শনিবার, ১৩ Jul ২০২৪, ০৯:২৭ অপরাহ্ন

জিতেও বাংলাদেশের সাথে বিদায় নিলো পাকিস্তান

জিতেও বাংলাদেশের সাথে বিদায় নিলো পাকিস্তান

স্পোর্টস ডেস্ক: দু’দলের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশকে ৯৪ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়ে ‘শুভ বিদায়’ নিলো পাকিস্তান। অন্য দিকে শেষটা ভালো হলো না টাইগারদের। তবে একসাথে ২০১৯ বিশ্বকাপ আসর শেষ করল দুই দল। পাকিস্তানের দেয়া ৩১৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে ৪৪.১ ওভারে সবকটি উইকেট হারিয়ে ২২১ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয় বাংলাদেম। দলের হয়ে সর্বোচ্চ (৬৪) রান আসে সাকিব আল হাসানের ব্যাট থেকে।

বিশ্বকাপের ৪৩তম ম্যাচটি ছিলো পাকিস্তানের জন্য অসম্ভব এক গন্তব্যহীন স্বপ্নযাত্রার মতো। এই ম্যাচে বিস্ময়কর কিছু দেখিয়ে তাদের সামনে সুযোগ ছিলো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা করে নেয়ারও। কিন্তু বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে সেই অসম্ভবকে সম্ভব করার মতো কোনো মানসিকতা দেখা যায়নি পাকিস্তানী ব্যাটসম্যানদের।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করে ইমাম উল হকের (১০০) ও বাবার আাজমের (৯৪) রানের ওপর ভর করে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ৩১৫ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান।

প্রথমে ব্যাট করার পর পাকিস্তানের সামনে সমীকরণ দাঁড়ায় বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে যেতে হলে বাংলাদেশকে ৭ রানে অলআউট করতে হবে । ৮ রান করলেই শেষ সেমির স্বপ্ন। এটি যে নিঃসন্দেহে অসাধ্য তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পাকিস্তান বাংলাদেশের প্রথম উইকেট শিকার করে ২৬ রানে। আর তাতে শেষ চারে ওঠা হলো না সারফরাজ বাহিনীর।

হোম অব ক্রিকেট খ্যাত লন্ডনের লর্ডসে (বাংলাদেশ সময়) বিকেল সাড়ে তিনটায় প্রথম পর্বে দু’দলের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয় পাকিস্তান ও বাংলাদেশ। টস জিতে প্রথমে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তানের অধিনায়ক সারফরাজ আহমেদ। বিশ্বকাপের মঞ্চে অধিনায়ক হিসেবে শেষ টস করেন মাশরাফির।

সেমিফা্‌ইনালের অসম্ভাবনীয় আশা ও দলের জয়ে বড় পুঁজি জমা করতে নেমে শুরুতেই স্কো্র বোর্ডে ২৩ রান জমা করতেই ফখর জামানের উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ সাইফউদ্দিনের তৃতীয় ওভারে অপ স্ট্যাম্পের বাইরের বল ফুল করতে গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো ফিল্ডার মেহেদি হাসান মিরাজের তালুবন্দীতে ব্যক্তিগত ১৩ রান করে ফেরেন ফখর।

দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে বাবার আজম ও ইমাম উল হকের ১৫৭ রানের জুটি পাকিস্তানকে চালকের আসনে নিয়ে যায়। ইনিংসের ৩২তম ওভারে বাবর আজমকে দারুণ এক এলবিডব্লিউর ফাঁদে ফেলে দ্বিতীয় শিকার করে দলকে ব্রেক থ্রো এনে দেন সাইফ। ৯৮ বলে ১১ চারে ৯৬ রানের সেঞ্চুরি বঞ্চিত ইনিংস খেলেন বাবর। তৃতীয় উইকেটে মোহাম্মদ হাফিজকে সঙ্গে নিয়ে ৬৬ রানের জুটি গড়েন ইমাম।

দেখে শুনে খেলে বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী লর্ডস স্টেডিয়ামে ওপেনার ইমাম উল হক তুলে নেন ক্যারিয়ারের সপ্তম ও বিশ্বকাপের প্রথম সেঞ্চুরি। বিশ্বকাপের মঞ্চে এর আগে কোনো পাকিস্তানি দু’টি সেঞ্চুরির দেখা পাননি। ১৯৯২ বিশ্বকাপে একটি করে সেঞ্চুরি করেছিলেন রমিজ রাজা ও আমির সোহেল। ২০১৯ বিশ্বকাপে একই কাজটি করেছেন বাবর আজম ও ইমাম। বাবর সেঞ্চুরি পেয়েছিলেন নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

২ উইকেটে ২৪৬ করে রানের পাহাড় গড়ার স্বপ্ন দেখিয়ে ছিলেন ইমাম-উল-হক ও বাবর আজমরা। এরপর মাত্র ৯ রানের ব্যবধানে ৩ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

মোস্তাফিজুর রহমানের বলে সিঙ্গেল রান নেয়ার মধ্য দিয়ে ৯৯ বলে বিশ্বকাপে প্রথম সেঞ্চুরির মাইলফলক স্পর্শ করেন ইমাম -উল হক। তার বিদায়ের ঠিক দুই রানের ব্যবধানে ফেরেন মোহাম্মদ হাফিজ। তিনি মেহেদী হাসান মিরাজের অফ স্পিনে বিভ্রান্ত হন। সাজঘরে ফেরার আগে ২৫ বলে তিনটি বাউন্ডারিতে ২৭ রান করেন হাফিজ।

পাঁচ নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে সুবিধা করতে পারেননি হারিস সোহেল। কাটার মাস্টার মোস্তাফিজের বলে বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন হারিস। তার বিদায়ের মধ্য দিয়ে ৪৩.৫ ওভারে ২৫৫ রানে ৫ উইকেট হারায় পাকিস্তান।

এরপর রিটায়ার্ড হার্ট হয়ে ফেরেন পাকিস্তান অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। সাইফউদ্দিনের অসাধারণ ইয়র্কারে স্ট্যাম্প ভেঙে যায় ওয়াহাব রিয়াজের। মোস্তাফিজের বলে তার অসাধারণ ক্যাচে পরিণত হন শাদাব খান। ব্যাটসম্যানদের এই আসা-যাওয়ার মধ্যেই ইনিংনের শেষ দিকে ব্যাটিং তাণ্ডব চালান ইমাদ ওয়াসিম। তার ২৬ বলের ৪৩ রানের সুবাদে ৩১৫ রান করে পাকিস্তান।

বাংলাদেশী বোলারদের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান ৫টি সাইফউদ্দিন ৩টি ও মেহেদি হাসান একটি উইকেট শিকার করেন।

পাকিস্তানের দেয়া ৩১৬ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা বেশ ভালেঅ হয়নি বাংলাদেশের। দলীয় স্কোর বোর্ডে ২৬ রান জমা হাতেই ওপেনার মোহাম্মদ আমিরের বলে ফখর জামানের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার সৌম্য সরকার। ২২ বলে ৪ চারে ২২ রান করেন সৌম্য।

ওয়ানডাউনে সাকিব আল হাসানকে সঙ্গে নিয়ে দেখে-শুনে দলের চাপ সামলানোর চেষ্টা করেন ডিপেন্সিভ ব্যাট করা তামিম। কিন্তু দলের ৪৮ রানের মাথায় শাহিন আফ্রিদির বলে বোল্ড হয়ে প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি। ২১ বলে ৮ রান করেন তামিম।

চ্যালেঞ্জিং লক্ষ্য পাড়ি দিতে নেমে দুই ওপেনারের ব্যর্থতায় চাপে পড়ে যায় বাংলাদেশ। ৪৮ রানে দুই ওপেনারকে হারানোর পর ৭৮ রানের মাথায় মুশফিকুর রহিম ব্যক্তিগত ১৬ রান করে ওয়াহাব রিয়াজের বলে বোল্ড হয়ে ফিরলে আরো চাপে পড়ে যায় টাইগাররা।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে লিটন দাসকে নিয়ে বিপর্যয় কাটানোর চেষ্টা করেন সাকিব। দুজনে ছোট-খাটো একটি জুটিও গড়েন।

১৩৬ রানের মাথায় শাহিন আফ্রিদির স্লো বলে শর্ট খেলতে গিয়ে কভার পয়েন্টে ফিল্ডিং করা হারিস সোহেলের তালুবন্দী হয়ে ফেরেন লিটন। ৪০ বলে ৩২ রান আসে লিটনের ব্যাট থেকে।

বিশ্বকাপে রানের ফুলকি ছুটানো সাকিব আল হাসান দেখে শুনে খেলে ৬২ বলে তুলে নেন আসরের পঞ্চম ফিফটি। ৯ ইনিংসের দুটিতে করেছেন সেঞ্চুরি । এক বিশ্বকাপে এর আগে সাত ইনিংসে পঞ্চাশোর্ধ্ব রান শুধু শচীন টেন্ডুলকারের ছিল। ফিফটি হাঁকিয়ে বেশিদূর যেতে পারেননি সাকিবও। ৭৭ বলে ৬ চারে ৬৪ রান করে আফ্রিদির বলে সরফরাজকে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি।

সাকিব ফিরে গেলে আর কোনো ব্যাটসম্যান ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তানী বোলারদের সামনে। শেষ দিকে মাহমুদুল্লাহ রিয়াদের ২৯, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের ১৬ ও মাশরাফির ১৫ রানে শুধু হারের ব্যবধান কমাতে সাহায্য করেছে বাংলাদেশকে। সবকটি উইকেট হারিয়ে ৪৪.১ ওভারে ২২১ রানে থেমে যায় টাইগারদের ইনিংস।

পাকিস্তানী বোলারদের মধ্যে শাহিন শাহ আফ্রিদি ৬টি, শাদাব খান ২টি, মোহাম্মদ আমির, ওয়াহাব রিয়াজ ও একটি করে উইকেট শিকার করেন।

বল হাতে ৯.১ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ছয় উইকেট নিয়ে ম্যান অব দ্য ম্যাচ নির্বাচিত হন পাকিস্তানী পেসার শাহিন আফ্রিদি।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877