মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:৩৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ তারেক রহমানের হাতে নতুন বিএনপি এআই দুনিয়ায় প্রভাবশালী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ টাইম ম্যাগাজিনের জাগদল থেকে বিএনপি, রাজনীতিতে যেভাবে উত্থান হয় জিয়াউর রহমানের নেপাল-চীনে বন্যা-ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ছাড়াল ‘খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে’ লোডশেডিং কমবে: তথ্য উপদেষ্টা বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা জানাতে নেতাকর্মীদের ঢল কিংবদন্তি মেসির বিদায়, আবেগে ভাসছে ফুটবলবিশ্ব শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ড হাইকোর্টে বহাল নেপালকে ১০০ মিলিয়ন ওন দিলেন কোরিয়ান গায়ক লি নো

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর বিদেশি নাগরিকত্ব যাচাইয়ে আইনি নোটিশ

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬
  • ০ বার

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের বিদেশি নাগরিকত্ব, বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য এবং সাংবিধানিকভাবে শপথ গ্রহণের বৈধতা যাচাইয়ের দাবি জানিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনি নোটিশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী আসলাম মিয়া।

বিষয়টি নিশ্চিত করে তিনি বলেন, ‘আমরা ৭ দিনের মধ্যে এ বিষয়ে জবাব না পেলে হাইকোর্টে রিট ফাইলসহ আইনি প্রতিকার চাইব।’

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) প্রধান নির্বাচন কমিশনার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব, প্রেসিডেন্টের কার্যালয়ের সচিব, প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, আইন মন্ত্রণালয়ের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এ নোটিশ পাঠানো হয়।

নোটিশে আইনজীবী আসলাম মিয়া দাবি করেন, সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তপশিলের আলোকে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর নিয়োগ, যোগ্যতা, নাগরিকত্ব, আনুগত্য এবং শপথের বিষয়গুলো সাংবিধানিকভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

নোটিশে সংবিধানের ৬৬(১) অনুচ্ছেদ উল্লেখ করে বলা হয়, বাংলাদেশের নাগরিক এবং ২৫ বছর বয়সী ব্যক্তি সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার যোগ্য। একই সঙ্গে ৬৬(২)(গ) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব অর্জন করলে কিংবা বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্য স্বীকার বা স্বীকৃতি দিলে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়া বা সংসদ সদস্য থাকার ক্ষেত্রে অযোগ্যতার প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

তবে ৬৬(২এ) অনুচ্ছেদে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক কোনো ব্যক্তি পরবর্তী সময়ে বিদেশি নাগরিকত্ব গ্রহণ করলে তা ত্যাগ করার পর তার সাংবিধানিক অবস্থান সম্পর্কে বিশেষ বিধান রয়েছে বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। ফলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্বের ইতিহাস ও বর্তমান আইনগত অবস্থান যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে আরও বলা হয়, সংবিধানের ১৪৮ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তৃতীয় তপশিলে উল্লেখিত পদে নিয়োগ পাওয়া ব্যক্তিকে দায়িত্ব গ্রহণের আগে নির্ধারিত শপথ বা ঘোষণা করতে হয়। মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর শপথে বাংলাদেশের প্রতি সত্যিকার বিশ্বাস ও আনুগত্য এবং সংবিধান সংরক্ষণ, রক্ষা ও প্রতিরক্ষার অঙ্গীকার রয়েছে।

ড. খলিলুর রহমান ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন উল্লেখ করে নোটিশে তার বিষয়ে কয়েকটি বিষয় যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়। এর মধ্যে রয়েছে- তিনি বর্তমানে বাংলাদেশের নাগরিক কি না, কখনো কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের নাগরিকত্ব নিয়েছেন কি না, বিদেশি পাসপোর্ট ধারণ করেছেন বা করেন কি না, কোনো বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের শপথ বা ঘোষণা দিয়েছেন কি না এবং বিদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে থাকলে তা কবে ত্যাগ করেছেন।

একইভাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের নাগরিকত্ব ও বিদেশি রাষ্ট্রের প্রতি আনুগত্যের বিষয়টিও যাচাইয়ের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দুই মন্ত্রীর নাগরিকত্ব, পাসপোর্ট, অভিবাসন, জাতীয়তা, নাগরিকত্ব ত্যাগ ও তা গ্রহণের রেকর্ডসহ প্রাসঙ্গিক নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করার আহ্বান জানানো হয়।

এ ছাড়া তাদের নিয়োগ ও দায়িত্ব গ্রহণ সংবিধানের ৫৬, ৬৬ ও ১৪৮ অনুচ্ছেদ এবং তৃতীয় তফসিলের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়েছে কি না, তা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে। কোনো সাংবিধানিক অযোগ্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও নোটিশে বলা হয়েছে। অন্যদিকে, কোনো অযোগ্যতা না থাকলে সংশ্লিষ্ট দুই ব্যক্তির নিয়োগ ও দায়িত্বে বহাল থাকার সাংবিধানিক ও আইনগত ভিত্তি প্রকাশ বা জানাতে বলা হয়েছে।

নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এ বিষয়ে বাস্তবসম্মত জবাব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানিয়েছেন আইনজীবী আসলাম মিয়া। নোটিশে বলা হয়েছে, এটি কোনো চূড়ান্ত অভিযোগ বা সিদ্ধান্ত নয়; বরং নাগরিকত্ব, বিদেশি আনুগত্য ও সাংবিধানিক যোগ্যতা নিয়ে ওঠা প্রশ্ন সরকারী কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করার উদ্দেশ্যে নোটিশটি দেওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তি না হলে বা সাংবিধানিক প্রশ্নটি অনিষ্পন্ন থাকলে বাংলাদেশের সংবিধান ও আইনে বিদ্যমান প্রতিকার গ্রহণের জন্য উপযুক্ত সাংবিধানিক বা বিচারিক ফোরামে যাওয়ার কথাও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ