রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ১২:৫০ অপরাহ্ন

বিকেলে মালয়েশিয়া যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ২ বার

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের বিশেষ আমন্ত্রণে আজ রোববার দেশটিতে সরকারি সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট আজ বিকেলে ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে। মালয়েশিয়া সফর শেষে তিনি চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াংয়ের আমন্ত্রণে সরাসরি বেইজিং যাবেন। এ সফরে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শ্রমবাজার, মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ), হালাল শিল্প, প্রযুক্তি, শিক্ষা সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক বিভিন্ন ইস্যু গুরুত্ব পাবে। ঢাকার প্রত্যাশা, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রীর দুই দেশ মালয়েশিয়া ও চীন সফর শুরুর আগে গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়াম।

খসড়া কর্মসূচি অনুযায়ী, আজ দুপুর ২টা ৪৫ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে কুয়ালালামপুরের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। প্রায় চার ঘণ্টার যাত্রা শেষে রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে তিনি কুয়ালালামপুর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (কেএলআইএ) বুংগা রায়া ভিভিআইপি কমপ্লেক্সে পৌঁছাবেন। সেখানে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হবে। মালয়েশিয়ার ধর্মবিষয়কমন্ত্রী ড. জুলকিফলি হাসান তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন। সফরকালে তিনি দেশটির রাজধানীর শাংগ্রি-লা হোটেলে অবস্থান করবেন। সফরের মূল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে ২২ জুন।সকালে পুত্রজায়ার পারদানা পুত্রা কমপ্লেক্সে প্রধানমন্ত্রীকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানাবেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। লাল গালিচা সংবর্ধনা, জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং গার্ড অব অনার পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে আনুষ্ঠানিকতা। পরে দুই নেতা প্রতিনিধি দলের সদস্যদের সঙ্গে পরিচিত হবেন এবং পুত্রজায়া মসজিদকে পটভূমিতে রেখে আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনে অংশ নেবেন। এরপর দুই নেতা একান্ত বৈঠকে মিলিত হবেন।

বৈঠকে বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্কের সার্বিক বিষয়, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি, প্রযুক্তি সহযোগিতা, শিক্ষা, হালাল শিল্প এবং আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে আলোচনা হবে। পরে প্রতিনিধি পর্যায়ের বৈঠকে উভয় দেশের মন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অংশ নেবেন।

সফরকালে দুই দেশের মধ্যে কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) ও একটি নোট বিনিময় হওয়ার কথা রয়েছে। সরকারি সূত্র জানিয়েছে, অন্তত তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের প্রস্তুতি রয়েছে। এর মধ্যে সাংস্কৃতিক সহযোগিতাবিষয়ক একটি সমঝোতা স্মারক এবং সন্ত্রাস দমন সহযোগিতা বিষয়ে একটি নোট বিনিময় প্রায় চূড়ান্ত। আরও কয়েকটি চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেবেন। তবে কোনো প্রশ্নোত্তর পর্ব থাকবে না।

সংবাদ সম্মেলনের পর পুত্রজায়ার সেরি পারদানা কমপ্লেক্সে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর আয়োজনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্মানে রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠিত হবে। এতে দুই দেশের সংস্কৃতির সমন্বয়ে বিশেষ আয়োজন থাকবে। প্রায় ৬০ জন শিশু বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা হাতে অতিথিদের স্বাগত জানাবে। বাংলা, মালয় ও ইংরেজি ভাষায় স্বাগত স্লোগান দেওয়া হবে। পাশাপাশি দুই দেশের জনপ্রিয় গান পরিবেশনেরও পরিকল্পনা রয়েছে।

খসড়া কর্মসূচিতে বাংলা স্লোগান হিসেবে রাখা হয়েছে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী স্বাগতম, সুস্বাগতম’ এবং ‘বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া ভাই ভাই’। এ ছাড়া বাংলাদেশের গান ‘বলতে বলতে চলতে চলতে’, ‘যে দেশে রংধনু আঁকে’ এবং ‘প্রথম বাংলাদেশ’ পরিবেশনের পরিকল্পনা রয়েছে। মধ্যাহ্নভোজ শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীরা শিল্পীদের সঙ্গে ফটোসেশনেও অংশ নেবেন।

মধ্যাহ্নভোজ শেষে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইবনি আলমারহুম সুলতান ইস্কান্দারের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করবেন। কূটনৈতিক মহলের মতে, এ সাক্ষাৎ সফরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এর মাধ্যমে দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সফরের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ব্যবসা ও বিনিয়োগ সহযোগিতা। রাজকীয় সাক্ষাতের পর কুয়ালালামপুরে মালয়েশিয়ার শীর্ষ ব্যবসায়ী ও করপোরেট নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী। এমএমসি পোর্টস, এয়ারএশিয়া এবং পেট্রোনাস গ্রুপের চেয়ারম্যানদের সঙ্গে বৈঠকে বন্দর উন্নয়ন, বিমান যোগাযোগ, জ্বালানি খাতে সহযোগিতা, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে।

এদিকে, গতকাল ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র সচিব বলেন, এই সফর বাংলাদেশ-মালয়েশিয়া সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করবে। তিনি জানান, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, বাংলাদেশি কর্মীদের কল্যাণ, বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং বাণিজ্য সম্প্রসারণ সফরের প্রধান এজেন্ডাগুলোর মধ্যে রয়েছে। পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয়েও মতবিনিময় হবে। তিনি আরও জানান, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়ার বাজারে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করতে মুক্ত-বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে আলোচনা নতুন গতি পেয়েছে। ফলে সফরে এ বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পাবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মালয়েশিয়ায় বর্তমানে কয়েক লাখ বাংলাদেশি কর্মরত রয়েছেন। তাই শ্রমবাজার সম্প্রসারণ, নতুন কর্মী নিয়োগ, নিয়োগ ব্যয় কমানো, সিন্ডিকেটমুক্ত অভিবাসন ব্যবস্থা এবং অনিয়মিত কর্মীদের বৈধতার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পাবে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রথম বিদেশ সফরের জন্য মালয়েশিয়াকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সঙ্গে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পৃক্ততা জোরদারের বার্তা দিয়েছেন। মালয়েশিয়া সফর শেষে সোমবার তিনি চীনের দালিয়ানের উদ্দেশে রওনা হবেন।

এদিকে প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়া ও রাজধানী কুয়ালালামপুরে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার জাতীয় পতাকা টানানো হয়েছে। বর্ণিল আলোকসজ্জা ও স্বাগত ব্যানারে সেজেছে বিভিন্ন স্থাপনা। স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যেও সফর ঘিরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে মালয়েশিয়া বিএনপি, যুবদল, জাসাসসহ বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ