ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর ফুটবলে ইতিহাস রচনা করলেন ইয়োয়ানে উইসা। বিশ্বকাপে শক্তিশালী প্রতিপক্ষ পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে তিনি দলের প্রথম গোলটি করেন, যা কঙ্গোর জন্য বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম গোল হিসেবে রেকর্ড হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অনুষ্ঠিত ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই কর্নার থেকে হেডে গোল করেন ২৯ বছর বয়সী নিউক্যাসল ইউনাইটেডের এই ফরোয়ার্ড। তার এই গোলের মাধ্যমে ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফেরা কঙ্গো সমতায় ফিরে আসে।
এর আগে ম্যাচের ষষ্ঠ মিনিটেই পর্তুগালের হয়ে গোল করেন জোয়াও নেভেস। ফলে শুরুতেই এগিয়ে যায় ইউরোপীয় পরাশক্তি দলটি। তবে উইসার গোল পুরো ম্যাচে নতুন উত্তেজনা তৈরি করে এবং দর্শকদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ছড়িয়ে দেয়।
উইসার এই অর্জন আরও বিশেষ হয়ে ওঠে তার জীবনের ভয়াবহ এক ঘটনার পর। প্রায় পাঁচ বছর আগে এক হামলার শিকার হন তিনি, যেখানে তার চোখে অ্যাসিড নিক্ষেপ করা হয়। সেই হামলায় তিনি গুরুতরভাবে আহত হন এবং জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হয়।
২০২১ সালের জুলাই মাসে এক নারী তার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে থামাতে গেলে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। পরের দিন একই ব্যক্তি আরেকজনকেও আক্রমণ করে এবং পরে তাকে শনাক্ত করা হয়। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হামলাকারীকে ১৮ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
এই ঘটনার পর উইসা ছয় মাস চিকিৎসাধীন ছিলেন এবং মানসিকভাবে ভীষণভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তবুও তিনি পেশাদার ফুটবলে ফিরে আসেন এবং নিজের ক্যারিয়ার চালিয়ে যান।
তার সাবেক ক্লাবের কোচ ও সতীর্থরা জানান, কঠিন সেই সময়েও উইসা কখনোই হাল ছাড়েননি। বরং দৃঢ় মনোবল নিয়ে তিনি আবারও নিজেকে প্রমাণ করেছেন।
ম্যাচে পর্তুগালের গোলটি করেন জোয়াও নেভেস, যা দলের প্রয়াত সতীর্থ দিয়োগো জোতার স্মরণে আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় জোতার প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয় এবং খেলোয়াড়রা কালো আর্মব্যান্ড পরেন।
উইসা আদালতে দেওয়া সাক্ষ্যে জানান, হামলার পর তিনি দীর্ঘদিন আতঙ্ক ও অনিদ্রায় ভুগেছেন। তিনি বলেন, তিনি এখনো অচেনা মানুষের ভিড়ে অস্বস্তি বোধ করেন এবং রাতে একা থাকতে পারেন না।
তিনি আরও জানান, তার সন্তানরা তার মুখের দাগ নিয়ে প্রশ্ন করে, কিন্তু তারা ছোট হওয়ায় পুরো ঘটনা বোঝানো সম্ভব হয়নি।
সব কষ্ট আর সংগ্রাম পেছনে ফেলে উইসা এখন নিজের দেশের জন্য বিশ্বমঞ্চে নায়ক হয়ে উঠেছেন, যার গোল কঙ্গোর ফুটবলে এক নতুন ইতিহাসের সূচনা করেছে।