শক্তিশালী টাইফুন চাম্পির আঘাতের আশঙ্কায় তাইওয়ানে স্থলভাগের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ঝড়টির প্রভাবে বৃহস্পতিবার দ্বীপটিতে ১২৫টি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, টাইফুনটি তাইওয়ানের উত্তর-পূর্ব উপকূল ঘেঁষে অতিক্রম করার সময় ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। বার্তাসংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।
তাইওয়ানের কেন্দ্রীয় আবহাওয়া প্রশাসন (সিডব্লিউএ) জানিয়েছে, চলতি বছরের প্রশান্ত মহাসাগরের অন্যতম শক্তিশালী ঝড় চাম্পি একপর্যায়ে সুপার টাইফুনে পরিণত হয়েছিল। বৃহস্পতিবার কিছুটা দুর্বল হলেও ঝড়টির কেন্দ্রের কাছে বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২২৭ কিলোমিটারের বেশি রয়েছে।
প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, টাইফুনটি বর্তমানে তাইওয়ানের দক্ষিণ প্রান্ত থেকে প্রায় ৫২০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থান করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি দ্বীপটির উত্তর-পূর্ব উপকূল অতিক্রম করে উত্তর দিকে এগিয়ে চীনের উপকূলের দিকে যাবে। পরে ঝড়টি জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হতে পারে।
টাইফুনটির প্রভাববলয়ের ব্যাস কিছুটা বেড়ে ৩২০ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। ফলে তাইওয়ানের অধিকাংশ অঞ্চল ঝড়টির আওতায় পড়তে পারে। আবহাওয়াবিদেরা জানিয়েছেন, এর প্রভাব প্রায় দুই দিন স্থায়ী হতে পারে।
তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট লাই চিং-তে জনগণকে আগেভাগেই প্রস্তুতি নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পাহাড়ি এলাকা ও উপকূলে যাওয়া থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লাই বলেন, ‘একটু বেশি প্রস্তুতি মানেই ঝুঁকি কিছুটা কম।’
উপকূলীয় শহরগুলোতে ছয় মিটারের বেশি উচ্চতার ঢেউয়ের আশঙ্কায় মুঠোফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয়েছে। এ ছাড়া রাজধানী তাইপের আশপাশের পাহাড়ি অঞ্চলসহ দ্বীপটির উত্তরাঞ্চলে প্রায় এক মিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
টাইফুনটি শুক্রবার রাতে তাইওয়ানের সবচেয়ে কাছাকাছি অবস্থানে থাকতে পারে। এরপর এটি উত্তরে চীনের সাংহাইয়ের কাছের সমুদ্রাঞ্চলের দিকে অগ্রসর হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তাইওয়ানের পরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার বাতিল হওয়া ১২৫টি ফ্লাইটের বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের। তবে দেশটির রেল যোগাযোগব্যবস্থা এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার কোনো খবর পাওয়া যায়নি।
সাধারণত গ্রীষ্মকালে টাইফুন বেশি দেখা গেলেও শরৎকালেও এ ধরনের ঝড় আঘাত হানতে পারে। এতে প্রবল বাতাসের পাশাপাশি ভারী বৃষ্টিপাত হয়। তবে টাইফুন মোকাবিলায় তাইওয়ানের প্রস্তুতি বেশ ভালো হওয়ায় সাধারণত প্রাণহানির সংখ্যা কম থাকে।
এদিকে ঝড়টির প্রভাব পড়তে পারে জাপানেও। ওকিনাওয়া প্রিফেকচারের ইয়োনাগুনি দ্বীপের ওপর দিয়ে টাইফুনটি অতিক্রম করতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
জাপানের জাপান এয়ারলাইনস, অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (এএনএ) ও স্কাইমার্ক বৃহস্পতিবার থেকে রোববারের মধ্যে ১০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করেছে। এর ফলে ১১ হাজারের বেশি যাত্রীর ভ্রমণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বাতিল হওয়া ফ্লাইটগুলোর বেশির ভাগই অভ্যন্তরীণ রুটের।