কাছে বড় ব্যবধানে হারের পর বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্স ছিল আরও বেশি প্রত্যাশার বাইরে।

তানজিদ হাসানের প্রথম টেস্ট শতরান, অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর অর্ধশতক এবং মেহেদীর অর্ধশতক মিলিয়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের অন্যতম সেরা ব্যাটিং পারফরম্যান্স দেখা গেছে। এর আগে হাসান মাহমুদের নেতৃত্বে বোলাররাও দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। প্রথম ইনিংসে ছয় উইকেট নিয়েছিলেন হাসানও।

তৃতীয় দিনের সকালে অস্ট্রেলিয়াকে সবচেয়ে বেশি ভুগিয়েছেন মেহেদী। নিজের টেস্ট ক্যারিয়ারের ১২তম অর্ধশতক তুলে নেওয়ার পর প্রথম সেশন শেষ করেন ক্যামেরন গ্রিনকে হুক করে ছক্কা মেরে। আট, নয় ও দশ নম্বরে ব্যাট করতে নামা হাসান মাহমুদ, তাইজুল ইসলাম ও তাসকিন আহমেদও মেহেদীকে দারুণভাবে সঙ্গ দিয়েছেন। কখনো রক্ষণাত্মক ব্যাটিং, কখনো বল ছেড়ে দেওয়া, আবার কখনো আচমকা বড় শটে অস্ট্রেলিয়ার বোলারদের হতাশ করেছেন তারা।

অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার ফিল্ডাররাও নিজেদের সুযোগ কাজে লাগাতে পারেননি। মোট পাঁচটি ক্যাচ ছেড়েছে তারা। এর মধ্যে প্যাট কামিন্সের এক ওভারেই দুটি সহজ সুযোগ হাতছাড়া হয়। তাসকিনের বলে স্কয়ার লেগের পেছনে সহজ ক্যাচ ছাড়েন স্টিভেন স্মিথ। পরের বলেই মিডউইকেট থেকে পেছনে দৌড়ে এসে মেহেদীর ক্যাচ নিতে পারেননি ট্রাভিস হেড।

তৃতীয় দিনের শুরুতে অবশ্য অস্ট্রেলিয়াকে প্রথম সাফল্য এনে দেন হ্যাজলউড। ৯২ বল এবং দুই ঘণ্টা ৪৩ মিনিট ক্রিজে কাটিয়ে হাসান মাহমুদকে পায়ের সামনে আটকে দেন তিনি। এটি ছিল টেস্টে হাসানের সবচেয়ে দীর্ঘ ইনিংস। মেহেদীর সঙ্গে সপ্তম উইকেটে ৪৬ রানের জুটিতে তার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এরপর ২৩ বল টিকে ছিলেন তাইজুল। হ্যাজলউডকে স্কয়ার লেগের ওপর দিয়ে ছক্কা মেরে বাংলাদেশের সাজঘরে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেন তিনি। তবে পরে গালিতে ক্যাচ দিয়ে একই বোলারের শিকার হন তাইজুল।

এরপরও বাংলাদেশের ব্যাটিং এগিয়ে যেতে থাকে। প্রথমে অর্ধশতক পূর্ণ করেন মেহেদী, এরপর বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে দুই শতাধিক রানের লিডের মাইলফলক স্পর্শ করে। বিদেশের মাটিতে টেস্টে দ্বিতীয় ব্যাটিং করে এত বড় লিড নেওয়া এটাই বাংলাদেশের প্রথম ঘটনা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ