বুধবার, ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সুপ্রিম কোর্ট ভবন নির্মাণে ভুয়া বিলে ৬.৩২ কোটি টাকা আত্মসাৎ স্থানীয় নির্বাচনে কোনো বেআইনি নির্দেশনা দেবো না: সিইসি বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে গর্ত ভরাটে ইটের খোয়া পাথর-বিটুমিনের বদলে বালু ও ইটের খোয়া, স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন চট্টগ্রামে ফিল্ড ফায়ারিং অনুশীলনে দুর্ঘটনায় ২ সেনাসদস্য নিহত পলিথিন-প্লাস্টিকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার বন্ধে কঠোর হওয়ার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর যেন ফিরে এসেছে নব্বইয়ের দশক এসএসসির খাতা পুনর্মূল্যায়নের ফল প্রকাশের তারিখ ঘোষণা রিট খারিজ, ছবি ছাড়া করা যাবে না জাতীয় পরিচয়পত্র ভয়াবহ বন্যার রেশ কাটতে না কাটতেই তিব্বতে ভূমিকম্প মদনে দা দিয়ে বাবাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক

বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কে গর্ত ভরাটে ইটের খোয়া পাথর-বিটুমিনের বদলে বালু ও ইটের খোয়া, স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন

গৌরনদী প্রতিনিধি :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ১ বার
টানা বর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের গৌরনদী অংশে গর্ত সংস্কারে পাথর ও বিটুমিনের পরিবর্তে ব্যবহার করা হচ্ছে ইটের খোয়া ও বালু। কোথাও কোথাও গর্ত ভরাটের পাশাপাশি করা হচ্ছে ইটের সলিং। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে তাৎক্ষণিকভাবে এ সংস্কারকাজ করা হলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও মহাসড়কে চলাচলকারী চালকেরা।
বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) গৌরনদীর ভুরঘাটা বাসস্ট্যান্ড থেকে উজিরপুর সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ১৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ঘুরে দেখা যায়, বিভিন্ন স্থানে ছোট-বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বার্থী, টরকী, গৌরনদী, মাহিলাড়া, বাটাজোর, বামরাইল ও সানুহার এলাকার বিভিন্ন অংশে সড়কের অবস্থা বেশি নাজুক। কোথাও পিচ উঠে গর্ত তৈরি হয়েছে, আবার কোথাও সড়ক উঁচু-নিচু হয়ে গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, শ্রমিকেরা ইট ভেঙে খোয়া তৈরি করে বালুর সঙ্গে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করছেন। কোথাও আবার গর্তের মধ্যে সরাসরি ইটের টুকরো ফেলা হচ্ছে। কয়েকটি স্থানে ইটের সলিং করতেও দেখা গেছে। এসব কাজে পাথর বা বিটুমিন ব্যবহার করতে দেখা যায়নি।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ভারী যানবাহনের চাপে ইটের খোয়া দ্রুত ভেঙে গুঁড়ো হয়ে যায়। বৃষ্টির পানিতে খোয়া ও বালু সরে গিয়ে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার গর্ত তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এতে একদিকে সংস্কারকাজে অর্থ ব্যয় হচ্ছে, অন্যদিকে স্থায়ী সুফল পাওয়া যাচ্ছে না।
মহাসড়কে চলাচলকারী দূরপাল্লার কয়েকজন চালক বলেন, সড়কের কোথাও বড় গর্ত, আবার কোথাও ঢেউয়ের মতো উঁচু-নিচু অবস্থা। এতে বিশেষ করে রাতে যানবাহন চালাতে ঝুঁকি হচ্ছে। গর্ত এড়াতে গিয়ে হঠাৎ ব্রেক করা বা লেন পরিবর্তনের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে। পাশাপাশি সড়কের বেহাল অবস্থায় যানবাহনের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
গৌরনদী ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মহাসড়কের বিভিন্ন অংশে গর্ত ও উঁচু-নিচু অবস্থা রয়েছে। মহাসড়কের বর্ধিত অংশ ব্যবহার না করে থ্রি-হুইলারসহ বিভিন্ন যানবাহন মূল সড়কে চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে।
বরিশাল সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. শাহিন খান বলেন, ভারী বর্ষণের কারণে মহাসড়কের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে আপাতত ইটের গুঁড়ো দিয়ে গর্ত ভরাট করা হচ্ছে। এটি প্রাথমিক সংস্কারকাজ। বৃষ্টি কমে গেলে পাথর ও বিটুমিন দিয়ে স্থায়ীভাবে সংস্কার করা হবে।
সড়ক বিশেষজ্ঞদের মতে, জরুরি পরিস্থিতিতে যান চলাচল সচল রাখতে সাময়িকভাবে গর্ত ভরাট করা যেতে পারে। তবে ভারী যানবাহন চলাচলকারী মহাসড়কে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য সড়কের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ যথাযথ প্রকৌশল পদ্ধতিতে সংস্কার করা প্রয়োজন। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা ঠিক না থাকলে এবং উপযুক্ত উপকরণ ব্যবহার না করলে একই স্থানে বারবার গর্ত সৃষ্টি হতে পারে।
স্থানীয়দের দাবি, সাময়িকভাবে গর্ত ভরাটের পাশাপাশি দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হোক। একই সঙ্গে সংস্কারকাজে ব্যবহৃত উপকরণের মান ও কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়মিত তদারকি প্রয়োজন।
বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কটি দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানীর যোগাযোগের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই সড়কটির সংস্কারে কোনো ধরনের অনিয়ম বা নিম্নমানের কাজ হলে তা শুধু স্থানীয় মানুষের দুর্ভোগই বাড়াবে না, সরকারি অর্থের অপচয়েরও আশঙ্কা তৈরি করবে। ফলে জরুরি মেরামতের পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে টেকসই সংস্কার সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ