জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলায় মদদ দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষক ও কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল সোমবার দুপুর ৩টায় শুরু হয়ে দিবাগত রাত প্রায় ৪টা পর্যন্ত চলা সিন্ডিকেট সভায় এ সংক্রান্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, অভিযুক্ত ২১ জন শিক্ষক ও দুই কর্মকর্তার মধ্যে একজন শিক্ষককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া ৯ জন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তার পদাবনতি ও বেতন অবনমন করা হয়েছে। দুজন শিক্ষককে সতর্ক করা হয়েছে এবং সাতজন শিক্ষক ও একজন কর্মকর্তাকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শাস্তিপ্রাপ্তদের মধ্যে ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মেহেদী ইকবালকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে।
অধ্যাপক মোহাম্মদ মোস্তফা ফিরোজের বেতন ৫ বছরের জন্য দ্বিতীয় গ্রেডে নামিয়ে আনা হয়েছে। সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক আলমগীর কবিরকে প্রারম্ভিক স্কেলে বেতন নির্ধারণের পাশাপাশি আগামী ৫ বছর কোনো প্রশাসনিক দায়িত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ইস্রাফিল আহমেদ রঙ্গনের বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া সমাজবিজ্ঞান অনুষদের তৎকালীন ডিন অধ্যাপক বশির আহমেদ এবং সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আ স ম ফিরোজ-উল-হাসানের বেতন প্রারম্ভিক স্কেলে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তাদের ৫ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হবে। বাংলা বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল হোসেন তালুকদারের দুই বছরের ইনক্রিমেন্ট কমিয়ে বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে। পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিকস বিভাগের অধ্যাপক তাজউদ্দীন শিকদারের বেতনও প্রারম্ভিক স্কেলে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং তিনি ৫ বছর প্রশাসনিক দায়িত্ব পাবেন না।
নাটক ও নাট্যতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মহিবুর রৌফ শৈবালকে প্রভাষক পদে পদাবনতি দেওয়া হয়েছে। অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস বিভাগের প্রভাষক কানন কুমার সেনের দুই বছরের ইনক্রিমেন্ট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক হোসনে আরা এবং পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক এ এ মামুনকে সতর্ক করা হয়েছে। একই সঙ্গে অধ্যাপক এ এ মামুন আগামী ৫ বছর কোনো প্রশাসনিক পদে দায়িত্ব পাবেন না।
তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় ইনস্টিটিউট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (আইবিএ) সহকারী অধ্যাপক পলাশ সাহা, পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফি মোহাম্মদ তারেক, পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক জহিরুল ইসলাম খোন্দকার, অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম, লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মনির উদ্দিন শিকদার, লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ ছায়েদুর রহমান এবং মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক আনোয়ার খসরু পারভেজকে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দাবি, তদন্ত প্রতিবেদনের সুপারিশ ও সিন্ডিকেট সদস্যদের মতামতের ভিত্তিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের সময় আন্দোলনরত শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ বিচার প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।