শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১১:০৭ পূর্বাহ্ন

তারেক রহমানের এক দফার ডাক ৬ সমন্বয়কের মুক্তি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬
  • ১ বার

আজ ১ আগস্ট। ২০২৪ সালে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে এ দিনটিকে বলা হয়েছিল ৩২ জুলাই। এ দিন যুক্তরাজ্য থেকে ভিডিও বার্তায় শেখ হাসিনা সরকারের পতনে এক দফার ডাক দেন বিএনপির তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এ দিন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচিতেও দেশের বিভিন্ন স্থানে বাধা দেয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। আবার কোথাও কোথাও পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। কয়েকটি স্থানে বেশকিছু শিক্ষার্থীকে আটক

করা হয়। অন্যদিকে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) হেফাজতে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছয় সমন্বয়ককেও এ দিন মুক্তি দেওয়া হয়। দুপুর দেড়টার দিকে তারা ডিবি কার্যালয় থেকে গাড়িতে করে বের হয়ে যান।

বিএনপির নেতাকর্মীসহ দেশবাসীর উদ্দেশে দেওয়া ভিডিও বার্তায় এ দিন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন, ‘দফা এক দাবি এক, খুনি হাসিনার পদত্যাগ।’ তিনি আরও বলেন, ‘খুনি হাসিনার বিদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবেই চলবে।’ একজন গ্রেপ্তার হলে আরেকজনকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আর কোনো নির্দেশনার প্রয়োজন নেই। একজন গ্রেপ্তার হলে আরেকজন দায়িত্ব নিন। নেতৃত্ব নিন, নেতৃত্ব দিন।

শেখ হাসিনা সরকার আদালতকে ব্যবহার করে তারেক রহমানের বক্তব্য প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় গণমাধ্যমে এ বার্তা প্রকাশিত না হলেও সামাজিক মাধ্যমের বদৌলতে সর্বত্র ছড়িয়ে পড়ে।

প্রসঙ্গত, কোটা সংস্কারের দাবিতে চলা আন্দোলন ১৬ জুলাই সংঘর্ষে রূপ নেয় এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনাকে জুলাই গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। এরপর ২১ জুলাই, সুপ্রিমকোর্টের আপিল বিভাগ হাইকোর্টের রায় বাতিল করে কোটা সংস্কারের পক্ষে রায় দিলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। আন্দোলনকারীরা তখন জানান, তাদের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত জুলাই মাস চলতেই থাকবে। ফলে তারা ১ আগস্টকে ৩২ জুলাই, ২ আগস্টকে ৩৩ জুলাই হিসেবে গণনা শুরু করেন।

২০২৪ সালের এই দিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলা ও মহানগরে কর্মসূচি পালন করেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক, আইনজীবীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এর আগে, ৩১ জুলাই রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ কর্মসূচি ঘোষণা করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। এতে বলা হয়, নির্যাতনের ভয়ংকর দিন-রাতের স্মৃতিচারণ, নিহত ও আহতদের নিয়ে পরিবার ও সহপাঠীদের স্মৃতিচারণ এবং আন্দোলন ঘিরে নির্যাতনের ঘটনা নিয়ে চিত্রাঙ্কন বা গ্রাফিতি, দেয়াল লিখন, ফেস্টুন তৈরি ইত্যাদির মাধ্যমে এ কর্মসূচি পালন করা হবে। সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে অনলাইন ও অফলাইনে এ কর্মসূচি পালনের আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় শহীদ, আহত, পঙ্গু ও গ্রেপ্তার সবার স্মরণে ২ আগস্ট দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। এ দিন সন্ধ্যায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল কাদের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

কর্মসূচি ঘোষণা দিয়ে বিবৃতিতে বলা হয়, জাতির এই দুর্দিনে আন্দোলনে অংশ নেওয়ার অপরাধে শহীদ, আহত, পঙ্গু ও গ্রেপ্তার হওয়া সবার স্মরণে শুক্রবার (৩৩ জুলাই) দেশব্যাপী ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচি ঘোষণা করছি। গণহত্যা ও গণগ্রেপ্তারের প্রতিবাদে এবং শিক্ষার্থীদের ৯ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ২ আগস্ট জুমার নামাজ শেষে দোয়া, শহীদদের কবর জিয়ারত, মন্দির, গির্জাসহ সব উপাসনালয়ে প্রার্থনার আয়োজন করা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল অনুষ্ঠিত হবে।’ শ্রমিক, পেশাজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গণমাধ্যমকর্মী, মানবাধিকারকর্মী, বুদ্ধিজীবী, আলেম-ওলামাসহ বাংলাদেশের সর্বস্তরের নাগরিকদের ‘প্রার্থনা ও ছাত্র-জনতার গণমিছিল’ কর্মসূচিতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।

এ দিন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে নির্বাহী আদেশে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের ১৮ (১) ধারা অনুযায়ী প্রজ্ঞাপন জারির মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী ছাত্রশিবিরকে নিষিদ্ধ করে সরকার। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ৯ দফা দাবির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এ দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের একদল শিক্ষার্থী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিল বের করেন।

এর আগে ‘শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে’ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। এ দিন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়, সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়া ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি)সহ দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘রিমেম্বারিং আওয়ার হিরোজ’ কর্মসূচি পালিত হয়।

এদিকে দেশ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সংবাদ সম্মেলন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আওয়ামীপন্থি নীল দল। লিখিত বক্তব্যে তারা শিক্ষার্থীদের দাবির কাক্সিক্ষত সমাধান হওয়ায় তাদের আন্দোলনের পথ পরিহারের আহ্বান জানান। কোটা সংস্কারের দাবিতে ছাত্র আন্দোলনে নিহত আবু সাঈদসহ সব হত্যাকাণ্ডের বিচার, শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশের দাবি জানান বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের প্রাণহানি, হামলা, নির্যাতন ও গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরের সামনে বিক্ষোভ করেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত আমেরিকানরা। তারা শিক্ষার্থী হত্যার বিচার দাবি করেন। একই সঙ্গে প্রবাসীদের রেমিট্যান্স না পাঠানোর আহ্বান জানান।

বর্তমান ক্ষমতাসীন সরকারের বৈধতা নেই- এমন দাবি করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, সরকার যে অন্যায় করছে, এই সরকারের আর কোনো অধিকার নেই রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকার।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে জাতিসংঘ জানায়, সরকারি চাকরিতে কোটা আন্দোলনের মধ্যে সহিংসতা ও হতাহতের ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশকে চাহিদা অনুযায়ী সহায়তা দিতে তারা প্রস্তুত।

কোটা সংস্কার আন্দোলনকে ঘিরে ১৬ জুলাই থেকে ২১ জুলাই পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত ঘটনায় প্রাণহানি, সহিংসতা, নাশকতা, অগ্নিসংযোগ, লুটপাট, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতি ঘটনা তদন্তে হাইকোর্ট বিভাগের তিন বিচারপতির সমন্বয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ