সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ০৮:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
দুই বছর কঠিন সময় যাবে, সবাইকে কষ্ট করতে হবে : অর্থমন্ত্রী তৃণমূলের চেয়ারম্যান পদ থেকে সরানো হলো মমতাকে, বিদ্রোহীদের নতুন কমিটি গঠন মাদ্রাসা শিক্ষকদের বেতন জুলাইতে পরিশোধ করা হবে: শিক্ষামন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিশেষ ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতা পাচ্ছে ৬ জেলায় ঘোষণায় রাবি ছাত্রদল সভাপতি,নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ধরিয়ে দিলে ১০ হাজার টাকা পুরস্কার চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ৬ জেলায় সেনা মোতায়েন করা হয়েছে দেশে উত্তোলনযোগ্য গ্যাসের মজুদের পরিমাণ জানালেন খনিজসম্পদ মন্ত্রী হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু সংসদে জানালেন তথ্যমন্ত্রী,চলতি বছর বিটিভির আয় ৮ কোটি টাকা, ব্যয় ২৫৪ কোটি

ছাত্রীকে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক অবরুদ্ধ, মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬
  • ০ বার

ফরিদপুরের ভাঙ্গায় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীকে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে এক সহকারী শিক্ষককে ৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা। বিচারের আশ্বাসে পুলিশ ওই শিক্ষককে আটক করে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় আপাতত মাদ্রাসা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।আজ সোমবার সকালে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কালামৃধা ইউনিয়নের ভরিলহাট দাখিল মাদ্রাসায় এই ঘটনা ঘটে।

অভিযুক্ত ব্যক্তির নাম আমির হোসেন। তিনি ভরিলহাট দাখিল মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক। তার বাড়ি সালথা উপজেলায়।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার ক্লাসের সময় তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর গায়ে হাত দেওয়ায় ওই ছাত্রী তার পরিবারকে জানায়। আজ সোমবার সকালে ওই ছাত্রীর আত্মীয়স্বজনেরা বিচার দাবি করতে মাদ্রাসায় যান। পরে আত্মীয়-স্বজনরা মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজামুদ্দিনকে মারধর করে। তখন মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্র ক্ষুব্ধ হয়ে তাদের ধাওয়া করে।

এ সময় ওই ছাত্রীর স্বজনেরা এলাকায় গুজব ছড়ায়, তাদের মেয়েকে ধর্ষণের চেষ্টার বিচার চাইতে গেলে, তাদেরকে উল্টো মারধর করা হয়েছে। এই খবর ছড়ালে এলাকাবাসী ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসা ঘেরাও করে। অবস্থা বেগতিক হলে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন।

তখন নারীরা ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ঝাড়ু মিছিল বের করে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর্যন্ত জনগণের রোষানলে পড়ে পুলিশ। ওই শিক্ষককে বিচারের আওতায় নিয়ে বিচারের আশ্বাস দিয়ে অবশেষে পুলিশ তাকে আটক করে থানা হেফাজতে নেয়।

এ বিষয়ে দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার নিজামুদ্দিন বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ পেলে আমি আজ সকালে সুরাহার জন্য স্থানীয়দের ডাকি, ওই ছাত্রীর আত্মীয়স্বজন এসে আমার গায়ে হাত দিলে সবাই ক্ষিপ্ত হয়, ওই আত্মীয়-স্বজনরা উল্টোদিকে ষড়যন্ত্র করে এলাকার গুজব রটিয়ে মাদ্রাসার ওপর আক্রমণ করেছে, এটা সম্পূর্ণ ষড়যন্ত্রমূলক। ওই শিক্ষকের নামে যে অভিযোগ তুলেছে, আমির হোসেন গতকাল ক্লাস করেন নাই।‘

অন্যদিকে মাদ্রাসার সভাপতি মাওলানা মহিউদ্দিন জানান, তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর অভিভাবকরা অন্য এলাকা থেকে লোক ভাড়া করে এনে ভারপ্রাপ্ত সুপারের গায়ে হাত তুলে, তখন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র শিক্ষক সবাই ক্ষেপে যায়, যারা মাদ্রাসায় এই কাণ্ড ঘটিয়েছে তারা সবাই অন্য এলাকার।

এ বিষয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য সোলেমান জানান, আমির হোসেন নামের ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একটি মেয়ের গায়ে হাত দেওয়ায় কথা ছড়িয়ে পড়লে জনগণ ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষককে অবরুদ্ধ করে রাখে।

এদিকে স্থানীয় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেজাউল মাতুব্বর জানান, স্থানীয় বাসিন্দা মাদ্রাসা সুপারের গায়ে হাত দেওয়ায় গণ্ডগোল ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রীর গায়ে হাত দিলে, এর বিচার আছে। কিন্তু প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত দেওয়াটা অপরাধ।

এ বিষয়ে ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, ‘তৃতীয় শ্রেণীর এক ছাত্রীর বিষয়টি নিয়ে আজ সকালে আত্মীয়-স্বজন মাদ্রাসায় বিচার চাইতে গিয়ে প্রধান শিক্ষকের গায়ে হাত দেয়। এবং জনসাধারণদের জড়ো করে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। আমরা শিক্ষককে থানা হেফাজতে নিয়েছি, অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

ঘটনার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাদ্রাসাটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ