সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন

এমবাপ্পের জোড়া গোলে রিয়ালের বড় জয়

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ৫ বার

কিলিয়ান এমবাপ্পের জোড়া গোল, যার মধ্যে ছিল দারুণ ব্যক্তিগত নৈপুণ্যের এক অসাধারণ গোল। সঙ্গে আরদা গুলের ও ইয়ান দিয়োমান্দের গোল। সব মিলিয়ে রোববার সেভিয়াকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে স্প্যানিশ লিগে পয়েন্ট তালিকার তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল মাদ্রিদ।

শুরুর দিকে কনুই দিয়ে প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড়কে আঘাত করেও লাল কার্ড এড়িয়ে যান আরদা গুলের। এরপর তার দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় রিয়াল। পরে এমবাপ্পের জোড়া গোল এবং ইয়ান দিয়োমান্দের জোরালো শটে বড় জয় নিশ্চিত করে হোসে মরিনিওর দল। এই জয়ে পয়েন্ট তালিকায় রিয়াল পেছনে ফেলেছে রিয়াল বেতিসকে।

এমবাপ্পের প্রথম গোলটি ছিল অসাধারণ। সেভিয়ার বক্সের সামনে প্রতিপক্ষকে ঘুরিয়ে কাটিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান তিনি। এরপর নিখুঁত শটে জালে পাঠান বল। দ্বিতীয় গোলটি করেন পেনাল্টি থেকে, যেখানে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বোকা বানিয়ে পানেনকা কৌশলে বল জালে জড়ান।

শনিবার বেতিসকে বড় ব্যবধানে হারানোর পর বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা রিয়াল মাদ্রিদের চেয়ে ছয় পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছে। আগামী সপ্তাহে ক্যাম্প ন্যুতে মুখোমুখি হবে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। পয়েন্ট তালিকায় দুই দলের মাঝখানে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ।

রিয়াল মাদ্রিদ টেলিভিশনকে মরিনিও বলেন, ‘আমরা দারুণ একটি ম্যাচ খেলেছি। আমরা একটি দল হিসেবে খেলছি এবং নিজেদের উন্নতির জন্য কাজ করছি। একসঙ্গে আমাদের পথচলা শুরু হয়েছে খুব বেশি দিন হয়নি।’

তিনি আরও বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদের মতো বড় ক্লাবে কাজ করার চাপের কারণে অন্য ক্লাবের কোচদের মতো শান্তিতে কাজ করা কঠিন। তবে আমরা প্রতিটি মুহূর্তের সর্বোচ্চ ব্যবহার করছি।’

নিষেধাজ্ঞার কারণে মাঠের বাইরে থাকা ব্রাজিলিয়ান উইঙ্গার ভিনিসিউস জুনিয়রের পরিবর্তে দিয়োমান্দেকে বাঁ দিকে খেলান মরিনিও। মাঝমাঠের দায়িত্বে রাখেন গুলেরকে।

গত সপ্তাহে প্রতিপক্ষের চুল টেনে লাল কার্ড দেখেছিলেন ভিনিসিউস। সেই ঘটনা স্পেনে রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করে। রিয়ালের মাঠ সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে সমর্থকেরা লা লিগা সভাপতি হাভিয়ের তেবাসের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন এবং ব্যানার প্রদর্শন করেন।

এর আগে তেবাস বলেছিলেন, রেফারিদের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করার জন্য রিয়াল মাদ্রিদের কৌশল নাৎসি প্রচারক জোসেফ গোয়েবলসের প্রচারণার কৌশলের মতো।

গত কয়েক সপ্তাহ ধরে স্পেনের রেফারিদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছে রিয়াল মাদ্রিদ ও তাদের নতুন কোচ মরিনিও। গত দুই মৌসুম ধরেও বড় কোনো শিরোপা জিততে না পারায় তাদের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।

তবে রোববারের ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত নিয়ে অভিযোগ করার কারণ বেশি ছিল সেভিয়ারই।

প্রথমার্ধের মাঝামাঝি সময়ে সেভিয়ার পেকে নামের খেলোয়াড়কে কনুই দিয়ে আঘাত করেন বলে মনে হয় গুলের। কিন্তু রেফারি তাকে কোনো শাস্তি দেননি।

সেভিয়া কোচ লুইস গার্সিয়া প্লাজা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এমন একটি ম্যাচে দুই দলই ১১ জন করে খেললে রিয়াল নিঃসন্দেহে জয়ের যোগ্য ছিল। কিন্তু আমাদের আরেকটি ম্যাচ খেলার সুযোগ থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের ১০ জনের বিপক্ষে ১১ জন নিয়ে খেলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। ২৫ মিনিটের পর থেকেই আমাদের ১০ জন নিয়ে খেলতে হতো। এরপর ম্যাচ নিয়ে আর কিছু বলতে চাই না।’

কোচের ধারণা, আগামী সপ্তাহের ক্লাসিকোর আগে বার্সেলোনার চেয়ে নয় পয়েন্ট পিছিয়ে পড়ার পরিস্থিতি এড়াতেই হয়তো গুলেরকে লাল কার্ড দেখানো হয়নি।

অন্যদিকে, ঘটনাটির কোনো পুনরায় সম্প্রচারিত দৃশ্য দেখেননি বলে দাবি করেন মরিনিও। তাই গুলের পেকেকে কনুই দিয়ে আঘাত করেছিলেন কি না, সে বিষয়ে মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

ম্যাচের প্রথম দিকে রিয়ালের আক্রমণ সামলে ভালোই লড়ছিল সেভিয়া। তবে ৩০ মিনিটে গুলেরের অসাধারণ গোলে ভেঙে যায় তাদের প্রতিরোধ।

জুড বেলিংহ্যাম বল বাড়িয়ে দেন ডান প্রান্তে থাকা রেকর্ড দামে দলে যোগ দেওয়া দিয়োমান্দেকে। সেখান থেকে বল পেয়ে বক্সের সামনে দুর্দান্ত শটে সেভিয়ার গোলরক্ষক ওডিসিয়াস ভ্লাকোদিমোসকে পরাস্ত করেন তুরস্কের এই মিডফিল্ডার। তার শট গিয়ে জালে জড়ায় গোলবারের ওপরের কোণ দিয়ে।

এরপর দ্রুতগতির দৌড়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে দ্বিতীয় গোলের কাছাকাছি পৌঁছে যান এমবাপ্পে। তবে তার নিচু শট আটকে দেন গোলরক্ষক।

কিছুক্ষণ পরই মৌসুমের অন্যতম সেরা গোলগুলোর একটি করেন ফরাসি তারকা। বেলিংহ্যামের পেছন দিকে গোড়ালি দিয়ে বাড়ানো বল পেয়ে প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে দুর্দান্ত কৌশলে ঘুরে দাঁড়ান এমবাপ্পে। এরপর গোলরক্ষককে পাশ কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান তিনি।

গোলটির আগে সেভিয়ার স্ট্রাইকার রব্বি ইউরকে ফাউল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ তোলে অতিথিরা। তবে তাতে লাভ হয়নি।

এরপর বক্সের ভেতরে আন্দ্রেস কাস্ত্রিনের হালকা সংস্পর্শে পড়ে যান এমবাপ্পে। রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পটকিক থেকে পানেনকা কৌশলে বল জালে পাঠিয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ফরাসি তারকা। চলতি লিগে এটি তার নবম গোল। অক্টোবরের শেষ দিকে ব্যালন ডি’অর অনুষ্ঠানে বিশ্বের সেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতি পাওয়ার আশাও করছেন তিনি।

পরে ম্যানুয়েল বুয়েনোর গোলে ব্যবধান কমায় সেভিয়া। কিন্তু ম্যাচে ফেরার মতো আর কোনো সুযোগ তৈরি করতে পারেনি তারা।

বক্সের বাইরে থেকে জোরালো শটে গোল করে রিয়ালের বড় জয় নিশ্চিত করেন আইভরি কোস্টের উইঙ্গার দিয়োমান্দে। চলতি গ্রীষ্মে আরবি লাইপজিগ থেকে যোগ দেওয়ার পর এটি তার দ্বিতীয় গোল। চ্যাম্পিয়নস লিগে রিয়ালের পরবর্তী প্রতিপক্ষও এই লাইপজিগ।

দিনের অন্য ম্যাচে তলানির দল মালাগাকে ৫-২ গোলে উড়িয়ে দিয়ে পয়েন্ট তালিকার পঞ্চম স্থানে উঠে এসেছে রিয়াল সোসিয়েদাদ। আলাভেসকে ২-১ গোলে হারিয়েছে সেল্তা ভিগো। আর রেসিং সান্তান্দারকে ২-০ গোলে পরাজিত করেছে ওসাসুনা।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ