শনিবার, ২২ Jun ২০২৪, ০৮:১৪ পূর্বাহ্ন

নানান সমস্যা চুলে……..

নানান সমস্যা চুলে……..

ডা. তাওহীদা রহমান ইরিন: চুল পড়া ও পুনর্গঠনের মধ্যে যখন ভারসাম্য থাকে না, তখনই চুল পড়া সমস্যার মনে হয়। সাধারণত ১০০টি চুল প্রতিদিন একজন মানুষের পড়তে পারে। এটি স্বাভাবিক। তবে চুল পড়ার পর সেটি আর পুনর্গঠন না হলে একে সমস্যা হিসেবে ধরা হয়। তখন ৫০টি চুল পড়াই তার জন্য ঝুঁকি।
** সাধারণত কী কী সমস্যা হয়?: প্রথম সাধারণ সমস্যা হলো চুল পড়া। চুলের আগা ফেটে যাওয়া বা চুল ভেঙে যাওয়া। সঙ্গে খুশকি ও উঁকুনÑএ সমস্যাগুলো তো আছেই।
** সাধারণত কী কী ধরনের চুল আমরা দেখি?: আমরা চুলকে তিনটি ভাগে ভাগ করেছি। টাইপ এ, টাইপ বি ও টাইপ সি। টাইপ এ হলো স্ট্রেট হেয়ার বা সোজা চুল। যে চুল সাধারণত সবাই চায়। স্বাস্থ্যকর, ঝলমলে চুল। টাইপ বি হলো কোঁকড়া ও সোজা চুলের মাঝামাঝি চুল। এই চুলের মধ্যে একটু ক্ষতির প্রবণতা থাকে। কোঁকড়ানো চুলে বা টাইপ সি চুলে ক্ষতির প্রবণতাও থাকে আর যেকোনো ধরনের চুলের সমস্যাও থাকে। কোঁকড়া চুলকে আমরা সোজা চুলে আনতে চাই। তখন ক্ষতিটা আরও বেশি হয়ে যায়। সেটাকে ঠিক করা খুব কঠিন হয়ে যায়। এটাও চুলের একটি সমস্যা।
** চুল পড়ার সমস্যায় কখন চিকিৎসকের কাছে যাওয়া প্রয়োজন?: যখন চুল পড়া শুরু হবে, আমি কারণগুলো যদি জানি, কী কী কারণে চুল পড়ে, তাহলে চিকিৎসা অনেকখানিই সহজ হয়।
আমি বুঝতে পারব কখন আমাকে চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে। আমি নিজেই এর কিছুটা সমাধান করতে পারব নিয়ন্ত্রিত জীবনযাপনের মাধ্যমে। বাবা-মা বা পরিবারের যদি কারও চুল পড়ার সমস্যা থাকে, সেটা পরবর্তী প্রজন্মেরও বেশি সমস্যা দেখা দেয়। এখানে হরমোনের কিছু বিষয় রয়েছে। একে আমরা অ্যান্ড্রোজেনিক অ্যালোপেসিয়া বলি। অ্যান্ডোজেনিক অ্যালোপেসিয়া মেল ও ফিমেল দুভাবেই হয়। এ ধরনের সমস্যা মনে হলে চিকিৎসকের কাছে আসতে হবে। খাদ্য তালিকায় পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব বিশেষ করে প্রোটিন, ভিটামিন ডি, আয়রন, ফলিক এসিড, অ্যামাইনো এসিড, বায়োটিন এসব উপাদানের ঘাটতি চুল পড়ার অন্যতম কারণ। যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে অনেক ধরনের স্টাইল করি, ব্যবহার করি হেয়ার ড্রাইয়ার, আয়রণ স্ট্রেইটনার, ক্ষতিকর কেমিক্যাল, আর্টিফিসিয়াল ডাই, যা শুধু হেয়ার ফলিকল ড্যামেজই করে না, চুলকে করে বিবর্ণ। খুশকি একটি প্রচলিত সমস্যা। খুশকি চুলের সৌন্দর্য নষ্ট করে এবং চুলকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। খুশকি কমবেশি হয় না এমন মানুষ সাধারণত পাওয়া মুশকিল। কারও কারও এ সমস্যা তীব্র হয়ে দাঁড়ায়।
** সমাধান: নিয়মিত চুল পরিষ্কার রাখা এবং আঁচড়ানো। ভেজা অবস্থায় আঁচড়ালে ছিঁড়ে যায়। উডেন কম্ব বা কাঠের চিড়ুনি ও মাইক্রোফাইবারযুক্ত তোয়ালে ব্যবহার করা উচিত। ছয় মাস পর চুলের চিড়ুনি পরিবর্তন করতে হবে। চুলে অবশ্যই মাইল্ড শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। আমাদের চুল মূলত কেরাটিন ও এক ধরনের প্রোটিন দিয়ে গঠিত। তাই নতুন চুল গজানোর জন্য অবশ্যই আপনার শরীরকে পর্যাপ্ত প্রোটিন সরবরাহ করতে হবে। সাধারণত মাছ, মাংস, দুধ, ডিম, ছোলা, ডাল, খেজুর, শিমের বিচি, মটরশুঁটি প্রোটিনের উৎস। খাবারের মাধ্যমে আমরা পর্যাপ্ত মাইক্রো ও ম্যাক্রনিটট্রিয়েন্ট পাই না। তখন অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী হেয়ার সাপ্লিমেন্ট নিতে হবে। বায়োটিন, প্যানটোনিক এসিড, ফলিক এসিড, এসেনশিয়াল এমাইনো এসিড, ভিটামিন ডি, জিংক চুলের জন্য আদর্শ সাপ্লিমেন্ট।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877