শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ০৯:৪৬ পূর্বাহ্ন

ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে হাত দেন অধ্যক্ষ

ক্লাস থেকে ডেকে নিয়ে নুসরাতের গায়ে হাত দেন অধ্যক্ষ

স্বদেশ ডেস্ক: মাদ্রাসার পিয়নকে দিয়ে নুসরাতকে অধ্যক্ষ তার রুমে ডেকে নিয়ে যান। তখন নুসরাত সহপাঠী নিশাত ও ফুর্তিকে ডেকে নিয়ে যান। পরে নুসরাত কান্না করতে করতে ক্লাসে ঢোকেন। সন্ধ্যায় ফুর্তির সাথে ইমোতে কথা বলে জানতে পারেন অধ্যক্ষ সিরাজ নুসরাতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়েছেন।

আদালতে জবানবন্দিতে এসব তথ্য জানান সাক্ষী ও নুসরাতের সহপাঠী তানজিনা বেগম সাথী। গতকাল মঙ্গলবার ১৪তম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরাকালে এসব তথ্য জানান তিনি। ফেনীর আলোচিত মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গতকাল তিন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।

তারা হলেন সোনাগাজী ফাজিল মাদ্রাসার পরীক্ষার কেন্দ্র সচিব মাওলানা নুরুল আফসার ফারুকী, সোনাগাজী মাদ্রাসার ছাত্রী তানজিনা বেগম সাথী ও মাদ্রাসাছাত্রী বিবি জাহেদা বেগম তামান্না। মামলার বাদীপক্ষের আইনজীবী শাহজাহান সাজু জানান, তানজিনা বেগম সাথী তার জবানবন্দিতে বলেছেন, ‘মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিনকে দিয়ে নুসরাতকে অধ্যক্ষ তার রুমে ডেকে নিয়ে যান।

তখন নুসরাত সহপাঠী নিশাত ও ফুর্তিকে ডেকে নিয়ে যান। পরে নুসরাত কান্না করতে করতে ক্লাসে ঢোকেন। তার কিছুক্ষণ পর অধ্যক্ষ সিরাজ ক্লাসে বেত নিয়ে ঢোকেন এবং সব ছাত্রছাত্রীকে বলেন নুসরাতের মাথাব্যথা করছে। সে আমার কাছে ছুটির জন্য গিয়েছে। নুসরাতের ছুটি নিয়ে বাড়িতে চলে যাবে। এর পর নুসরাতের ভাই এসে তাকে নিয়ে যান। পরে সন্ধ্যায় ফুর্তির সঙ্গে ইমোতে কথা বলে জানতে পারি হুজুর তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়েছেন।’

বিবি জাহেদা বেগম তামান্না তার জবানবন্দি বলেছেন, ৩০ মার্চ আলিম পরীক্ষার প্রবেশপত্রের জন্য মাদ্রাসায় গেলে নুর উদ্দিন ও শামীমসহ অন্যরা হুজুরের (অধ্যক্ষ সিরাজ) মুক্তির জন্য মানববন্ধনে নিয়ে যায়। ১ এপ্রিল পরীক্ষার দিন নুসরাতের সঙ্গে দেখা হলে তাকে জিজ্ঞেস করছিলাম হুজুর কী করেছেন? উত্তরে নুসরাত বলেছেন, নাটক করিস ক্যান? তোরা জানোস না হুজুর কী করেছে? তখন নুসরাত কিছু একটা বলতে চাইলে তার ভাই নোমান এসে নিয়ে যান।

তার কয়েক দিন পর ফেসবুকের মাধ্যমে জানতে পারি নুসরাত আমাকে ও আমার বোন সাথীকে উদ্দেশ করে চিঠি লিখে গেছে। সে চিঠিতে ২৭ মার্চের ঘটনার বর্ণনা দিয়েছে নুসরাত। তিনি আরও জানান, আগামীকাল (আজ বুধবার) আরও ৪ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তারা হলেন মাদ্রাসার বাংলা বিভাগের প্রভাষক খুজিস্তা খানম, আয়া বেবী রাণী দাস, সহপাঠী আকলিমা আক্তার ও কায়সার মাহমুদ।

এ মামলার ৯২ সাক্ষীর মধ্যে এখন পর্যন্ত ২১ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। গত ২৭ জুন থেকে এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ কার্যক্রম শুরু হয়। শুরুর পর থেকে প্রতি কর্মদিবসে আদালত সাক্ষ্যগ্রহণ চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে গত ২৭ জুন মামলার বাদী ও প্রথম সাক্ষী নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়।

পরে রাফির বান্ধবী নিশাত সুলতানা ও সহপাঠী নাসরিন সুলতানা, মাদ্রাসার পিয়ন নুরুল আমিন, নৈশ প্রহরী মো. মোস্তফা, কেরোসিন বিক্রেতা লোকমান হোসেন লিটন, বোরকা দোকানদার জসিম উদ্দিন, দোকানের কর্মচারী হেলাল উদ্দিন ফরহাদ, নুসরাতের ছোট ভাই রাশেদুল হাসান রায়হান, জহিরুল ইসলাম, হল পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন, নুসরাতের মা শিরিন আখতার ও শিক্ষক আবুল খায়ের, মাদ্রাসার পরিচালনা কমিটি সাবেক সদস্য শেখ আবদুল হালিম মামুন ও সোনাগাজী মাদ্রাসার দপ্তরি মো. ইউসুফ, সোনাগাজী মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হোসাইন, সোনাগাজী পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. ইয়াছিন ও অ্যাম্বুলেন্স চালক নুরুল করিমের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষ হয়।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফিকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ৬ এপ্রিল ওই মাদ্রাসা কেন্দ্রের সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে অধ্যক্ষের সহযোগীরা নুসরাতের শরীরে আগুন ধরিয়ে দেয়। টানা পাঁচ দিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়ে ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত জাহান রাফি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877