যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আবার যুদ্ধ শুরু হলে ইরান সেজন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক সমাধানের পথও খোলা রাখতে চান তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) এনবিসি নিউজের ‘মিট দ্য প্রেস’ অনুষ্ঠানে আরাগচি বলেন, যেকোনো নতুন আগ্রাসনের মুখে ইরান দৃঢ় থাকবে। পরিস্থিতি প্রলয়ংকরী যুদ্ধে গড়ালেও ইরান পিছু হটবে না। একই সঙ্গে কূটনীতির জন্যও ইরান প্রস্তুত রয়েছে। এখন সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের।
গত সপ্তাহে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠায় ইরান। এতে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে জাহাজ চলাচলের সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়।
বিনিময়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেশটির জব্দ করা সম্পদ ও অর্থ ছেড়ে দেওয়া এবং তেল বিক্রির সুযোগ চেয়েছে। আরাগচি বলেন, এসব শর্ত নতুন নয়। জুনে দুই দেশের মধ্যে হওয়া সাময়িক যুদ্ধবিরতির সমঝোতাতেও এসব বিষয় ছিল।
তবে জুনের ওই সমঝোতা কয়েক দিনের মধ্যেই নতুন করে হামলা শুরু হওয়ায় ভেঙে যায়। আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে আগের সমঝোতা লঙ্ঘনের অভিযোগও করেন।
আরাগচি বলেন, ইরান কূটনীতির কোনো সুযোগ নষ্ট করতে চায় না। শান্তির জন্য কোনো সুযোগ হাতছাড়া করা উচিত নয়। তিনি আরও বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে নেই। তাদের কাছে জাতীয় স্বার্থই গুরুত্বপূর্ণ।
এর আগে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেন, কয়েকটি কারণে ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তার মতে, ইরানের জব্দ করা বিপুল অর্থ ছাড়ার বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না।
ওয়াল্টজ আরও বলেন, ইরান অতীতের সমঝোতা লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে হামলা চালিয়েছে। তাই দেশটির সঙ্গে নতুন কোনো চুক্তি করার বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের আস্থা কমেছে।
ট্রাম্প এর আগে বলেছিলেন, তিনি ইরানকে ধ্বংস করার পথ বেছে নেবেন নাকি চুক্তিতে যাবেন, তা এখনো বিবেচনা করছেন। তিনি আরও বলেন, নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরানের সঙ্গে একটি চুক্তি হতে পারে।
সূত্র: এনবিসি নিউজ