বর্তমানে চীন সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় রাত ১১টা ৫ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী ও তার সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমানকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি বিশেষ ফ্লাইট দালিয়ান ঝুশুইজি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে সুযোগ হিসেবে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ শক্তিশালী করার প্রত্যাশা করছে বেইজিং।
একই সঙ্গে ঐতিহ্যগত বন্ধুত্বকে এগিয়ে নেওয়া, বেল্ট অ্যান্ড রোড (বিআরআই) উদ্যোগের আওতায় উচ্চমানের সহযোগিতা ত্বরান্বিত, সব খাতে পারষ্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, বহুপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয়ে সমন্বয় জোরদার এবং চীন-বাংলাদেশ ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশাও করছে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের এই মিত্র দেশ।
সোমবার বেইজিংয়ে নিয়মিত এক সংবাদ সম্মেলনে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গুও জিয়াকুন এসব প্রত্যাশার কথা জানান।
চীনের স্টেট কাউন্সিলের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াংয়ের আমন্ত্রণে এই সফর করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তার সফর নিয়ে চীনা সংবাদমাধ্যম ‘চায়না ডেইলি’র সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে গুও জিয়াকুন বলেন, “দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম সফর চীন এটি। সফরকালে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং এবং জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান ঝাও লেজি পৃথকভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও বৈঠক করবেন। এসব বৈঠকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক বিভিন্ন বিষয়ে গভীর মতবিনিময় হবে। দুই দেশের নেতারা চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণ করবেন।”
এ সফরের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চীনের দালিয়ান শহরে অনুষ্ঠিতব্য সামার দাভোস ২০২৬ সম্মেলনেও অংশ নেবেন বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, “চীন ও বাংলাদেশ ঐতিহ্যগতভাবে বন্ধুত্বপূর্ণ প্রতিবেশী এবং ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতার অংশীদার। গত কয়েক বছরে দুই দেশের নেতাদের কৌশলগত দিকনির্দেশনায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ধারাবাহিকভাবে আরও শক্তিশালী হয়েছে। রাজনৈতিক পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি পেয়েছে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে, যা দুই দেশের জনগণের জন্য দৃশ্যমান সুফল বয়ে এনেছে।”
গুও জিয়াকুন বলেন, “চীন আশা করছে, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশের নতুন সরকারের সঙ্গে কৌশলগত যোগাযোগ আরও জোরদার হবে, ঐতিহ্যবাহী বন্ধুত্ব আরও এগিয়ে নেওয়া যাবে, উচ্চমানের বেল্ট অ্যান্ড রোড সহযোগিতা সম্প্রসারিত হবে এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে পারস্পরিক বিনিময় ও সহযোগিতা বাড়বে।”
এছাড়া বহুপক্ষীয় বিষয়ে দুই দেশ আরও ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশের ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে প্রত্যাশা করছে বেইজিং, বলেন তিনি