অ্যানফিল্ডে লিভারপুলের বিপক্ষে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। ১০ জনের লিভারপুলকে ৩-০ গোলে হারিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে নিজেদের শতভাগ জয়ের ধারা ধরে রেখেছে সিটিজেনরা।
প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের ১১৪টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর এই প্রথম মাঠে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। অ্যানফিল্ডে স্বাগতিক সমর্থকদের তীব্র বিদ্রূপ ও ক্ষোভের মুখেও দারুণ পারফরম্যান্স উপহার দেয় তারা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে দুই দলই গোলের সুস্পষ্ট সুযোগ তৈরিতে ব্যর্থ হয়। গ্যালারি থেকে প্রতিবার সিটির খেলোয়াড়দের উদ্দেশে তীব্র দুয়োধ্বনি ভেসে এলেও ধীরে ধীরে সেই চাপ সামলে নেয় সফরকারীরা। ফলে গোলশূন্য সমতায় বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর আক্রমণাত্মক শুরু করে লিভারপুল। অল্প সময়ের ব্যবধানে লুইস কোমাস ও রায়ান গ্রাভেনবার্গের দূরপাল্লার দুটি শট ঠেকিয়ে দেন সিটির গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি দোন্নারুম্মা। এরপর অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের একটি শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়।
তবে ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় ৬২ মিনিটে। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন গ্রাভেনবার্গ। ফলে ১০ জনের দলে পরিণত হয় লিভারপুল। সংখ্যায় পিছিয়ে পড়ার মাত্র তিন মিনিট পরই এর খেসারত দিতে হয় স্বাগতিকদের।
৬৫ মিনিটে সিটির হয়ে গোলের সূচনা করেন আর্লিং হলান্ড। সতীর্থ জেরেমি ডোকুর শট ফিরিয়ে দেন লিভারপুলের গোলরক্ষক। ফিরতি বল পেয়ে জোরালো শটে জাল খুঁজে নেন হলান্ড। এর আগে অবশ্য গোলের সহজ একটি সুযোগ নষ্ট করেছিলেন এই নরওয়েজীয় তারকা।
এর তিন মিনিট পরই ব্যবধান দ্বিগুণ করেন ডোকু। বক্সের বাইরে থেকে তার দুর্দান্ত বাঁকানো শট লিভারপুলের গোলরক্ষককে পরাস্ত করে জালে জড়ায়। ম্যাচের ৭৮ মিনিটে ব্যবধান আরও বাড়ান রায়ান শেরকি। লিভারপুলের রক্ষণভাগের আড়াল থেকে বেরিয়ে এসে কাছ থেকে বল জালে ঠেলে দেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ৩-০ গোলের বড় জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে ম্যানচেস্টার সিটি। লিগে ছয় ম্যাচের ছয়টিতেই জিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে তারা। অন্যদিকে, হারের ধাক্কায় পয়েন্ট তালিকার নবম স্থানে নেমে গেছে লিভারপুল।
অ্যানফিল্ডে লিগের সর্বশেষ হারটিও লিভারপুলের কাছে ছিল ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে। গত ফেব্রুয়ারিতে সেই ম্যাচে ২-১ গোলে হেরেছিল তারা। এবার নিজেদের মাঠে তিন গোল হজম করে আরও বড় ব্যবধানে হারল লিভারপুল।