সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১২:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
গণমাধ্যম ও তথ্য ব্যবস্থাপনা খাতে সহযোগিতা বাড়াতে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে-চীন সফরে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জাতীয় সংসদে বাজেট অধিবেশন শুরু বিশ্বকাপের জন্য ৭২ কোটি টাকায় মিডিয়া স্বত্ব কিনছে সরকার আদ্-দ্বীনে ৬ শিশুর মৃত্যু : প্রত্যেক পরিবার পাবে ৮০ লাখ টাকা রামিসা হত্যার রায় দ্রুত কার্যকরে যে বার্তা দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গণতান্ত্রিক বাংলাদেশে এবার আমাদের ঘুরে দাঁড়ানোর পালা: প্রধানমন্ত্রী উচ্চ আদালতেও রায় বহাল থাকবে-আশা আইনমন্ত্রীর ময়মনসিংহ মেডিক্যালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরো ১ শিশুর মৃত্যু বানারীপাড়ায় সাবেক পৌর মেয়র মঞ্জু মোল্লা গ্রেপ্তার আবারও উত্তপ্ত হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দর

রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের প্রমাণ মিলেছে: বিচারক

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২৬
  • ৩ বার

রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা আলোচিত মামলার রায় পড়া শুরু হয়েছে। রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণের বিষয়টি সুরতহাল রিপোর্টে প্রমাণিত বলে জানিয়েছেন বিচারক।

আজ রোববার বেলা ১১টার দিকে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় পড়া শুরু করেন।

বিচারক বলেন, সুরতহাল রিপোর্টে প্রমাণিত হয়েছে রামিসাকে হত্যার আগে ধর্ষণ করা হয়েছে। ধর্ষণ পরিবার নয়, পুরো সমাজের হৃদয়কে ব্যাথিত করে।

এদিন সকালে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢাকার আদালতে আনা হয়। পরে তাদের আদালতের মহানগর হাজতখানায় রাখা হয়।

এদিকে মেয়ের হত্যার রায় শুনতে আদালতে এসেছেন তার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। সকালে ঢাকা মহানগর আদালত প্রাঙ্গণে তাকে দেখা যায়। রায় ঘিরে উৎসুক মানুষের ভিড়ও লক্ষ্য করা গেছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

গত ২ জুন এই মামলার ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। সাক্ষিরা গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য, ভিডিও প্রমাণ ও বিভিন্ন আলামত সম্পর্কে আসামিদের সামনে তুলে ধরেন। এতে রামিসাকে খোঁজার ঘটনা, সন্দেহভাজন ফ্ল্যাট শনাক্ত করা, রক্তের আলামত উদ্ধার এবং শিশুটির মরদেহ উদ্ধারের বিষয় উঠে আসে।

একই সঙ্গে অভিযোগ অনুযায়ী স্বপ্না আক্তার কীভাবে সোহেল রানাকে পালাতে সহায়তা করেছিলেন, সে বিষয়ও উল্লেখ করা হয়। এরপর আসামি সোহেলের কিছু বলার আছে কি না, জানতে চাইলে সোহেল আদালতকে বলেন, ‘আমি ক্ষমা চাচ্ছি স্যার আমাকে মাফ করে দেন। আরেকটা কথা আমার বউ কোনো দোষ করেনি, সে নির্দোষ।’

এ সময় বিচারক তাকে থামিয়ে বলেন আপনারটা আপনি বলেন। এরপর স্বপ্নার বক্তব্য শুনতে চান আদালত। প্রথমে নিশ্চুপ থাকলে আদালত তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, দরজা কেন খুলেননি এর কোনো ব্যাখ্যা দিতে চান কি না। এ সময় তাকে সতর্ক করে আদালত বলেন, আপনার স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে যে শাস্তি তার হবে একই শাস্তি আপনারও হবে। এরপর স্বপ্না বলেন, ‘আমি কিছু করিনি স্যার আমি নির্দোষ।’

এ মামলায় গত ২ জুন চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৭ জনের জবানবন্দি রেকর্ড করে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ করেন আদালত।

মামলায় অভিযোগ করা হয়, পল্লবীর সেকশন-১১ এলাকার একটি অ্যাপার্টমেন্টে পরিবারের সঙ্গে থাকত রামিসা। সে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সোহেল ও স্বপ্না ওই বাসার অন্য ফ্ল্যাটে সাবলেট থাকতেন। ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রামিসা বাসা থেকে বের হলে আসামিরা কৌশলে তাকে ভবনের তৃতীয় তলায় তাদের রুমে নিয়ে যায়।

সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে যাওয়ার জন্য খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে আসামিদের রুমের সামনে মেয়েটির স্যান্ডেল দেখতে পায় তার মা। এরপর ডাকাডাকি করে সাড়া না পেয়ে রামিসার মা ফ্ল্যাটের অন্যদের নিয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন। এ সময় সোহেল ও স্বপ্নার রুমে রামিসার মাথাবিহীন দেহ এবং বাথরুমের বালতির মধ্যে মাথা দেখতে পায়। স্বপ্না সেখানে দাঁড়ানো ছিলেন।

জিজ্ঞাসাবাদে স্বপ্না বলেছেন, রামিসাকে বাথরুমে আটকে রেখে ধর্ষণ করে মেরে ফেলেন সোহেল। লাশ গুম করার জন্য মাথা ছুরি দিয়ে কেটে আলাদা করেন এবং দুই হাত কাঁধ থেকে অর্ধ বিচ্ছিন্ন করে মৃতদেহ বাথরুম থেকে এনে শোবার ঘরের খাটের নিচে রেখে দেন। কাটা মাথা বাথরুমের বালতির মধ্যে রেখে জানালার গ্রিল কেটে সোহেল পালিয়ে যান।

এই নৃশংস ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। গ্রেপ্তারের পর প্রধান আসামি সোহেল রানা আদালতে নিজের দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন।

হত্যাকাণ্ডের তদন্ত শেষে রেকর্ড গড়ে মাত্র ৫ দিনের মাথায় (২৪ মে) পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করেন। এরপর গত ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ