জুলাই আন্দোলনে ঢাকার আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে জনৈক আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা দুই দিনের রিমান্ড আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দিয়েছেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন এই রিমান্ড আবেদন করেন।
এর আগে আজ দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটের দিকে শিরীন শারমিন চৌধুরীকে আদালতে হাজির করে ঢাকার সিএমএম আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। বেলা ৩টা ২০ মিনিটের দিকে তাকে এজলাসে তোলা হয়।
কারাগারে আটক রাখার আবেদনে বলা হয়, ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা ও ৩ নম্বর আসামি শিরিন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যান্য আসামিরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে কুশীলব ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে অস্ত্র মামলার ঘটনা ঘটেছে মর্মে জানা যায়। আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার নাম-ঠিকানা এবং মামলার তদন্ত সহায়ক গুরত্বপূর্ণ তথ্যাদি প্রদান করেন। তার দেওয়া তথ্য মামলা তদন্তে সহায়ক হবে। প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আসামি জামিনে মুক্তি পেলে চিরতরে পলাতক হওয়াসহ মামলা তদন্তে বিঘ্ন ঘটানোর সম্ভাবনা রয়েছে। এমতাবস্থায় মামলার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা প্রয়োজন।
এর আগে আজ ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে লালবাগের আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলনকারী আন্দোলন করছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি।
এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাতনামা ১১৫/১২০ জনকে আসামি করে মামলা করেন আশরাফুল।