বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০:২১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
বিএনপি নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদের জানাজায় প্রধানমন্ত্রী টঙ্গীর ওষুধ কারখানার আগুন ছড়িয়েছে পাশের ভবনে, নিয়ন্ত্রণে ১৪ ইউনিট মধ্যপ্রাচ্যে ফের যুদ্ধের ঘনঘটা সংঘাতের মধ্যে ইয়েমেনে বেড়েছে কলেরার প্রকোপ, সতর্কবার্তা ডব্লিউএইচওর দাওয়াতি সফরে যুক্তরাষ্ট্রে গেলেন চরমোনাই পীর ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৬টি ফ্লাইট বাতিল, অনিশ্চয়তায় ১৩ হাজার ৪৯০ যাত্রী প্রথম ধাপে ৮শ’ ইউপিতে ভোট, প্রভাব বিস্তার ও বিশৃঙ্খলায় তাৎক্ষণিক শাস্তির বিধান সাবেক সংসদ সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদের মৃত্যুতে স্পিকারের শোক নতুন বিধি করে চাকরিতে পদোন্নতির অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না : হাইকোর্ট সমু চৌধুরীকে পিটিয়ে জখমের ঘটনায় গ্রেপ্তার ১

ব্রিটেনের যুদ্ধ-সাহায্য ছুড়ে ফেললেন ট্রাম্প

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৮ মার্চ, ২০২৬
  • ২২৪ বার

ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাজ্যের বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের প্রস্তাব সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই মুহূর্তে লন্ডনের কোনো সামরিক সহায়তার প্রয়োজন ওয়াশিংটনের নেই।

শনিবার (৭ মার্চ) যুক্তরাজ্যের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাদের অন্যতম প্রধান রণতরী এইচএমএস প্রিন্স অব ওয়েলস-কে উচ্চ সতর্কতায় রাখার ঘোষণা দেওয়ার পর ট্রাম্পের এই কড়া প্রতিক্রিয়া এলো।

যুক্তরাজ্যকে একসময়ের সেরা মিত্র হিসেবে সম্বোধন করে ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেন, আমাদের একসময়ের মহান মিত্র ‘সম্ভবত সর্বশ্রেষ্ঠ’ যুক্তরাজ্য অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী পাঠানোর কথা গুরুত্ব দিয়ে ভাবছে। এটা ঠিক আছে প্রধানমন্ত্রী স্টারমার, আমাদের এখন আর এগুলোর প্রয়োজন নেই। তবে আমরা মনে রাখব। আমরা এমন কাউকে চাই না যারা যুদ্ধ জয়ের পর তাতে যোগ দিতে আসে!

বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্যে দুই দেশের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান কূটনৈতিক ফাটল আরও স্পষ্ট হয়েছে। গত বছরের শুরুতে ট্রাম্প পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই লন্ডনের সঙ্গে ওয়াশিংটনের সম্পর্কের টানাপোড়েন শুরু হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের শুরু করা হামলা এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। ইরানে এখন পর্যন্ত আনুমানিক ১ হাজার ৩৩২ জন নিহত হয়েছেন এবং ৬ জন মার্কিন সেনার মৃত্যু নিশ্চিত করেছে পেন্টাগন। সংঘাতের প্রভাব পড়েছে লেবানন, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকেও।

এদিকে, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী অবৈধ হিসেবে বিবেচিত এই যুদ্ধে যুক্তরাজ্যের অংশগ্রহণ নিয়ে খোদ ব্রিটেনের ভেতরেই তীব্র সমালোচনা চলছে। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার শুরুতে যুদ্ধে সরাসরি অংশ নিতে দ্বিধাগ্রস্ত থাকলেও, সম্প্রতি ডিয়েগো গার্সিয়া ও আরএএফ ফেয়ারফোর্ড সামরিক ঘাঁটিগুলো যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন। তবে স্টারমার সংসদে দাবি করেছেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক অভিযানে যোগ দিচ্ছি না; কেবল ব্রিটেনের জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছি।’

জনমত জরিপ সংস্থা সারভেশন-এর সাম্প্রতিক তথ্যমতে, ৪৩ শতাংশ ব্রিটিশ নাগরিক এই যুদ্ধকে অযৌক্তিক মনে করেন। এছাড়া ৫৬ শতাংশ নাগরিক শুরুতে মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারে অনুমতি না দেওয়ার স্টারমারের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী স্টারমারের নেতৃত্ব নিয়ে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ট্রাম্প। সম্প্রতি জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎজের উত্তরসূরি ফ্রিডরিখ মার্জের সঙ্গে এক বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, ‌‘আমরা কোনো উইনস্টন চার্চিলের সঙ্গে কাজ করছি না।’ ট্রাম্পের মতে, মরিশাসের কাছে চাগোস দ্বীপপুঞ্জ হস্তান্তর করা স্টারমারের এক ‘চরম বোকামি’।

মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান কেবল যুক্তরাজ্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। শনিবার লাতিন আমেরিকার ডানপন্থী নেতাদের এক সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, প্রয়োজনে পাশে পাওয়া যায় না এমন পুরোনো মিত্রদের বদলে ওয়াশিংটন এখন রাজনৈতিকভাবে সমমনা নতুন বন্ধুদের গুরুত্ব দেবে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ