রবিবার, ২৮ জুন ২০২৬, ০৮:৫১ অপরাহ্ন

১০ জেলায় বন্যার শঙ্কা, জরুরি সতর্কতা জারি

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২৮ জুন, ২০২৬
  • ১ বার

 

দেশের উত্তর, উত্তর-পূর্ব ও উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় ১০ জেলায় বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর, গাইবান্ধা, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।

আজ রোববার কেন্দ্রের প্রকাশিত নদ-নদীর পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সকাল ৯টার তথ্য অনুসারে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ স্টেশনে কুশিয়ারা নদীর পানি ৯.৪৯ মিটারে উঠেছে, যা মৌসুমী বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানে পানির উচ্চতা আরও ৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।

এছাড়া নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তা নদী, সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী এবং নেত্রকোনার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় রয়েছে।

কেন্দ্র জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকার নদীগুলোর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। আগামী তিন দিন এ প্রবণতা চলতে পারে। ফলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে সিলেট ও সুনামগঞ্জের কয়েকটি পয়েন্টে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা অববাহিকায়ও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। গত ২৪ ঘণ্টায় এখানকার নদীগুলোর পানি বেড়েছে এবং আগামী পাঁচ দিন এ ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আগামী ১ থেকে ৩ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার বিভিন্ন পয়েন্টে ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলে প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।

গঙ্গা-পদ্মা অববাহিকায় গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গার পানি কিছুটা কমলেও পদ্মার পানি বেড়েছে। আগামী দুই দিন পানি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এরপর পরবর্তী তিন দিন পানি বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকবে বলে আশা করা হচ্ছে।

রংপুর বিভাগের তিস্তা, দুধকুমার ও ধরলা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় স্থিতিশীল ছিল। তবে আগামী তিন দিনে এ নদীগুলোর পানি বাড়তে পারে এবং ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। ফলে নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধা জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

এদিকে, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের সারিগোয়াইন ও যাদুকাটা নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। মনু, খোয়াই, ধলাই, সোমেশ্বরী এবং ভুগাই-কংস নদীর পানি কিছুটা কমলেও আগামী তিন দিনে আবার বাড়তে পারে। এ সময় শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনা জেলার ভুগাই-কংস ও সোমেশ্বরী নদী সতর্কসীমায় প্রবাহিত হতে পারে এবং আশপাশের নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আবহাওয়া সংস্থাগুলোর তথ্য অনুসারে, আগামী চার দিন রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, অরুণাচল ও মেঘালয় অঞ্চলে ভারি থেকে অতি ভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এরপর আরও এক দিন মাঝারি থেকে ভারি বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। উজানের এ বৃষ্টিপাতের কারণে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানি আরও বৃদ্ধি পাবে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে সবচেয়ে বেশি ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বান্দরবানের লামায়। সিলেটের জাফলংয়ে ৪১ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে। ভারতে মেঘালয়ের মাওকিরওয়াতে ৩৯০ মিলিমিটার, মাউসিনরামে ২৬৪ মিলিমিটার, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়িতে ১৬২ মিলিমিটার এবং অরুণাচলের পাসিঘাটে ১৫২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, দেশের ২৪৮টি পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ১২৭টিতে নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে, ৬৯টিতে কমেছে এবং ৫২টিতে অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে একটি স্টেশনে পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, যা সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী।

 

 

 

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ