বুধবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৭:০১ অপরাহ্ন

রোহিঙ্গা ইস্যু : বাংলাদেশের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে

রোহিঙ্গা ইস্যু : বাংলাদেশের সমস্যা দিন দিন বাড়ছে

ড. মো. হুমায়ুন কবীর:
বিশ্ব শরণার্থী দিবস উপলক্ষে ইউএনএইচসিআর জেনেভায় ‘গ্লোবাল ট্রেড’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সারা বিশ্বেই শরণার্থী এখন একটি বড়ো সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। তবে এ সমস্যা কোনো উন্নত দেশকে বহন করতে হয় না। করতে হয় অনুন্নত, উন্নয়নশীল এবং বাংলাদেশের মতো দেশকে। যুদ্ধ, নিপীড়ন এবং সংঘাতের কারণেই সৃষ্টি হয় এমন শরণার্থী। শরণার্থী হওয়ার মূল কারণ হলো বাড়িঘর ছাড়া অর্থাৎ বাস্তুচ্যুত হওয়া।
শরণার্থী বাড়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে নতুন করে যুদ্ধ আর সংঘাত বাড়ছে যা পূর্বের সমস্যা সমাধান না করেই নতুন নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়ে চলেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৮ সালে গৃহহীন মানুষের সংখ্যা সাত কোটি আশি লাখে পৌঁছেছে যা ২০১৭ সালের তুলনায় দুই কোটি ত্রিশ লাখ বেশি। আতঙ্কের বিষয় হলোপ্রতিদিন গড়ে ৩৭ হাজার লোক শরণার্থীর তালিকায় যুক্ত হচ্ছে। আরো একটি সমস্যার বিষয় হলোযে হারে শরণার্থী বাড়ছে তা আর আশানুরূপভাবে কমছে না।
প্রতিবেদন অনুযায়ী শরণার্থীদের তিনভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রথম দলে যুদ্ধ, সংঘাত বা নির্যাতন থেকে বাঁচতে বাড়িঘর ছেড়ে যাওয়া মানুষকে বোঝানো হয়েছে। ২০১৮ সালে এ ধরনের মানুষের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ৫৯ লাখ। দ্বিতীয় দলে আছে আশ্রয় প্রার্থীরা। যারা নিজেদের জন্মভূমি ছেড়ে নানা দেশে আশ্রয় প্রার্থনা করেছে। তাঁদের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ। তৃতীয় দলে আছেন সেইসব গৃহহীন মানুষ যারা বাস্তুচ্যুত হয়ে নিজ নিজ দেশের ভেতরেই আশ্রয় নিয়ে আছেন। বিশ্বজুড়ে এ সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি যেখানে প্রায় চার কোটি ১৩ লাখ শরণার্থী রয়েছে এ ভাগে।
বিশ্বজুড়ে এসব শরণার্থীর দুই-তৃতীয়াংশই সিরিয়া, আফগানিস্তান, দক্ষিণ সুদান, মিয়ানমার ও সোমালিয়া থেকে এসেছেন। তার মধ্যে সিরিয়ার সংখ্যাই বেশি। তাছাড়াও বিশ্বে অন্যান্য যেসব দেশে শরণার্থী সমস্যা হিসেবে বিরাজ করছে তার মধ্যে রয়েছেভেনিজুয়েলা, ফিলিস্তিন, ইরাক, ইয়েমেন এবং সাব-সাহারান কয়েকটি আফ্রিকান দেশ। এখানে বাংলাদেশের বিষয়টি সম্পূর্ণ অন্যমাত্রার। কারণ এখানকার রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে তো সমস্যা সৃষ্টি করছেই, তাঁরা বাংলাদেশের নাম ব্যবহার করে দেশের পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশেও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার কাজে লিপ্ত রয়েছে।
এ রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের অন্যতম পর্যটন নগরী কক্সবাজার, টেকনাফ, উখিয়া, মেরিন ড্রাইভ এলাকাসহ আশপাশের এলাকাগুলোতে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটিয়ে চলেছে। তারা জড়িত হচ্ছে মাদক ব্যবসায়, জড়িত হচ্ছে সন্ত্রাসী কার্যক্রমে, কাজ করছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের লাঠিয়াল হিসেবে, সরকার বিরোধী কার্যক্রমে জড়িত করছে সুবিধাবাদীরা, এমনকি জঙ্গি কার্যক্রমের মতো সংবেদনশীল দেশ ও সমাজ বিরোধী কার্যক্রমে জড়িয়ে যাওয়ার খবরও গণমাধ্যমে প্রকাশ পাচ্ছে। তাছাড়া তাদের সংখ্যা অতিদ্রুত বাড়ছে, কারণ জানা গেছে তারা নাকি জন্ম নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষেত্রে অনীহা দেখাচ্ছেন। যার কারণে বিগত একবছরে প্রায় ৩৫ হাজার নতুন শিশু জন্মগ্রহণ করেছে বলে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যান প্রতিবেদন থেকে প্রকাশ পেয়েছে। এসব বিষয় সম্পর্কে সরকার এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় তত্পর রয়েছে বলে খবর প্রকাশ পাচ্ছে। কাজেই এসব বিষয়ে নজর রেখেই সামনের দিনগুলোতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষক ও বিশ্লেষকগণ।

দয়া করে নিউজটি শেয়ার করুন..

© All rights reserved © 2019 shawdeshnews.Com
Design & Developed BY ThemesBazar.Com
themebashawdesh4547877