ভারতের অন্ধ্র প্রদেশের ভিশাখাপন্তনম শহরে স্থানীয় এক ক্রিকেট ম্যাচে রান আউটের সিদ্ধান্ত নিয়ে বিরোধের জেরে ২১ বছর বয়সী এক আম্পায়ারকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত রোববার সন্ধ্যায় একটি স্থানীয় মাঠে এই ঘটনা ঘটে, যেখানে তিনটি দল অংশ নিয়েছিল।
নিহত দোলা অজিত বাবু তার বন্ধু বুদুমুরি চিরঞ্জীবীর সঙ্গে ম্যাচ পরিচালনা করছিলেন। খেলার সময় এক রান আউটের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে দুই এলাকার খেলোয়াড়দের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক শুরু হয়।
পুলিশ কর্মকর্তা মাল্লেশ্বর রাও জানান, ‘অজিত বাবু ও চিরঞ্জীবী মাঠেই বিষয়টি মীমাংসা করেন। কিন্তু দর্শকদের মধ্যে থাকা কান্তা কিশোর নামের একজন ক্ষিপ্ত হয়ে আম্পায়ার ও খেলোয়াড়দের গালাগালি শুরু করেন।’
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ২৬ বছর বয়সী অভিযুক্ত কান্তা কিশোর পরে আম্পায়ারদের ‘বিষয়টি মিটমাট করার’ কথা বলে ডেকে পাঠান। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর অজিত বাবু, চিরঞ্জীবী ও তাদের কয়েকজন বন্ধু কাছাকাছি একটি স্থানে যান।
সেখানে পৌঁছানোর পর আবারও তর্ক শুরু হয়। এক পর্যায়ে কিশোর হঠাৎ একটি ছুরি বের করে দুই আম্পায়ারের ওপর হামলা চালান। এতে অজিত বাবুর বুকে গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন। চিরঞ্জীবী পালানোর চেষ্টা করলে তিনিও আহত হন। আরেকজন ব্যক্তি তাদের বাঁচাতে গিয়ে আহত হন।
আহতদের প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অজিত বাবুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। তবে চিকিৎসাধীন অবস্থায় চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের ভাই অভিযোগ করেন, এক রান নিয়ে তর্কের জেরেই এই হামলার ঘটনা ঘটে। তিনি জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি খেলোয়াড় ছিলেন না, পাশের এলাকার বাসিন্দা। তিনি তর্কে জড়িয়ে পড়ে গালাগালি করেন এবং পরে মদ্যপ অবস্থায় পরিকল্পিতভাবে হামলা চালান।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ‘এক রান নিয়ে তর্ক হয়েছিল, যা পরে স্থানীয় প্রবীণরা মিটিয়ে দেন। কিন্তু সন্ধ্যায় অভিযুক্ত ব্যক্তি ছুরি নিয়ে এসে আবার ডেকে নিয়ে অজিতকে বুকে আঘাত করে। আমরা তাকে ধরার চেষ্টা করলেও সে পালিয়ে যায়।’
অজিত বাবুর বাবা দোলা আপ্পালা রাজুর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ হত্যা মামলা দায়ের করেছে এবং অভিযুক্তকে ধরতে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।