সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্থগিত করল ইরান

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১৯ জুলাই, ২০২৬
  • ৭ বার

চলতি মাসে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক বিমান হামলায় ইরানে অন্তত ৫০ জন নিহত এবং ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। এর জের ধরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ধারাবাহিক লঙ্ঘনের অভিযোগে চুক্তি স্থগিত ঘোষণা করেছে তেহরান।

শনিবার বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালযয়ের বরাতে বলা হয়, ৬ জুলাই থেকে শুরু হওয়া মার্কিন হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ৫০ জন নিহত ও ৫০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। একই দিনে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) টানা সপ্তম রাতের মতো ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়।

ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, সাম্প্রতিক হামলায় একটি লবণাক্ত পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় প্রায় ১০ হাজার মানুষ সুপেয় পানি থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ইরান।

ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, ইসলামাবাদে গত মাসে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের আওতায় যুক্তরাষ্ট্র তাদের সব প্রতিশ্রুতি লঙ্ঘন করেছে এবং চুক্তিটি কার্যত স্থগিত করেছে। তাই তেহরানও নিজেদের সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন স্থগিত রেখে দেশের প্রতিরক্ষায় মনোযোগ দিচ্ছে। তিনি চলতি মাসের শুরুতে ওই সমঝোতা নিয়ে কারিগরি আলোচনায় অংশ নিয়েছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করে বলেন, গত এক সপ্তাহে ওয়াশিংটন চুক্তির প্রতিটি দিক লঙ্ঘন করেছে। তার দাবি, ইরান কখনো যুদ্ধ চায়নি; আরোপিত যুদ্ধের বিরুদ্ধে এ পর্যন্ত তারা আত্মরক্ষাই করছে।

শনিবার রাতে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত এক বিবৃতিতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার জবাবে তেহরান এমন শিক্ষা দেবে, যা ওয়াশিংটন কখনো ভুলতে পারবে না।

এদিকে ইরানের প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরেফ অভিযোগ করেন, সমঝোতা স্মারকের কালি শুকানোর আগেই যুক্তরাষ্ট্র হামলা শুরু করেছে। তার ভাষ্য, ওই চুক্তির অধীনে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব ইরানের ওপর ন্যস্ত ছিল, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র সেই সমঝোতাও উপেক্ষা করেছে।

উল্লেখ্য, সমঝোতা স্মারকের পঞ্চম অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার কথা থাকলেও, উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে এ শর্ত লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছে।

ইরান দাবি করছে, অন্তর্বর্তী শান্তি চুক্তির আওতায় হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং কোন রুট ব্যবহার হবে তা নির্ধারণের অধিকার তাদের রয়েছে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছেন, বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সব দেশের জাহাজের জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানি জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করেছে।

এদিকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তাদের নৌবাহিনী কুয়েতের আল-আহমাদি বন্দরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক জ্বালানি স্থাপনা, বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটিতে যুদ্ধবিমান সংযোজন কেন্দ্র এবং জর্ডানের আজরাকে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, ওই হামলায় দুটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ধ্বংস হয়েছে।

অন্যদিকে সেন্টকম জানিয়েছে, সর্বশেষ বিমান হামলায় তারা ইরানের নজরদারি কেন্দ্র, সামরিক রসদ অবকাঠামো, ভূগর্ভস্থ অস্ত্রভাণ্ডার এবং সামুদ্রিক সক্ষমতা লক্ষ্য করে অভিযান পরিচালনা করেছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ