মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকার ঘোষিত ২২ দিনব্যাপী অভিযান-২০২৬-এর অংশ হিসেবে নদীতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে নৌ পুলিশ। এ অভিযানে এখন পর্যন্ত ৮৭ জন জেলেকে আটক, ৬৪টি নিয়মিত মামলা এবং ৮০ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) এ তথ্য জানান সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইমরান হোসেন মোল্লা।
নৌ পুলিশ বরিশাল অঞ্চলের পুলিশ সুপার এস এম নাজমুল হকের তত্ত্বাবধানে সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার ইমরান হোসেন মোল্লা এবং হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক ইয়াছিনুল হকের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। গত ৮ অক্টোবর থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত দিন-রাত অভিযান চালানো হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় হিজলা নৌ পুলিশ ফাঁড়ির আওতাধীন মেঘনা নদী ও এর শাখা নদীর অন্তর্বাম, চরকিল্লা, হরিনাথপুর, আবুপুর, ধুলখোলা, বাউশিয়া ও কাইসমা এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অবৈধ কারেন্ট জাল দিয়ে মা ইলিশ শিকারের অভিযোগে জেলেদের আটক করা হয়। পরে তাঁদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করে আদালতে পাঠানো হয়।
অভিযানে জব্দ করা ৮০ লাখ ৮৬ হাজার ৯০০ মিটার অবৈধ কারেন্ট জাল নিয়ম অনুযায়ী ধ্বংস করা হয়েছে। এছাড়া ২৪৭ কেজি মাছ জব্দ করে বিধি অনুযায়ী স্থানীয় এতিমখানা এবং দরিদ্র মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হয়। মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ১১ জন জেলেকে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে।
অভিযান চলাকালে ১৩ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাদের অভিভাবকদের ডেকে সতর্ক করা, মুচলেকা গ্রহণ এবং পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নৌ পুলিশ জানায়, চলমান মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানে কিছু জেলে গভীর রাতে উত্তাল মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারে যান। তাদের আটক করতে গেলে তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। কখনো বড় লাঠিসোঁটা নিয়ে আক্রমণের চেষ্টাও করেন।
নৌ পুলিশ আরও জানায়, সরকার ঘোষিত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে ঝুঁকি নিয়ে দিন-রাত নদীতে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ কাজে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সার্বিক সহযোগিতাও কামনা করা হয়েছে।
মা ইলিশ রক্ষায় সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে নৌ পুলিশ জানায়, সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ভবিষ্যতে ইলিশের অবাধ প্রজননকেন্দ্রে পরিণত করা সম্ভব হবে।