বিশ্বকাপের শেষ বত্রিশের রুদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে মরক্কো। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ে ১–১ গোলে সমতা থাকার পর টাইব্রেকারে জয় তুলে নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো নকআউট পর্বে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিল আফ্রিকার দেশটি।
টাইব্রেকারের নির্ধারক শট থেকে জয়সূচক গোল করেন ইসমাইল সাইবারি। অন্যদিকে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনু দুর্দান্ত এক সেভ করে নায়কে পরিণত হন। চতুর্থ রাউন্ড শেষে দুই দল ২–২ সমতায় ছিল। এরপর নেদারল্যান্ডসের ক্রিসেনসিও সামারভিলের শট বাঁ হাত দিয়ে ফিরিয়ে দেন বুনু। পরের শটেই নিচু শটে বল জালে পাঠিয়ে মরক্কোর জয় নিশ্চিত করেন সাইবারি।
এই হারের মাধ্যমে নেদারল্যান্ডসের বিশ্বকাপ যাত্রা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে দ্রুত শেষ হলো। একই সঙ্গে কোচ রোনাল্ড কোমানের দলের জন্য এটি বড় এক হতাশা।
নির্ধারিত সময়ের ৭২তম মিনিটে কোডি গাকপোর গোলে এগিয়ে গিয়েছিল নেদারল্যান্ডস। ক্রিসেনসিও সামারভিলের বাড়ানো বল থেকে গোল করার পর সতীর্থরা মাঠে ছুটে এসে তাকে জড়িয়ে ধরেন। আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কান্নায় ভেঙে পড়েন গাকপো।
সম্প্রতি গাকপো ও তার জীবনসঙ্গী নোয়া ফান ডের বেই জানিয়েছিলেন, তারা তাদের অনাগত সন্তানকে হারিয়েছেন। সেই ব্যক্তিগত শোকের মধ্যেই বিশ্বকাপে গোল করে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন এই তারকা ফুটবলার।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে চেমসদিন তালবির দীর্ঘ ক্রস থেকে হেডে গোল করে মরক্কোকে সমতায় ফেরান ইসা দিয়প।
এরপর অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে কোনো দলই উল্লেখযোগ্য গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারেনি। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ হয় টাইব্রেকারে, যেখানে শেষ হাসি হাসে মরক্কো।
এটি ছিল এবারের বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচ, যার নিষ্পত্তি হয়েছে টাইব্রেকারে। এর আগে একই দিনে জার্মানিকে টাইব্রেকারে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে প্যারাগুয়ে।
শেষ বত্রিশের ম্যাচগুলোর মধ্যে বিশ্ব র্যাঙ্কিং বিবেচনায় এটি ছিল সবচেয়ে শক্তিশালী দুই দলের লড়াই। মরক্কোর অবস্থান ছিল ষষ্ঠ এবং নেদারল্যান্ডসের সপ্তম।
বিশ্বকাপে আগের আটটি আসরেই অন্তত শেষ ষোলোতে খেলেছিল নেদারল্যান্ডস। চার বছর আগে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে উঠেছিল। অন্যদিকে গত বিশ্বকাপে সেমিফাইনালে খেলে ইতিহাস গড়েছিল মরক্কো। এবারও সেই সাফল্যের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে গেল উত্তর আফ্রিকার দেশটি।