বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬, ১২:৪১ অপরাহ্ন

অভিযুক্ত বিচারকদের সম্পদের হিসাব দিতে চান না সুপ্রিম কোর্ট

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬
  • ১ বার

বিচার বিভাগে ঘুষ ও দুর্নীতির অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এসব অভিযোগের কোনো শেষ পরিণতি দেখা যায় না। সুনির্দিষ্ট তথ্য-প্রমাণের অভাবে একসময় বাতাসে ভেসে বেড়ানো এসব অভিযোগ বাতাসেই মিলিয়ে যায়। তবে চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর, দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) কাছে অর্ধশত বিচারকের বিরুদ্ধে দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট অভিযোগ জমা পড়ে। এর মধ্যে অন্তত ১৫ জন বিচারকের সম্পদের বিবরণী চেয়ে গত বছর এপ্রিলে আইন ও বিচার বিভাগের সচিবের কাছে চিঠি পাঠায় দুদক।

আইন অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের সঙ্গে পরামর্শ করে বিচারকদের বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করে থাকে সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। যথারীতি এ সম্পদ বিবরণীর তথ্য প্রেরণে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাওয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। তবে গত এপ্রিলে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন এক সিদ্ধান্তে অভিযুক্ত বিচারকদের সম্পদের হিসাব বিবরণী দুদকে পাঠাতে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করেনি বলে জানিয়ে দিয়েছে। ফলে অভিযুক্ত বিচারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত এক ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। সুপ্রিম কোর্ট, দুদক ও মন্ত্রণালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে কী কারণে অভিযুক্ত বিচারকদের তথ্য দুদককে দিতে নারাজ, সে ব্যাপারে সুপ্রিম কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য নেওয়ার জন্য সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলের দপ্তর ও গণসংযোগ কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কোনো বিচারকের বিরুদ্ধে ঘুষ-দুর্নীতির অভিযোগ উঠলে তার অনুসন্ধান ও তদন্ত দুদক করতে পারে। সেই কাজে দুদক যে কোনো কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাইতে পারে। দুদক আইন ২০২৪ এর ১৯ (১) ধারায় অভিযোগের অনুসন্ধান-সংক্রান্ত বিশেষ ক্ষমতার ব্যাপারে বলা হয়েছে, দুর্নীতি সম্পর্কিত কোনো অভিযোগের অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে কমিশনের সাক্ষীর প্রতি নোটিশ জারি ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা; কোনো দলিল উদ্ঘাটন এবং উপস্থাপন করা; সাক্ষ্য গ্রহণ; কোনো আদালত বা অফিস থেকে পাবলিক রেকর্ড বা তার অনুলিপি তলব করা: সাক্ষীর জিজ্ঞাসাবাদ এবং দলিল পরীক্ষা করার জন্য জারি করতে পারবে। ১৯ (২) ধারায় বলা হয়েছে, কমিশন, যে কোনো ব্যক্তিকে অনুসন্ধান বা তদন্ত সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কোনো তথ্য সরবরাহ করার জন্য নির্দেশ দিতে পারবে এবং অনুরূপভাবে নির্দেশিত ব্যক্তি তার হেফাজতে রক্ষিত উক্ত তথ্য সরবরাহ করতে বাধ্য থাকবেন।

এর আগে ২০১৭ সালের ২ মার্চ আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ তুলে তার বিরুদ্ধে অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের কাছে কাগজপত্র চেয়ে চিঠি দেয় দুদক। এর জবাবে ওই বছরের ২৮ এপ্রিল আপিল বিভাগের তখনকার অতিরিক্ত রেজিস্ট্রার অরুণাভ চক্রবর্তী স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে বলা হয়, সাবেক বিচারপতি জয়নুল আবেদীনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলে তার দেওয়া রায়গুলো প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে। তার বিরুদ্ধে দুদকের কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ সমীচীন হবে না বলে সুপ্রিম কোর্ট মনে করেন। কোনো বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অসদাচরণ, দুর্নীতি বা অন্য কোনো অভিযোগ উত্থাপিত হলে সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ ছাড়া তার প্রাথমিক তদন্ত বা অনুসন্ধান না করার জন্য আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয় সুপ্রিম কোর্টের ওই চিঠিতে। সুপ্রিম কোর্টের ওই চিঠি তখন সংসদ অধিবেশনে কড়া সমালোচনার মুখে পড়ে।

এরপর আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান তপাদার সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন থেকে দুদকে পাঠানো চিঠির বিষয়টি হাইকোর্টের নজরে আনেন। হাইকোর্ট সুয়োমটো রুল জারি করেন। সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের দেওয়া ওই চিঠি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল দেন তৎকালীন বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সহিদুল করিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ। পরে তিনজন অ্যামিকাস কিউরির বক্তব্য শুনে হাইকোর্ট ওই রুল নিষ্পত্তি করে রায় দেন।

হাইকোর্টের ওই রায়ে বলা হয়, চিঠিটি শুধু আপিল বিভাগের প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অংশ হিসেবে তার কার্যালয় থেকে জারিকৃত একটি সরকারি যোগাযোগ মাত্র; কোনোভাবেই এটিকে সুপ্রিম কোর্টের মতামত বা অভিমত হিসেবে গণ্য করা যায় না। পত্রটি দেশের সর্বোচ্চ আদালতের ভাবমূর্তি, মর্যাদা ও সম্মান জনসাধারণের দৃষ্টিতে ক্ষুণ্ন ও কলঙ্কিত করেছে। চিঠিটি এমন একটি বার্তা দেওয়ার প্রবণতা প্রকাশ করে যে, সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক ফৌজদারি বিচারের আওতার বাইরে। কিন্তু বাস্তবে, রাষ্ট্রপতি ব্যতীত—এবং তাও কেবল তিনি দায়িত্বে অধিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় ব্যতীত কেউই ফৌজদারি বিচারের দায় থেকে অব্যাহতি পেতে পারেন না।

রায়ে আরও বলা হয়, সুপ্রিম কোর্টের কোনো অবসরপ্রাপ্ত বিচারকের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান বা তদন্ত পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারী সংস্থা বা কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত সতর্ক ও সজাগ থাকতে হবে। বিচার বিভাগের মর্যাদা, সম্মান এবং জনগণের ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা বিবেচনায় রেখে এমনভাবে তদন্ত পরিচালনা করতে হবে, যাতে কোনো ব্যক্তিকে অসৎ উদ্দেশ্যে অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বা অপমানের শিকার হতে না হয়। এই রায়ের পর সাবেক ওই বিচারপতির বিরুদ্ধে দুদক অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা করে। এরপর সাবেক প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বিরুদ্ধেও দুদক অনুসন্ধান, তদন্ত ও মামলা করেছে। এ অবস্থায় অধস্তন আদালতের বিচারকদের বিরুদ্ধে তথ্য না দিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত চিঠি ফের আলোচনায় এসেছে।

এ ব্যাপারে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ও দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান কালবেলাকে বলেন, ‘দুর্নীতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের স্বার্থে আইনসম্মত অবস্থান থেকে দুদক যদি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য আবেদন করে থাকে তাহলে তা সরবরাহ করতে হবে। গ্রহণযোগ্য ব্যাখ্যা ছাড়া আদালতের অপারগতা ন্যায়বিচার ও আদালতের মৌলিক নীতি ও চেতনার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হবে। দুর্নীতি ও অনিয়মের জবাবদিহি ও ন্যায়বিচারের চূড়ান্ত রক্ষক ও আশ্রয়স্থল হিসেবে এ ধরনের স্ববিরোধী অবস্থান একদিকে যেমন বিব্রতকর ও আত্মঘাতী, অন্যদিকে তেমনি দুর্নীতির সহায়ক। বিচার বিভাগের সর্বোচ্চ স্বাধীনতার চেতনা ও অভীষ্টের সঙ্গে দুর্নীতি দমনে আইনগতভাবে বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দুদকের দায়িত্ব পালনে আদালতের সহায়ক ভূমিকা সাংঘর্ষিক নয়, বরং পরিপূরক। আদালত কর্তৃক বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি রাখে।’

দুদকের সাবেক মহাপরিচালক (লিগ্যাল অ্যান্ড প্রসিকিউশন) এবং অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মঈদুল ইসলাম কালবেলাকে বলেন, ‘দুদক সরকারের যে কোনো অঙ্গের কাছ থেকে, যে কোনো সংস্থার কাছ থেকে সহযোগিতা চাইতে পারে। তথ্য চাইতে পারে এবং যদি চায় সেটা দেওয়াটা তাদের দায়িত্ব কর্তব্য, যা আছে সেটাই দেওয়া। এই ক্ষেত্রে সুপ্রিম কোর্টও ব্যতিক্রম নয়। সরকারের আইন মন্ত্রণালয়ও ব্যতিক্রম নয়।’ তিনি আরও বলেন, এখন সুপ্রিম কোর্ট তথ্য যদি না দেয়, সেক্ষেত্রে দুদক তাদের পরবর্তী সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে। সেটা তারা নিজস্বভাবে অনুসন্ধান করতে পারে। এই তথ্য যে একেবারে অপরিহার্য—বিষয়টি তেমন নয়। দুদককে প্রমাণ করতে হবে যে অভিযুক্ত যাকে করছে, তার সম্পদের হেরফেরা আছে কি না। তাহলেই তারা পরবর্তী ধাপে যেতে পারবে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সাবেক ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. বদিউজ্জামান তপাদার হাইকোর্টের রায়ের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরে কালবেলাকে বলেন, ‘এ ধরনের চিঠির বৈধতা নিয়ে এর আগে হাইকোর্টের রায় হয়ে আছে। ওটা সংবিধানের ১১১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সারা দেশের জন্য একটি আইন। রায়টা পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত সবাই তা মানতে বাধ্য। যতক্ষণ না রায়টা আপিল বিভাগ ওভাররুল (অকার্যকর) করবে। আপিল বিভাগ থেকে রায়টা অকার্যকর না করা পর্যন্ত সেটা বহাল হয়ে আছে। তিনি আরও বলেন, প্রশাসনিক আদেশবলে এ ধরনের তথ্য সুপ্রিম কোর্ট কর্তৃপক্ষ দিতে বাধ্য। সেটা না দিলে যে কেউ আবার চ্যালেঞ্জ করতে পারবে। যেহেতু নজির হয়ে আছে, চ্যালেঞ্জ করলে এই চিঠিও অবৈধ হবে।’

অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত বছরের ২৪ এপ্রিল দুদক আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব (প্রশাসন) বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার সাবেক মুখ্য মহানগর হাকিম (সিএমএম) রেজাউল করিম চৌধুরী ও সাবেক অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম (এসিএমএম) মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর ও তাদের পরিবারের অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সূত্র ধরে মোট ১৫ জন বিচারকের ব্যক্তিগত নথিসহ সম্পদের বিবরণী তলব করে দুদক। দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর অনুসন্ধান টিমের পাঠানো চিঠিতে অনুসন্ধান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্টদের পার্সোনাল ফাইল, ডাটাশিট এবং সর্বশেষ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর অনুলিপি ওই বছরের ২৯ এপ্রিলের মধ্যে দাখিলের জন্য অনুরোধ করা হয়।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৪ সালে তৎকালীন সরকারের আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পান আনিসুল হক। তার সময় থেকে ধীরে ধীরে কলুষিত হতে থাকে বিচার বিভাগ। আইন মন্ত্রণালয়, ঢাকা এবং এর আশপাশের আদালতে কর্মরত বেশকিছু বিচারক মন্ত্রীর আস্থাভাজন হয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার, নানা ঘুষ-দুর্নীতি, প্রতারণা ও জালিয়াতিতে জড়িয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের সাবেক যুগ্ম সচিব বিকাশ কুমার সাহা, ঢাকার সাবেক সিএমএম রেজাউল করিম চৌধুরী ও সাবেক এসিএমএম মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধান করা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ঘুষ গ্রহণ, অপরাধমূলক অসদাচরণ ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ উপার্জন করে নিজ নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগটির সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে আরও ১২ জন বিচারকের সম্পদ বিবরণী ও রেকর্ডপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

দুদকের ওই চিঠিতে আরও যাদের নথি ও সম্পদ বিবরণী তলব করা হয় তারা হলেন, সে সময়কার কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক শেখ গোলাম মাহবুব, কিশোরগঞ্জের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাহবুবুর রহমান সরকার, সিলেটের সাবেক জেলা জজ মনির কামাল, সাবেক ঢাকা মহানগর আদালতের সাবেক অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট তোফাজ্জল হোসেন, মাগুরার সাবেক অতিরিক্ত জেলা জজ মুশফিকুর ইসলাম, গাজীপুরের সাবেক চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাইসারুল ইসলাম, নরসিংদীর সাবেক চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোল্লা সাইফুল আলম, ময়মনসিংহের সাবেক বিশেষ জজ ফারহানা ফেরদৌস, শেরপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালের সাবেক জজ কামরুন নাহার রুমি, ঢাকার সাবেক অতিরিক্ত জেলা জজ শওকত হোসেন, সিরাজগঞ্জের সাবেক অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মদ এরফান উল্লাহ ও হবিগঞ্জ জেলা জজ সাইফুল আলম চৌধুরী।

দুদকের পাঠানো চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ২৬ মে আইন মন্ত্রণালয় থেকে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনে একটি চিঠি পাঠানো হয়। তাতে বলা হয়, এসব কর্মকর্তাগণের কোনো ব্যক্তিগত নথি ও পার্সোনাল ডাটাশিট আইন ও বিচার বিভাগ কর্তৃক সংরক্ষণ করা হয় না। সে কারণে ব্যক্তিগত নথি ও পার্সোনাল ডাটাশিট দুর্নীতি দমন কমিশনে প্রেরণ করার সুযোগ নেই। এসব কর্মকর্তার মধ্যে ২ নং ক্রমিকের কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর ব্যতীত অপর কর্মকর্তাদের সর্বশেষ দাখিলকৃত সম্পদের বিবরণী আইন ও বিচার বিভাগে সংরক্ষিত রয়েছে। এ অবস্থায় ২ নং ক্রমিকের কর্মকর্তা ব্যতীত অপর কর্মকর্তাদের সর্বশেষ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীর কপি দুদকের অনুরোধের প্রেক্ষিতে কমিশনে প্রেরণের বিষয়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাওয়া হয়।

এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন আইন ও বিচার বিভাগকে গত বছরের ২৫ আগস্ট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব পুনরায় প্রেরণের পরামর্শ প্রদান করে। এরপর আইন ও বিচার বিভাগ গত ৮ ফেব্রুয়ারি এক চিঠিতে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনকে জানায়, ১৫ কর্মকর্তার মধ্যে মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান নূর ব্যতীত অভিযুক্ত তিন কর্মকর্তার মধ্যে দুজন এবং তাদের অভিযোগ অনুসন্ধানের স্বার্থে সাক্ষ্য হিসেবে অপর ১২ জন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তার দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী দুদকে প্রেরণ করার জন্য সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসনের পরামর্শ চাওয়া হয়। এরপর গত মাসে সুপ্রিম কোর্ট প্রশাসন বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণী দুদকে প্রেরণ করতে সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে একমত পোষণ করে না বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ