সৌদি আরবের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও হামলার ঘটনা ঘটেছে। রোববারের এ হামলায় একজন নিহত ও ১১ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। কাতারভিত্তিক বার্তাসংস্থা আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
সৌদি আরবের জেনারেল অথরিটি অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (জিএসিএ) জানিয়েছে, নিহত ব্যক্তি পাকিস্তানের একজন প্রবাসী। আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিমানবন্দরের ৩ ও ৪ নম্বর টার্মিনালে এ হামলা হয়। টার্মিনাল দুটি অভ্যন্তরীণ ফ্লাইট পরিচালনায় ব্যবহৃত হয়। এর আগের দিন শনিবার হুথি বিদ্রোহীদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় বিমানবন্দরটিতে ১২ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন বলে জানিয়েছিল ইয়েমেনে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে লড়াইরত সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট। ভারতের সৌদি আরবের দূতাবাস জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় আহত দেশটির এক নাগরিক রোববার মারা গেছেন। এতে আগের হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩ জনে দাঁড়িয়েছে।
রোববারের হামলার পর বিমানবন্দরের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণ ও নিরাপত্তা পরীক্ষা শুরু করেছে জিএসিএ।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বিমানবন্দরে থাকা একটি উড়োজাহাজের এক যাত্রী জানান, স্থানীয় সময় রোববার রাত সাড়ে ৮টার দিকে কয়েকটি পার্ক করা উড়োজাহাজের পাশে রানওয়ের ওপর একটি বস্তু আঘাত হানে। এতে সেখানে আগুন ধরে যায়। তখন উড়োজাহাজটি চলাচলের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। পরে সেটিকে আবার নির্ধারিত স্থানে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। যাত্রীদের নামিয়ে বিমানবন্দর ত্যাগ করতে বলা হয়।
গত পাঁচ দিনে চারবার হামলার শিকার হয়েছে রিয়াদের এই বিমানবন্দর। জিএসিএর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হুথিদের হামলায় অন্তত তিন সৌদি নাগরিক নিহত হন, যাদের মধ্যে একজন পাইলট ছিলেন। শনিবারের হামলার পর থেকে বিমানবন্দরটি বন্ধ রয়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর সৌদি আরবে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
রোববারের আগের হামলাগুলোর দায় স্বীকার করেছিল হুথিরা। এসব হামলায় ইয়েমেনের যুদ্ধ আরও তীব্র হওয়ার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীও সংঘাতে জড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হুথিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেবে কি না, তা তিনি বিবেচনা করছেন।
এদিকে সংঘাতের বিস্তার বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ও তেলের দামের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করতে পারে। একই সঙ্গে ইয়েমেন উপকূলের বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাও বাড়ছে। হরমুজ প্রণালির বিকল্প গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালি দিয়ে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে জ্বালানি পরিবহন করা হয়।
ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, হুথিদের বিরুদ্ধে সহায়তা চাওয়া সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে তিনি কথা বলবেন। তবে রোববার পর্যন্ত এ বিষয়ে তার পরবর্তী কোনো পদক্ষেপের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি যুদ্ধে জড়ালে হুথিরা বাব আল-মান্দেব প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করে দিতে পারে। এতে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহ আরও সীমিত হয়ে পড়তে পারে।
গত মাসে হুথিরা প্রণালিটির আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলো দখল করে নেয়। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের অনুগত বাহিনীকে সমর্থন দেওয়া সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট এলাকাগুলো পুনর্দখলের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।