শনিবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৬, ১২:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
২ বছরের সম্পর্কের পর অনন্যা-ওয়াকার বিচ্ছেদ! বৃষ্টিবিঘ্নিত লর্ডসে শুরুতেই ৩ উইকেট হারিয়ে চাপে ইংল্যান্ড ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী’ থাকলে মন্দ হতো না : রুমিন ফারহানা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বপালনে সম্পূর্ণভাবে দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করব: রাষ্ট্রপতি নেপালে ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৭০ খুলনায় ভাড়া বাসায় মিলল অস্ত্রসহ একাধিক চেকবই, হেফাজতে স্বামী-স্ত্রী-ছেলে ১০ হাজার কনস্টেবল, ৪ হাজার এসআই ও ৪০০ সার্জেন্ট নিয়োগ করা হবে প্রস্তাব পেলে মক্কা প্যাক্টে যোগদানে ইতিবাচক থাকবে বাংলাদেশ: পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাম উপসর্গে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআইয়ের

হারাম উপার্জনকারীর ইবাদত কবুল হয় না

স্বদেশ ডেস্ক :
  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৬
  • ১৯২ বার

নশ্বর পৃথিবীতে জীবিকানির্বাহের জন্য উপার্জন করতে হয়। চাকরি-বাকরি, ব্যবসা-বাণিজ্য কিংবা কৃষি উৎপাদন ইত্যাদি মাধ্যমে মানুষ অর্থ ও খাদ্য উপার্জন করে থাকে। মানুষের উপার্জনকে উৎসাহিত করা হয়েছে ইসলামে। তবে সে উপার্জন হতে হবে হালাল ও বৈধ পন্থায়। হালাল বিষয় হালাল উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহও খুশি হন। পক্ষান্তরে হারাম জিনিস উপার্জন করলে কিংবা হালাল জিনিস অবৈধ উপায়ে উপার্জন করলে আল্লাহ নারাজ হন। হারাম সম্পদ ভক্ষণ করলে আল্লাহ ইবাদত ও দোয়া কবুল করেন না। অনেকে নামাজ রোজা হজ করছেন, আল্লাহর নিকট দোয়া করছেন; কিন্তু জীবনে কোনো বরকত নেই। অশান্তি লেগেই আছে। দোয়া কবুল হয় না। আল্লাহ তায়ালা পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘হে মানবজাতি। পৃথিবীতে যা কিছু বৈধ ও পবিত্র খাদ্যবস্তু রয়েছে, তা থেকে তোমরা আহার কর এবং শয়তানের পদাঙ্ক অনুসরণ করো না, নিশ্চয় সে তোমাদের প্রকাশ্যে শত্রু।’ (সুরা বাকারা : ১৬৮)। পবিত্র খাদ্য বস্তু মানে হালাল খাবার। সৎভাবে উপার্জিত অর্থের কেনা খাবার।

আল্লাহ তায়ালা আরও বলেন, ‘হে ইমানদাররা, তোমাদেরকে আমি যে সব পবিত্র বস্তু দিয়েছি, তা থেকে আহার করো এবং আল্লাহর নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করো, যদি তোমরা শুধু তারই ইবাদাত করে থাকো।’ (সুরা বাকারা : ১৭২)। আল্লাহ তায়ালা আরও ইরশাদ করেন, ‘নামাজ সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে (হালাল উপার্জনের জন্য) ছড়িয়ে পড়ো এবং আল্লাহর অনুগ্রহ তালাশ কর ও আল্লাহকে অধিক পরিমাণে স্মরণ কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।’ (সুরা জুমআ : ১০)। নামাজের পরই আল্লাহ তায়ালা হালাল জীবিকার সন্ধানে বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। অসৎ ও অবৈধ উপায়ে অর্জিত সম্পদের দান-সদকাও কবুল হয় না। হারাম ব্যবসা-বাণিজ্যের অর্থ-সম্পদের দ্বারা আল্লাহর নৈকট্য প্রত্যাশা করা যায় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘পবিত্রতা ছাড়া নামাজ আর চুরি ও আত্মসাতের সম্পদের সদকা কবুল হয় না।’ (মুসলিম)

দেহের যে অংশ হারাম মাল দ্বারা পালিত হয়েছে, তা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। হারাম পথের উপার্জন জাহান্নামে যাওয়ার পথকে সহজ করে দেবে। রাসুল (সা.) এরশাদ করেন, ‘যে বান্দা হারাম সম্পদ উপার্জন করে, যদিও সে সদকা করে, তা কবুল হবে না। আর যদি ব্যয় করে, তবে তাতে ও কোনো বরকত হবে না। আর যদি রেখে মারা যায়, তা জাহান্নামে যাওয়ার পাথেয় হবে। আল্লাহ তায়ালা মন্দ (কাজ) দ্বারা মন্দকে মিঠিয়ে দেন না, হ্যাঁ ভালো কাজ দ্বারা মন্দকে মিঠিয়ে দেন, নিঃসন্দেহে নাপাকীকে নাপাকী দূরীভূত করতে পারে না।’ (মুসনাদে আহমদ : ৩৬৭২)।

হারাম খাদ্য শরীরের প্রতিটি শিরা-উপশিরায় ঢুকে যায়। যার কারণে হারাম কিছু খেলে তার দোয়া আল্লাহর দরবারে কবুল হয় না। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন, ‘একজন মানুষ লম্বা পথ সফর করেছে, ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত। এরপর সে না ঘুমিয়ে রাতে নামাজ পড়ে এবং আল্লাহকে ডেকে ডেকে দোয়া করে—হে আল্লাহ! তুমি আমার গুনাহ মাফ করো। কিন্তু তার খাদ্য হারাম, পানীয় হারাম, কাপড়-চোপড় হারাম। তার সবকিছুই হারাম। সুতরাং ক্লান্ত-পরিশ্রান্ত শরীরে, না ঘুমিয়ে সে যত মনোযোগ সহকারেই দোয়া করুক না কেন, আল্লাহর দরবারে তা কবুল হবে না।’ (মেশকাত)। তাই উপার্জনের ক্ষেত্রে আমাদের সাবধান হতে হবে। হারাম থেকে বিরত থাকতে হবে।

লেখক: মাদ্রাসা শিক্ষক

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ